প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রশ্নফাঁসের কবল থেকে জাতিকে উদ্ধার

মো. আরিফুর রহমান : প্রশ্নফাঁস একটি কলঙ্ক। এই কলঙ্কের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় অবস্থান চাই সচেতন অভিভাবকের। কারণ, প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষার পূর্বে প্রশ্ন হাতে পাওয়ার সুযোগ একজন শিক্ষার্থীর জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে। যে পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হয়, সে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে গর্ব করার কিছু নেই। বরং লজ্জিত হওয়ার অনেককিছুই আছে। জাতিকে মেধাশূণ্য করার এটি এক ঘৃণ্য উপায়। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়ন করা যায় না। লেখাপড়া করেও অনেক শিক্ষার্থী ভাল ফলাফল থেকে বঞ্চিত হয়। আবার আপাতদৃষ্টিতে কেউ ভাল ফলাফল লাভ করলেও তা নিয়ে গর্ব করা যায় না। বরং সারাজীবন একটা অপরাধবোধ কাজ করে ওই শিক্ষার্থীর মধ্যে। মনে রাখতে হবে, চুরি করে সেরা হওয়া যায় না।

আমাদের সমাজে প্রশ্নফাঁস এক মহামারি রূপ ধারণ করেছে। এই কুপথে যারা সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে দিয়ে তাদের সোনালী ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে এবং নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে তাদেরকে পুলিশে দেয়া উচিত। যেসব প্রতিষ্ঠান এই অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে চিহিৃত করে বন্ধ করে দেয়া উচিত। প্রশ্নফাঁসকারী চক্রটিকে সামাজিকভাবে বয়কট করা উচিত। এব্যাপারে সচেতন অভিভাবকদের কথা বলা উচিত। যেসব অতি উৎসাহী অভিভাবক টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন চান, তাদের সাথেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। কারণ, যে লোক জেনেশুনে তার ছেলের ক্ষতি করতে পারে, সে লোক যে কোন সময় আপনার মহাক্ষতি করে ফেলতে পারে। সুতরাং তার সাথে বন্ধুত্ব নিরাপদ নয়।

একটা বৃত্তি বা এ প্লাসের লোভে কেন আপনি আপনার ছেলে বা মেয়ের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন? একবার পরীক্ষার পূর্বে প্রশ্ন হাতে পাওয়ার সুযোগ পেলে সে তার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। পড়তে চাইবে না। একসময় সে লেখাপড়া থেকে ছিটকে পড়বে। লেখাপড়া থেকে সে ছিটকে না পড়লেও প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত কোন প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার কারণে সারা জীবন তাকে এই কলঙ্কের বোঝা বহন করতে হবে। ভেবে দেখুন আপনার সোনামানিককে আপনি কোথায় ভর্তি করছেন? এখন ভর্তির সময়। আপনার সন্তানের সোনালী ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দু’চারটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন, তাকে কোথায় দিবেন, এমনকি তাকে কোন কলঙ্কময় প্রতিষ্ঠানে রাখবেন কি-না? আপনার বিবেককে জিজ্ঞেস করে সিদ্ধান্ত নিন। বিবেকের শক্তিতে জ্বলে উঠুন। অন্যদের জাগিয়ে দিন।

লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত