প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চোরের মায়ের বড় গলা!

রবিন আকরাম : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক নির্মূল অভিযানে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা মাদক গডফাদার আব্দুর রহমান বদি। তাকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। অথচ তার বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

গত এক দশক ধরে বদিকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে সরকারী সকল সংস্থার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকা। সরকারী সকল সংস্থাও গোয়েন্দা প্রতিবেদন দিয়েছে এমপি বদির বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালে সরকারি এক তালিকায় বদির নাম উঠে আসে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ওই তালিকায় বলা হয়েছে,আব্দুর রহমান বদির ছত্রছায়ায় আরো অনেকে ইয়াবা ব্যবসা করছেন। এমনকি ২০১৫ সালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা টেকনাফের শীর্ষ ৭৯ মানব পাচারকারীর তালিকায়ও তার নাম ছিল এক নম্বরে।

দেশে মাদক ইয়াবার গডফাদার ও ব্যবসায়ীর তালিকায় টানা ১০ বছর ধরে ছিল বদির নাম। কিন্তু গত মার্চ মাসে একটি সংস্থার তালিকা থেকে সেই নাম বাদ দেওয়া হয়। তবে সেই তালিকায় বদির পাঁচ ভাই, এক ফুপাতো ভাই, দুই বেয়াই ও এক ভাগ্নের নাম আছে।

এদিকে ইয়াবার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠার শুরু থেকে সরকার দলীয় এ সংসদ সদস্য বারবার ইয়াবার সাথে তিনি কোনভাবেই জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। দাবি করেছেন এটি তার ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার ষড়যন্ত্র।

এক টক শোতে টেলিফোনে যুক্ত হয়ে বদি বলেছেন, আমি উখিয়া ও টেকনাফের জনপ্রতিনিধি। আমার এলাকার মানুষ জানে আমি জীবনে কোনদিন একটা সিগারেট খাইনি, গাঁজা খাইনি, মদ খাইনি, পান খাইনি আমার চরিত্র সম্পর্কে তারাই ভালো জানে।

তিনি আরো বলেন, আমি কিছুদিন আগেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর একটি বক্তব্য দিয়েছি, বাংলাদেশের কোন মিডিয়া, কোন সাংবাদিক এবং প্রশাসনের কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে কিঞ্চিৎ পরিমাণ মাদকের সাথে সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারে সংসদ থেকে পদত্যাগ করব।

“অভিযোগ থাকলেও কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে, আমি ইয়াবা বা অন্য কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কিছু মিডিয়াও ইয়াবা ব্যবসা করছে। সাংবাদিকরাও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমি যখন মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেই, তখনই মিডিয়ারা সিন্ডিকেট করে আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এ কারণে সংসদে আমি চ্যালেঞ্জ করে বক্তব্য দিয়েছি।”

ক্রসফায়ার নিয়ে বদি বলেছেন, ক্রসফায়ার আরও আগে শুরু হওয়া উচিত ছিল। মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। এ জন্য আমাদের সবারই সহযোগিতা করা প্রয়োজন। যুব সমাজকে বাঁচাতে এটা অপরিহার্য।

অন্যদিকে, বিভিন্ন মন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন মাদকবিরোধী অভিযানে যে যত বড় নেতাই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। অথচ এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত