প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতীয় নারীর নামে গর্ভপাত আইন করার দাবি আয়ারল্যান্ডে

ডেস্ক রিপোর্ট : আয়ারল্যান্ডে আইনসিদ্ধ হতে চলেছে গর্ভপাত। নতুন এ আইনের নাম মৃত এক ভারতীয় নারীর নামেই করার দাবি উঠেছে।

আয়ারল্যান্ডে গর্ভপাত বিরোধী আইনের ফাঁদে পড়ে যে নারীর মৃত্যু হয়েছিল, যাকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল গণআন্দোলন; তার নাম সবিতা হলপ্পনবার।

তার মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল আয়ারল্যান্ডের মানুষকে। গর্ভপাত বিরোধী আইন শিথিল করার দাবিতে পথে নেমেছিল তারা। আয়ারল্যান্ডের গণভোটে এখন তাদের জয় হয়েছে।

কিন্তু আইন পাস হওয়া এখনো বাকি। পার্লামেন্টের উচ্চ ও নিম্নকক্ষে বিল পাস হওয়ার পরই বৈধ হবে গর্ভপাত। দ্রুত সেই আইনি স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে মৃত মেয়ে সবিতার নামেই নতুন আইনের নামকরণ করার দাবি জানিয়েছেন তার বাবা আন্দানাপ্পা ইয়ালগি।

সবিতা হলপ্পনবার পেশায় একজন দন্তচিকিৎসক ছিলেন। স্বামীরসঙ্গে আয়ারল্যান্ডে থাকতেন তিনি। ২০১২ সালে অন্তঃসত্বা সবিতা মিসক্যারিজের পর ইনফেকনে ভুগে মারা যান।

মিসক্যারিজের সময় তার প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের পক্ষ থেকে গর্ভপাতের আবেদন করা হলেও আইনি বাধা থাকায় আইরিশ চিকিৎসকরা তাতে রাজি হননি। কয়েক দিনের দুর্বিসহ যন্ত্রণা ভোগ করে শেষ পর্যন্ত রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় মারা যান ৩১ বছর বয়সী সবিতা।

তবে তার মৃত্যু বৃথা যায়নি। শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডে গর্ভপাত আইন সংস্কার হচ্ছে। আর তাই নতুন এ আইন সবিতার নামে উৎসর্গ করে এর নাম ‘সবিতা ল’ করার দাবি উঠেছে।

২০১২ সালের অক্টোবরে সবিতার মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পর গত শুক্রবার আয়ারল্যান্ডে গর্ভপাতের স্বাধীনতার পক্ষে এক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করেছে। শনিবার রায় ঘোষণার দিন গর্ভপাতের স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনকে ‘সবিতা’ ‘সবিতা’ বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

রক্ষণশীল আয়ারল্যান্ডের সংবিধানে মায়ের গর্ভে থাকা ভ্রুণকেও জীবিত মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে ‍হিসেবে একজন মানুষের যেমন বেঁচে থাকার অধিকার আছে তেমনি একটি ভ্রুণও একই অধিকার রাখে।

মিসক্যারিজ হলেও সবিতার ভ্রুণের হৃদস্পন্দন পাওয়া যাচ্ছিল বলে আয়ারল্যান্ডের গালওয়ের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার গর্ভপাত করাননি।

গণভোটে জয়লাভের পর সবিতার মা বলেন, এটি তার প্রয়াত মেয়ের ‘জয়’। তিনি বলেন, “এটি ছয় বছরের যুদ্ধ এবং সে যুদ্ধে জয়লাভ করেছে। তার আত্মা এখন শান্তি পাবে। যারা আমার মেয়ের জন্য এ যুদ্ধ করেছে তাদের ধন্যবাদ।”

গণভোটে রায়ের পর অনেক মানুষকে সবিতার নামে তৈরি স্মারকে ফুল ও হাতে লেখা চিঠি দিতে দেখা গেছে। সেখানে একটি চিঠিতে লেখা ছিল, “অনেক দেরি করে ফেলার জন্য আমরা দুঃখিত। কিন্তু আমরা আজ এখানে পৌঁছতে পেরেছি, আমরা তোমাকে ভুলে যাইনি।”

সবিতার মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে সবিতার স্বামী প্রবীণ হলপ্পনবার বলেছিলেন, হাসপাতালকর্মীরা তার স্ত্রীর গর্ভপাতের আবেদনে সড়াতো দেয়ইনি বরং তাকে বলেছে ‘আয়ারল্যান্ড একটি ক্যাথলিক দেশ’।

ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মে গর্ভপাত নিষিদ্ধ। পরে মিডওয়াইফ অ্যান মারিয়া এজন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আয়ারল্যান্ডের নন এমন একজনকে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে তিনি ভুল করেছেন।

হাসপাতালে ভর্তির প্রথম তিনদিনের মধ্যে গর্ভপাত করা হলে হয়ত সবিতা বেঁচে যেতেন বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

সূত্র : বিডিনিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত