প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আতঙ্কে জেনেভা ক্যাম্প বাসিন্দারা
‘বাথরুমে যাবার পথে বাবাকে ওরা ইয়াবা দিয়ে মামলা দিয়েছে’

সুশান্ত সাহা : রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে র‌্যাবের অভিযানের পর থেকে আতঙ্কে জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দারা। ক্যাম্প প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। দিনে থাকলেও অনেক পরিবার আটক আতঙ্কে ক্যাম্পের বাহিরে থাকছেন।

এদিকে ভুক্তভোগি পরিবারের অভিযোগ নিরাপরাধ মানুষকে ধরে নিয়ে সাজা ও মামলা দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পের বাজারের কিছু দোকান খোলা থাকলেও অধিকাংশ দোকান বন্ধ। দোকানের বেশিরভাগ কর্মচারি আটক হওয়ায় মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সোমবার সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ক্যাম্পের ভেতরের সরু পথে দিয়ে ভেতরে গেলেই দেখা যায়, প্রতিটি খুপড়ি ঘরের সামনে নারী ও শিশুরা বসে আছে। তাদের মধ্যে অনেকে স্বজন আটক হওয়ায় কাঁদছিল। সফুরা বেগম নামের এক গৃহিণী বলেন, আমার ছেলে বাবুল (১৫) ক্যাম্পের ভেতরের একটি চায়ের দোকানে কাজ করে। রাতভর দোকানে কাজ শেষে ভোরে বাসায় এসে ঘুমায়। আমি সকালে কাজে বের হয়েছিলাম। পরে খবর পেয়ে এসে শুনি আমার ছেলেকে র‌্যাব ধরে নিছে।

মোরশেদ ছোটু নামের এক চা দোকানিকে আটক করা হয়েছে। তার মা ফাতেমা বলেন, ছোটুকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে মাদক মামলা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা অভিযানের আগেই পালিয়েছে। তারা কেউ ক্যাম্পে থাকে না। যাদের ধরে নিয়ে মামলা ও সাজা দিয়েছে তাদের বেশিরভাগই নিরাপরাধ মানুষ ।

মো. লাডলা (২৬) জরির ব্যবসা করেন। লাডলার বড় বোন লাবনী বেগম বলেন, তার ছোটভাইকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সাজা দিয়েছে। সে মাদকের সাথে জড়িত না। রাজু আদনান (২২) বাংলা কলেজের ছাত্র। রাজুর বাবা চাঁদ মিয়া বলেন, কলেজ যাবার সময় তাকে ধরে নিয়ে মামলা দিয়েছে। এমন আরো ৫০-৬০ জন ভুক্তভোগি প্রায় একই অভিযোগ করেন।

মো. বাচ্চু (৫৫) ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের লাইট ম্যান (টিকেট চেকার) । বাচ্চুর ছেলে বলেন, তারা বাবা কর্মস্থলে যাবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন, তখন বাথরুমে যাবার পথে তাকে আটক করে নিয়ে ১৪৫ পিস ইয়াবা দিয়ে মামলা দিয়েছে।

স্ট্রান্ডেড পাকিস্তানিস জেনারেল রেপাটরিয়াটিও কমিটি (এস পি জি আর ছি) প্রেসিডিয়াম মেম্বার এন্ড জেনারেল সেক্রেটারি শওকত আলী বলেন, জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে বেশির ভাগই নিরীহ মানুষদের ধরে নিয়ে সাজা ও মামালা দেয়া হয়েছে। কোন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করতে পারেনি র‌্যাব। যারা আটক হয়েছে তাদের মধ্যে দুই একজন খুচরা বিক্রেতা ও মাদকসেবী থাকতে পারে। এছাড়াও আভিযানের সময় এস পি জি আর ছি অফিসের দরজার তালা ভেঙ্গে তল্লাশি চালায় র‌্যাব।

তিনি বলেন, ক্যাম্পে যারা মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের কেউ ক্যাম্পে থাকে না। তারা বাইরে বসে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে নিজস্ব লোক দিয়ে। অভিযানের আগেই তারা পালিয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার সকালে জেনেভা ক্যাম্পে প্রথমে ৫১৩ জনকে আটক করা করে র‌্যাব। পরে যাচাই বাছাই শেষে ১৫৩ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে ৭৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেয়া হয়। বাকি ৭৬ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক মামলার দেয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছে। এ অভিযানে ১৩ হাজার ইয়াবা ও ৩০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে বলে র‌্যাবের দাবী। ৭৮ জনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে নয়টি মামলা করে গত রোববার আদালতে হাজির করে মোহাম্মাদপুর থানা পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হলে বিচারক তা নাকচ করে দেন।

র‍্যাব সূত্র জানায়, এ অভিযানে র‌্যাব-১, ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১ অংশ নেয়। ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন তিনজন। বাঁধা আসতে পারে ভেবে অসংখ্য আইনশৃঙ্খলারক্ষা বাহিনীর সদস্য নিয়ে বেলা পৌনে ১০টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা এ অভিযান চলে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত