প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাজেট মোটেই উচ্চবিলাসী নয়: অর্থমন্ত্রী

ফয়সাল মেহেদী: আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট দেওয়া হবে তা মোটেই উচ্চবিলাসী নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুুুহিত, এমপি। তিনি বলেন, আগামি অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট দিতে পারলে আমি খুশি হতাম। কিন্তু তার নিচে দিতে হচ্ছে বলে আমি আনহ্যাপি। এই বাজেট মোটেই উচ্চাভিলাসী নয়। তবে বাজেটের অর্থ খরচ করতে না পারায় এক অর্থে উচ্চাভিলাসী বলা যায়।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্ট আয়োজিত ‘স্বপ্ন পূরণের বাজেট’ প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির রূপরেখা শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে এ গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ও সরকারের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল ইসলাম, তত্ত্বাবাধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম, পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি সিএম তোফায়েল সামী প্রমুখ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত কয়েকবছর ধরে বাজেট বাস্তবায়নের হার কমে এসেছে। ২০১২ সালে বাজেট বাস্তবায়নের হার ৯৩ শতাংশ থাকলেও ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়ে এখন ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দ্যাটস এ ভেরি বেড সিগন্যাল। এটা খুবই অপ্রত্যাশিত ও দু:খজনক। আমরা এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছি। আগামী বাজেটে এ বিষয়ে বিশেষ দিক নির্দেশনা থাকবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশের ফুড ইন্ড্রাষ্ট্রিজ ভালো গ্রো করছে। এটি দেশের অন্যতম একটি খাতে রুপান্তরিত হয়েছে। এ থেকে আমাদের কৃষকরা উপকৃত হচ্ছে।

মুুুহিত বলেন, ব্যাংকে অনেক গোলমাল রয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের পরিচালকদের ঋণ নেয়া অত্যন্ত দু:খজনক। রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানের অনেক লায়াবিলিটি রয়েছে। যা কোনদিন শেষ হয় না। তারপরও প্রতিবছর তাদের অর্থ বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। আশার কথা হচ্ছে লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে না।

তামাক চাষ বাড়ার বিষয়টি উদ্যেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কুষ্টিয়া ও বান্দরবানে তামাক চাষ হচ্ছে। এসব তামাক চাষিদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করে তামাক চাষ থেকে বিরত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশ থেকে তামাক বিতাড়িত করা হবে। এর লক্ষ্যে এবারের বাজেটে কিছু ইঙ্গিত দেওয়া হবে। এবারের বাজেটে দক্ষজনবল সৃষ্টিতে বিশেষ পদক্ষেপ থাকছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন ২০১১ সাল থেকে বাজেটে দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে নানা পদক্ষেপে নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অথনৈতিক উপদেষ্ঠা ড. মশিউর রহমান বলেন, উন্নয়নের প্রধান উপকরণ হচ্ছে ডেমোগ্রাফি ডিভিডেন্ড। আমরা এ বিষয়ে জোর দিয়েছি। শ্রম শক্তি বাড়লে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এছাড়া ইপিজেড, ইকোনোমিক জোনে যারা বিনিয়োগের চুক্তি করেন তাদের সঠিক সময়ে বিনিয়োগ করার বিষয়ে তাগিদ দিতে হবে। এছাড়া বিনিয়োগের মাঝামাঝি যে সময় নষ্ট হয় তার থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে।

ড. মির্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম বলেন, ক্রমশ বাজেট বাস্তবায়নের হার কমে যাচ্ছে। বড় বাজেটের চেয়ে বাজেট বাস্তবায়নের দিকে নজর দিতে হবে। এছাড়া হাজার হাজার মামলা অর্থঋণ আদালতে জমে আছে। এ বিষয়টি আগামী বাজেটে নজর দেয়া উচিত। এছাড়া ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। দেশে দরিদ্র্যের হ্রাসের হার কমছে। এটা বাড়াতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।

ড. কাজী খলীকুজ্জামান বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য বাজেটে কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে বেদে, দলিত সম্প্রদায় এবং সাঁওতালসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির জন্য বিশেষ সুবিধা থাকতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ