প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কৃষিতে ঠাই নেই, ইতিহাসের পাতায় কৃষকের হালের বলদ, মলনের গরু মহিষ

মতিনুজ্জামান মিটু : কৃষিতে ঠাই নেই, ইতিহাসের পাতায় স্থান নিচ্ছে কৃষকের হালের বলদ, মলনের গরু। কিছু খন্ড এবং পকেট ছাড়া দেশের কোনো জমিই আর হালের বলদ দিয়ে চাষ করা হয়না। চাষ, শস্য পরিবহন এবং মলন (মাড়াই)সহ কৃষির অন্যান্য ক্ষেত্রেও বলদ গরুর ব্যবহার কমেছে। বলতে গেলে দিনে দিনে কৃষি কাজ ছাড়ছে বলদ গরু। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায় এর প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ শেখ মো. নাজিম উদ্দিনের পক্ষে মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন অফিসার কৃষিবিদ অশোক কুমার বিশ্বাস বলেন, কিছু কিছু পকেট জমি ছাড়া দেশের কোথাও হালের বলদ দিয়ে লাঙ্গল চষা হয়না। আগের মতো মলনে বা মাড়াই এর প্রচলনও নেই দেশের বেশির ভাগ এলাকায়।

ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মঞ্জুরুল আলমের ‘বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের পথ পরিক্রমা ও সরকারি উদ্যোগ’ বিষয়ক এক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, দেশের ৯০ ভাগেরও বেশি জমি এখন ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করা হয়। জমি থেকে ধানসহ বিভিন্ন ফসল আনা(পরিবহন) ও মাড়াই কাজেও গরুর ব্যবহার হয়না। গরুর গাড়ির বদলে এখন জমি থেকে রিক্সা ভ্যানসহ অন্যান্য যন্ত্রচালিত যানে ফসল ঘরের উঠান বা নির্ধারিত স্থানে নেয়া হয়। গরু দিয়ে মলন নয়, ফসল মাড়াইও করে মাড়াই যন্ত্র। দেশে বর্তমানে প্রায় ৭৫ ভাগ ফসল যন্ত্র দিয়ে মাড়াই হয়।

তবে ফসলের জমি সমান করার জন্য এখনও জমিতে মই দেয়ার কাজে বলদ বা গরু ব্যবহার হয়ে থাকে। দেশের অনেক বাড়িতেই এখন আর ধান মাড়াই এর জন্য উঠোনও নেই। আগের মতো ঘাড়ে করে জমি থেকে বাকে করে ধান এবং অন্যান্য ফসলও আনা নেয়া করতে দেখা যায়না। প্রাণি সম্পদ অধিপ্তরের ২০১৭ সালের হিসেবে দেশে দুই কোটি ৩৯ লাখ ৩৫০০০ গরু এবং ১৪ লাখ ৭৮০০০ হাজার মহিষ রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে দেশে মোট ফসলি জমির পরিমাণ এক কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫৯. ৩৪ হেক্টর।

এসব জমিতে ফসল উৎপাদন কাজে দিনে দিনে গরু মহিষের ব্যবহার উঠে যাচ্ছে। সে দিন বেশি দূরে নয় এদশের কৃষিতে আর গরু মহিষ ঠাই হবেনা। কৃষিতে তাদের ব্যবহারের কথা জানা যাবে শুধুই ইতিহাসের পাতায়। গরু মহিষ পালন হবে শুধু মাংস, দুধ ও চামড়ার জন্য। কৃষির এই বদলের বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবল সরকার ও কৃষি সংগঠক রেহেনো বেগম অভিন্ন সুরে বলেন, কৃষির এই বদলের সুফল কৃষক পাচ্ছেনা। বরং তাদেরকে কৃষি থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। আমাদের কৃষকের হাতে আমাদের কৃষি আর থাকছেনা। আধুনিক ও উন্নত চাষবাসের নামে বাড়ছে বিদেশ নির্ভরতা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত