প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চাকরিচ্যুত হলেন ঢাবির সাবেক রেজিস্ট্রার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মরণিকায় জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা রেজাউর রহমানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৪তম স্মরণিকায় এই লেখা দেয়ার সময় রেজাউর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ছিলেন। পরে তাকে বরখাস্ত করে অন্য দায়িত্ব দেয়া হয়।

দুই বছর পর সোমবার ঢাবি সিন্ডিকেটের এক সভায় রেজাউরকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই অভিযোগে কম্পিউটার অপারেটর রিফাত আমিনের পদাবনতি করে টেকনিশিয়ান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ইতিহাস বিকৃতির ঘটনায় সাবেক রেজিস্ট্রারকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আর একজনকে পদাবনতি করা হয়েছে।’

সাবেক রেজিস্ট্রার রেজাউর রহমান সর্বশেষ ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ছাত্র নির্দেশনা পরামর্শ দান দপ্তরের উপ-পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি স্মরণিকার ১৯ পৃষ্ঠায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫ বছর প্রতিষ্ঠার উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সৈয়দ রেজাউর রহমান ‘স্মৃতি অম্লান’ নামে একটি নিবন্ধ লেখেন।

এই নিবন্ধে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হল পরিচিতি তুলে ধরতে তিনি লিখেন, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনা প্রধান ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।’

এই ঘটনাটি তখন তুমুল বিতর্ক তোলে। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি তো ছিলেনই না, তিনি সরকারের কোনো পদেই ছিলেন না। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের যে প্রবাসী সরকার গঠন হয়, তাতে রাষ্ট্রপতি করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ শেখ মুজিবুর রহমানকে। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হন সৈয়দ নজরুল ইসলামকে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর কাজ করা দেশের প্রথম সরকারেরও রাষ্ট্রপতি ছিলেন না জিয়াউর রহমান। আর মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা জিয়াউর রহমান যুদ্ধের সময় ছিলেন সেক্টর কমান্ডার।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি হন জিয়াউর রহমান।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাকে প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করার পর ২০১৬ সালে তখন রেজিস্ট্রারের কার্যালয় ঘেরাও করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমানকে তার কার্যালয়ে প্রায় এক ঘণ্টা তালাবদ্ধ করে রাখেন। এরপর তাকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিস সিদ্দিকীর ওপরও চড়াও হয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তখন তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত