প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাক্তারদের না জানিয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন বৃক্ষ মানব

ডেস্ক রিপোর্ট : কিছু না বলেই হাসপাতাল ছেড়েছেন। গত শনিবার ( ২৬ মে) ভোরে তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। সকালে নার্সরা ডিউটিতে গিয়ে তার বেড ফাঁকা দেখতে পান।

হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, ‘আবুল বাজানদার কাউকে কিছু না জানিয়েই চলে গেছে। সে যেতে চেয়েছিল, ওকে আমি বলেছি, তোমার অস্ত্রোপচার হয়েছে। আমরা আরও করবো। শনিবার তার মত জানানোর কথা থাকলেও সেদিন ডা. লতা আমাকে জানায়, আবুল চলে গেছে।’

কেন এভাবে চলে গেলেন জানতে চাইলে আবুল বাজানদার বলেন, ‘কী করবো? ওনারা বলছেন যে তোমার সমস্যা আর সমাধানে আসবে না। এটা অস্ত্রোপচার করবো, আবার বাড়বে। আমার থাকা-খাওয়া নিয়েও কিছু সমস্যা হচ্ছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমরা গত ৮ তারিখে গেছিলাম। গত শনিবার (২৬ মে) বাড়িতে চলে এসেছি। আমার ওখানে থাকার পরিবেশ নেই।’ আবুল বাজানদার বলেন, ‘আমার মূল শিকড়টা উঠে যাচ্ছে, সেটা আর থাকছে না। কিন্তু উনারা বলছেন, জেনেটিক সমস্যা, অস্ত্রোপচার করবো। আমার যে মূল শিকড়টা উঠে যাচ্ছে, সেটা আর হচ্ছে না।’

সংবাদপত্র পড়ে আবুলকে ঢাকায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী। যাওয়ার সময় তাকে জানিয়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল বাজানদার বলেন, ‘উনাকে জানিয়েছি। উনি বলেছেন, তুমি থাকো, চিকিৎসা করাও।’

ঢাকায় আবুলের যাবতীয় দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন কাজী বাহার। তাকেও না জানিয়ে বাড়ি গিয়ে টেলিফোনে জানিয়েছেন আবুল বাজানদার। তিনি বলেন, ‘তারা একটু আমার উপর রেগে আছে যে আমি কেন চলে আসলাম। তাদের আমি বুঝিয়েছি যে কেন চলে আসলাম। তারা বলছে যে যত কষ্ট হোক, থাকো। খাওয়ার কষ্ট সহ্য করা যায়, কিন্তু দুর্ব্যবহার সহ্য করা যায় না।’

আবুলের স্ত্রী হালিমা খাতুন বলেন, ‘স্যারেরা বলছেন, এটা পুরোপুরি সমাধানে আসবে না। তারা অস্ত্রোপচার করবেন, আবার হবে। ২৫টা অস্ত্রোপচার হয়ে গেছে, আরও করবেন। তাই চলে এসেছি।’

আবুল বাজানদারের অ্যাটেনড্যান্ট কাজী বাহার বলেন, “আমাকে সকালে ওয়াদা দিয়েছে যে থাকবে। সে ছুটি চাইছিল। সে রিলিজ চাচ্ছিল যে সে থাকবে না, চিকিৎসা নেবে না। দুদিন পরে তাকে চিকিৎসকরা ডেকেছেন। ওকে সাইন দিতে বলেছেন। ওই লেখাটা হালিমা পড়েছে, পরে আবুল আর সাইন দেয়নি। বিকেলে সে আমাকে বলে, ‘ভাই, আমাকে মাফ করে দিয়েন, আমি এখন বাড়িতে।’ পরে, আমার খুব খারাপ লেগেছে। আমি বলেছি, ‘আপনি আর আমাকে ফোন দিবেন না।’ এখন শরফুদ্দীন ভাই, বারী ভাই তারা ওকে আবার ফিরিয়ে এনে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”

আবুল বাজানদারকে সহায়তাকারী ডা. শারফুদ্দীন বলেন, ‘হঠাৎ করে আমার কানে আসলো আবুল আর ট্রিটমেন্ট করাবে না। আবুল কোথা থেকে শুনেছে যে এটা একেবারে নিরাময়যোগ্য অসুখ নয়। সে আমাকে বলেছে, সবাই তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। আমি ওকে বলেছি, ‘মানুষের সঙ্গে ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলবে। প্রতিদিন তোমার সঙ্গে একই ব্যবহার করবে, তা হতে পারে না।’ তারপরও সে বলেছে যে, ‘আমি ভালো হবো না। আমি চলে যাবো।’”

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আবুল বাজানদার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তখন তার হাত-পা স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল না। গাছের শিকড়ের মতো শক্ত অতিরিক্ত অংশ দুই হাত ও পা বদলে দিয়েছিল। এরপর তার চিকিৎসার জন্য পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তার চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্দেশ দেন আবুলের সব খরচ রাষ্ট্রীয়ভাবে করার। থাকা-খাওয়া, ওষুধ, অপারেশন কোনোকিছুর জন্যই আবুলকে অর্থ দিতে হয়নি। সব খরচ বহন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পেশায় ভ্যানচালক আবুল বাজানদারের প্রথমে আচিল হয়। ধীরে ধীরে তা ছড়াতে থাকে। এপিডার্মো ডিসপ্লেশিয়া ভেরুকোফরমিস ভাইরাসে আক্রান্ত তিনি। এই রোগের কারণে গত ৭ বছর কোনও কাজই করতে পারতেন না। হতদরিদ্র আবুলের অবস্থা দেখে তার একজন চিকিৎসক ডা. কবির হোসেন তাকে বাড়ি বানানোর জন্য ছয় লাখ টাকা দেন। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত