প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদার মুক্তি যেন ‘সোনার হরিণ’

সজিব খান: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা প্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ওই মামলায় হাইকোর্ট চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিলেও বন্দি দশা থেকে মুক্তি মেলেনি তাঁর। কেননা খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর পরই তাকে আরো ৫টি মামলায় গ্রেফতার দেখোনো হয়। এদিকে সোমবার (২৮ মে) আরো ২টি মামলায় তাঁকে ৬ মাসের জামিন দেয় হাইকোর্ট। তবে আরো বাকি ৩টি মামলায় জামিন না হওয়া পর্যন্ত শিগগিরই মুক্তি মিলছে না খালেদা জিয়ার।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমান করা হয়। রায় ঘোষণার দিনই পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় তাঁকে। সেই থেকেই বাংলাদেশের প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী ও দুই বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দুর্নীতির দায়ে কারাবাস শুরু।

এরপর কারাগারে থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়াকে আরো ৫টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এগুলো হলো- ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে গত বছরের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলামের দায়ের করা মামলা। বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকীর দায়ের করা মানহানির মামলা।এছাড়া নড়াইলে মানহানির মামলাসহ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় ৮ জন হত্যা ও আরো একটি মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এদিকে ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিন আবেদন করে ৬টি মামলার মধ্যে তিনটিতে তাঁকে জামিন পাইয়ে দিয়েছেন। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরো তিনটি মামলা। এর মধ্যে  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় হাইকোর্ট। এরপর জামিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলেও জামিন বহাল রেখে রায় দেয় আপিল বিভাগ। এছাড়া সোমবার (২৮ মে) নাশকতার অভিযোগে কুমিল্লায় করা দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া মানহানির অভিযোগে নড়াইলে করা এক মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়েছে। এই মামলার জামিন চাইতে নড়াইলে যাবে বিএনপি। তবে ছয়টি মামলা থেকে তিনটি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন হলেও মুক্তি পেতে হলে আরো তিন মামলায় তাঁকে জামিন পেতে হবে। তবে জামিন আবেদন করার সাথে সাথেই জামিন পাওয়া যায় না। এটি সময় সাপেক্ষ। জামিন আবেদন করার পর আদালতে শুনানি হয় এর পর শুনানি শেষ হবার পর আদেশ। যে তিনটি মামলায় খালেদা জিয়া জামিন পেলেন তার শুনানি শেষ হতে মোটামুটি বেশকিছুদির সময় লেগেছ । তারপর আদালত সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে আদেশ দিয়েছেন।

অপরদিকে কুমিল্লার যে দুই মামলায় সদ্য জামিন পেলেন খালেদা জিয়া তা স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে অালম। তিনি জানিয়েছেন, জামিন স্থগিত চাওয়ার অাবেদন ইতোমধেই তৈরি করা হয়েছে। চেম্বার অাদালতে অাবেদন করবো এছাড়া তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি পেতে হলে সবকটি মামলায় জামিন পেতে হবে। তবে সব মামলায় তাড়াতাড়ি জামিন পাওয়া কঠিন। কারণ মামলাগুলো একেকটা একক ধরনের।

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেচেন খোদ তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেছেন, অফিসিয়ালি খালেদা জিয়া তিনটি মামলায় গ্রেফতার। সেগুলোতে তাঁর জামিন হয়েছে। এখন অন্য কোনো মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট নেই। তাই খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আইনগত বাধা নেই। তবে এরপর সরকারের যদি অসৎ উদ্দেশ্য থাকে তাহলে যে কোনো মামলায় গ্রেফতার দেখাতে পারে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘কুমিল্লায় তিনটি মামলা, ঢাকায় দুটি মামলা এবং নড়াইলে একটি মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এসব মামলা ভিত্তিহীন। শুধু তাঁকে আটকে রাখার জন্যই এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে।’ তার অভিযোগ সরকার নানা কৌশলে খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। এদিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতে খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে হলে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।

এদিকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট মামলা রয়েছে ৩৭টি। এর মধ্যে ১২টি মামলার কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। আর ৩টি মামলা তদন্তাধীন। বাকি ২২টি মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে বিচারের শেষ পর্যায়ে আছে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা। মামলাটি বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে বিচারাধীন। গ্যাটকো, নাইকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি  মামলাও একই আদালতে বিচারাধীন। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। একমাত্র গেওফতার দেখানো সব মামলায় জামিনই পারে তাকে কারামুক্তি দিতে। তবে ছয়টি মামলায় জামিন পেলেও এর মধ্যে আরও কোনো মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখিয়ে দেওয়া হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি হয়ে যাবে ‘সোনার হরিণ’ পাওয়ার মতো কঠিন কাজ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত