প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রমজানের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ কুরআন নাজিল

আমিন মুনশি : মানুষের মনে স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগতে পারে- মাস, সপ্তাহ, দিন সবই তো আল্লাহ পাকের সৃষ্টি। তাহলে রমজান মাসের কেন এতো ফজিলত? কেনো এতো শ্রেষ্ঠত্ব? অথচ আল্লাহ তায়ালা নবি-রাসূল আলাইহিমুস সালামগণের মধ্যেও মর্যাদার দিক দিয়ে একজনকে অপরজনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। যা পবিত্র কুরআন মাজিদে স্বীকৃত। তাই মাহে রমজানের কেন এতো ফজিলত, অন্য ১১ মাসের মধ্যে কেন মাহে রমজানের শ্রেষ্ঠত্ব- তার পেছনও অবশ্যই কারণ রয়েছে।

রমজান মাসের শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, পবিত্র কুরআন মাজিদ এ মাসে নাজিল হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘রমজান এমন একটি মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়াত স্বরূপ, হেদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনা সংবলিত এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী (মহাগ্রন্থ) আল কোরআন’। সুরা দুখানের শুরুতে বলা হয়েছে- ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআনকে নাজিল করেছি একটি বরকতময় রাতে’। সুরা কদরে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি একে নাজিল করেছি কদর তথা মর্যাদাবান রাতে’।

উপর্যুক্ত আয়াতগুলোতে মহান আল্লাহ রমজান এবং লাইলাতুল কদরের মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে এই মাসে এবং এই রাতে কুরআন নাজিলের বিষয়টি বারবার উল্লেখ করেছেন। এতে বুঝা যায়, মূলত তিনি কোরআন নাজিল করেই এই মাস এবং রাতের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। তাই এই মাসকে বলা হয় কুরআন নাজিলের মাস বা কুরআনের মাস। এ কারণেই মাহে রমজানের সাথে পবিত্র কুরআনের সম্পর্ক অত্যন্ত সুনিবিড়।

কুরআন নাজিলের মাস হিসেবে রাসূল (সা.) এ মাসে কুরআন তিলাওয়াত এবং অধ্যয়নের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন। হাদিস শরিফে এসেছে, ফেরেশতা জিবরাঈল (আ.) এ মাসের প্রতি রাতে রাসূলের কাছে আসতেন, রাসূল (সা.) তাকে কুরআন পড়ে শোনাতেন, অধ্যয়ন করতেন। যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর তিনি জিবরাঈল (আ.)-কে দু’বার কুরআন খতম করে শুনিয়েছিলেন। (বুখারী)

সাহাবায়ে কেরাম এ মাসে অধিক হারে কুরআনচর্চা করতেন। তারা নামাজের ভেতরে-বাইরে নির্দিষ্ট সংখ্যকবার কোরআন খতম করতেন। পরবর্তী আলেমরাও এ ধারা অব্যাহত রেখেছেন। অনেক আলেম এ মাস এলে অন্যান্য ইলমচর্চা বাদ দিয়ে কুরআনচর্চায় মনোনিবেশ করতেন। বর্তমানে মক্কা-মদিনাসহ মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মসজিদে মসজিদে তারাবির নামাজের মাধ্যমে পবিত্র কুরআন খতম করা হয়। রমজান মাস এবং কুরআন একটি আরেকটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আমাদের উচিত, কোরআনের এই মাসে কোরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত, কুরআন শিক্ষা এবং কুরআনের আলোচনা বাড়িয়ে দেওয়া। সেই সঙ্গে জীবনের সর্বক্ষেত্রে কুরআনের বিধান মেনে চলার জন্য চেষ্টা এবং অনুশীলন করা। আমরা যারা কোরআন সহিহ-শুদ্ধ করে পড়তে পারি না, তাদের জন্যও শেখার সর্বোত্তম সুযোগ এই মাহে রমজান। মহান আল্লাহ আমাদেরকে কুরআন ও রোজার সুপারিশ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত