প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খেলাপী ঋণ আদায়ে পৃথক সেল গঠনের পরামর্শ

সোহেল রহমান: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপী ঋণ আদায়ে পৃথক সেল গঠনের পরামর্শ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। পাশাপাশি খেলাপী ঋণ আদায়ে চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে বড় ঋণ খেলাপীদের হাল নাগাদ তালিকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ নোটিশ বোর্ড কিংবা দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে পারে ব্যাংকগুলো।

খেলাপী ঋণ আদায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রতিবেদনে এসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে ঋণ আদায় প্রক্রিয়া দ্রুত ও সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০০ কোটি টাকা বা এর অধিক খেলাপী ঋণ কেসগুলো তদারকির জন্য প্রতিটি ব্যাংকে একটি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি কেন্দ্রীয় তদারকি সেল গঠন করে ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে বড় ঋণ খেলাপীদের হাল নাগাদ তালিকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ নোটিশ বোর্ড কিংবা দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে পারে ব্যাংকগুলো।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রমতে, দীর্ঘকাল ধরে যারা ঋণ খেলাপীর তালিকায় আছেন, এদের অধিকাংশই সমাজে প্রতিষ্ঠিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। এমতাবস্থায় ঋণ খেলাপীর তালিকা দৃশ্যমান হলে নিজের পরিচিতি ঢেকে রাখতে কিংবা বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেকেই খেলাপী ঋণ পরিশোধে আগ্রহী হবেন।

অন্যদিকে মামলা কিংবা উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ব্যাংক খাতের হাজার হাজার কোটি টাকা খেলাপী ঋণ আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। ঋণ পরিশোধ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে ঋণ খেলাপীরা প্রায়শই এ ধরনের সুযোগ নিতে চেষ্টা করেন। এমতাবস্থায় উচ্চ আদালতে ব্যাংকের ঋণ সংশ্লিষ্ট রীট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পৃথক বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অন্যান্যের মধ্যে খেলাপী ঋণ আদায়ে ঢালাওভাবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ না করে ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে শাখার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সেই মোতাবেক ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং প্রতি তিন মাস পর পর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। এছাড়া খেলাপী ঋণ আদায়ে সফলতার জন্য ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিশেষ প্রণোদনা প্রদান এবং ক্ষেত্র বিশেষে ব্যর্থতার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং এটি তাদের এসিআর-এ প্রতিফলনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধন করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত