প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দ্বিতীয় দশকে মাগফেরাত লাভই বান্দার সফলতা: মাওলানা মাসউদুল কাদির

ওমর শাহ: রমজান মাস এমন একটি মাস, যে মাসের প্রথম ১০ দিন রহমতে পরিপূর্ণ, দ্বিতীয় ১০ দিন ক্ষমা ও মাগফিরাতে পরিপূর্ণ এবং শেষ ১০ দিন জাহান্নামের শাস্তি থেকে নাজাত ও মুক্তির জন্য নির্ধারিত। বান্দার সবচেয়ে বড় সফলতা হলো মাগফেরাত লাভ করা। আমাদের মাগফেরাত লাভের জন্য কায়মনো বাক্যে আল্লাহর কাছে রোনাজারি করে যেতে হবে। দৈনিক আমাদের নতুন সময়কে রমজানের দ্বিতীয় দশকের করণীয় আমল সম্পর্কে এসব কথা বলেন বিটিভির ‘জীবন ও পাথেয়’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক, হবিগঞ্জের দারুল ইয়াকিন মাদরাসা ও ইকরা বাংলাদেশ হবিগঞ্জের প্রিন্সিপাল মাওলানা মাসউদুল কাদির।

মাওলানা মাসউদুল কাদির বলেন, রোজা রাখা, বিশ রাকাত তারাবিহ পড়া, বেশি বেশি কুরআন মাজিদ তেলাওয়াত করা, বেশি বেশি জিকির করা, নফল নামাজ পড়া, অধিক পরিমাণে দোয়া করা, তাওবা ও ইস্তেগফার করা, দান-সদকা করা, রোজাদারকে ইফতার করানো এসব তো নিয়মতান্ত্রিক আমল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো এ দ্বিতীয় দশকে ইতেকাফের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। নবী করিম (সা.) বলেছেন, রমজান মাসে আমার উম্মতকে পাঁচটি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্ববর্তী কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। ১. রমজানের প্রথম রাতে আল্লাহ তাদের দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন, আর আল্লাহ যার দিকে দৃষ্টি দেন, তাকে কখনো শাস্তি প্রদান করেন না। ২. সন্ধ্যার সময় তাদের মুখ থেকে যে গন্ধ বের হয়, তা আল্লাহর কাছে মেশ্কের সুগন্ধির চেয়েও উত্তম। ৩. প্রত্যেক দিনে ও রাতে ফেরেশতারা রোজাদারদের জন্য দোয়া করেন। ৪. আল্লাহ তাআলা তার বেহেশতকে বলেন, তুমি আমার বান্দার জন্য সুসজ্জিত ও প্রস্তুত হও। ৫. রমজানের শেষ রাতে আল্লাহ তাদের সব গুনাহ মাফ করে দেন।’ এক ব্যক্তি বলল, ‘এটা কি লাইলাতুল কদর?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, না তুমি দেখোনি শ্রমিকেরা যখন কাজ শেষ করে, তখনই পারিশ্রমিক পায়?’ (বায়হাকী)

তিনি বলেন, দ্বিতীয় দশকে একটি দুআ আছে, আল্লাহুম্মা হাব্বিব ইলাইয়্যা ফিহিল ইহসান; ওয়া কাররিহ ইলাইয়্যা ফিহিল ফুসুক্বি ওয়াল ই’সইয়ান; ওয়া হাররিম আ’লাইয়্যা ফিহিস সাখাত্বা ওয়ান নিরানা বিআ’ওনিকা ইয়া গিয়াছাল মুসতাগিছিন। ‘হে আল্লাহ! এ দিনে সৎ কাজকে আমার কাছে প্রিয় করে দাও আর অন্যায় ও নাফরমানীকে অপছন্দনীয় কর। তোমার অনুগ্রহের ওসিলায় আমার জন্য তোমার ক্রোধ ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হারাম করে দাও। হে আবেদনকারীদের আবেদন শ্রবণকারী।’ এ দশকের ১৭ রমজান কিন্তু এতিহাসিক বদর দিবস। আর অন্যান্য সব আমলই ধাবাহিক করে যেতে হবে।

রমজান মাসে সাহাবা, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন ও আইম্মায়ে মুজতাহিদেনের আমল সম্পর্কে মাওলানা মাসউদুল কাদির বলেন, তারা সর্বোত আমলের মধ্যেই রমজান কাটিয়েছেন। হযরত আবু হানিফা রহ. এত বেশি কুরআন তিলাওয়াত করতেন দিনে এক খতম হতো এবং রাতে এক খতম হতো। উপমহাদেশের বুজুর্গগণও কুরআন তিলাওয়াতকে গুরুত্ব দিতেন। শাইখুল ইসলাম সাইয়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী রহ.ও সব আমলের সঙ্গে কুরআন তিলাওয়াতের আমল বেশি বেশি করতেন। আমাদের উচিত মুখে তিলাওয়াত, জিকির বা দরূদ শরীফ সবসময় পড়তে থাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত