প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পরিবহন মাফিয়াদের হাত থেকে জাতি মুক্তি চায়

ওয়াসিম ফারুক : রাজধানী কারওয়ান বাজারের মোড়ে  বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুটি বাসের রেষারেষির ফলে দুই বাসের চাপায় ডান হাত হারিয়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পান সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের  দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন । রাজীব ছিল বড়ই অভাগা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ছোট আরো দুইটি ভাই রেখে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন মা । রাজীবের মায়ের শোকে তার বাবা ও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে মারা যান ২০১১ সালে তখন রাজীব আষ্টম শ্রেণীর ছাত্র । খালার বাসায় থেকে লেখাপড়া করে নিজের ও ছোট দুই ভাইয়ের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পুরণের পথে হাঁটছিলেন রাজীব । টিউশনি কম্পিউটারের গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ আর লেখাপড়া সবই ভাল ভাবে চালিয়ে যাচ্ছিলেন রাজীব ।

কিন্তু রাজীবের এই পথচলা বন্ধ হয়ে গেছে দীর্ঘ ১৩ দিন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে হার মানতে হলো রাজীবকে । যদি ও পৃথিবীতে রাজীবের জন্য কান্নার তেমন আপন কেউ নেই তবু ও আমার অনুভব আজ দেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের মনের ভিতরে রাজীবের জন্য কান্না হয়েছে । তবে আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের অন্তরে কোন আঘাত লেগেছে কি-না বা সাধারণ মানুষের এই চাপা কান্না তাদের অন্তর ছুয়েছি কি সেটা সব সময় ই প্রশ্নই থেকে যায় ? রাজীব তার ও দুই ভাইয়ের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে চলে গেছেন দুনিয়া থেকে । প্রতিদিন কত রাজীবের স্বপ্ন তথা কথিত এই সড়ক দূর্ঘটনার কবর দেয়া হয় তা কে জানে ।

তবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় ২০১৭ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৩৯৭ জন নিহত ও ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হয়েছে । আর পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৬ সালে ২ হাজার ৫৬৬টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ২ হাজার ১৩৪ জন। ২০০৯ সালের হিসাবে ৩ হাজার ৩৮১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৫৮ জন নিহত ও ২ হাজার ৬৮৬ জন আহত হয়।

সেদিন অর্থাৎ ৫ এপ্রিল ২০১৮ ভোরে নিজ চোখেই দেখেছি রাজধানীর চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের সামনে বিকাশ পরিবহনের দুই বাসের বেপরোয়া প্রতিযোগিতা । ছয় বছর বয়সী মেয়ের জীবন বাঁচাতে দুই বাসের চাপায় পরে মেরুদন্ডের হার গুড়া গুড়া হয়ে জীবন মৃত্যুর মাঝ পথে দাড়িয়ে আছেন ২৬ বছর বয়সী আয়েশা খাতুন । একই দিনে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা এলাকায় ঘটছে এক  হূদয়বিদারক ঘটনা বেপরোয়া চালকের নিষ্ঠুরতা প্রকাশ্যে ছেলের চোখের সামনে পিষ্ট করে মারল জন্মদাত্রী মাকে । যখন মায়ের শরীরের উপর বাসের চাকা তখন আমার গায়ের সব শক্তি দিয়ে বাসটাকে ঠেলে সরাতে চেয়েছিল  বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া ছেলে তুহিন। কিন্তু তুহিনের ব্যর্থচেষ্টা বাঁচাতে পারে নি মা শিউলি আক্তারকে । আর তুহিনের সেই বাস ঠেলে সরানোর ছবি নিয়ে কিছুক্ষণের জন্য হলেও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিল ।

একটি দুর্ঘটনা একটি মানুষের জীবনের একটি পরিবারের আজীবনে কান্না । আমি আবারও জোর গলায় ই বলছি এসব কান্না কখনো ই রাষ্ট্রপরিচালকদের কানে প্রশাসনের কানে পৌছায় না । যদি তারা এই কান্না অনুভব করতে পারতেন তা হলে কেমন করে বর্তমান সময়ের নৌ পরিবহনমন্ত্রী জনাব শাজাহন খাঁন সাহেবের মত মানুষ কখনো ই বলতে পারতেন না  কেবল গরু-ছাগল চেনার যোগ্যতায় থাকলেই গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা রাখে ।

লেখক: কলামিষ্ট/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ