প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজকের ১২তম তারাবিতে যা পড়া হবে

রাশেদুর রহমান: আজ ১২তম তারাবিতে সূরা ইসরা বা বনি ইসরাইল এবং সূরা কাহাফ (১-৭৪) পড়া হবে। পড়া হবে ১৫তম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরা হলো-
(সূরা ইসরা, মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১১১, রুকু ১২)

ইসরা অর্থ রাত্রে নিয়ে যাওয়া। এই সূরায় মেরাজের কাহিনীর উল্লেখ আছে। নবী মুহাম্মদ (সা.) কে রাতের বেলা মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসায়, অতঃপর সেখান থেকে ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সূরায় সেই কাহিনির প্রতি ইঙ্গিত থাকায় সূরাটির নাম ‘ইসরা’। মেরাজের ঘটনা ছাড়াও সূরার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে :

বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে ইহুদিরা বিভিন্ন সময় শাস্তিতে নিপতিত হয়েছে। মূলত ফেতনা সৃষ্টি ইহুদিদের চারিত্রিক সমস্যা। (৪-৮)। কোরআনুল কারিমের মাহাত্ম্যের বর্ণনা দেওয়ার পর বলা হয়েছে, মানুষ বড়ই ত্বরাপ্রবণ। তকদিরে যা আছে তাই হবে এবং যেমন কর্ম তেমনই হবে ফল- এ কথাটি বলার পর সামাজিক জীবনের প্রায় ১৩টি ইসলামি শিষ্টাচারের বর্ণনা দেওয়া হয়েছ। প্রকৃতার্থে আখলাক ও শিষ্টাচারের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি বা একটি সমাজ সম্মান-মর্যাদার উপযুক্ত হয়। ২৩নং আয়াত থেকে ৩৯নং আয়াত পর্যন্ত খুব গুরুত্বসহ শুধু এ কথাই বলা হয়েছে, আল্লাহর হক ও বান্দার হক আদায় করো। বিশেষত, মা-বাবার সামনে ‘উফ’ শব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

মুশরিকদের বিভিন্ন মন্দ বিশ্বাসের উল্লেখের পর সূরায় কোরআনুল কারিমের মাহাত্ম্য, সত্যতা, অলৌকিকত্ব, কোরআন অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হওয়ার হিকমত, আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষকে বিশেষ সম্মান দান, মানুষকে রুহ, আত্মা ও জীবনের নেয়ামত প্রদান, নবী করিম (সা.) কে তাহাজ্জুদ নামাজের হুকুম এবং মূসা (আ.) ও ফেরআউনের কাহিনি প্রসঙ্গে আলোচনা রয়েছে।
সূরার শেষে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ সব ধরনের শরিক এবং সন্তানসন্ততি থেকে একেবারে পবিত্র, আর তিনি আসমাউল হুসনা তথা সুন্দরতম নামাবলির অধিকারী, পবিত্র নামগুলো তো তারই জন্য।
(সূরা কাহফ, মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১১০, রুকু ১২। আজ পড়া হবে সূরাটির ৭৪ নম্বর আয়াত পর্যন্ত)

‘কাহফ’ অর্থ গুহা। যেহেতু সূরায় গুহাবাসীদের কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাই সূরার নাম কাহফ। সূরাটির বহু ফজিলত বহু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সূরা কাহফের শেষ দিকের আয়াতগুলো তেলাওয়াত করলে দজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ তেলাওয়াত করে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী স্থান আলোঝলমলে করে দেওয়া হবে।
সূরায় মৌলিকভাবে তিনটি কাহিনি এবং তিনটি উপমা রয়েছে। প্রথম কাহিনিটি আসহাবে কাহফ সম্পর্কিত। কয়েকজন ঈমানদার যুবককে মূর্তি পূজায় বাধ্য করা হচ্ছিল। কিন্তু তারা ঈমান রক্ষার জন্য বেরিয়ে পড়েন। একটি পাহাড়ের গুহায় তারা আশ্রয় নেন। গুহায় আল্লাহ তায়ালা তাদের ৩০৯ বছর ঘুম পাড়িয়ে রাখেন। ঘুম ভাঙার পর তাদের একজন খাদ্য সংগ্রহের জন্য শহরে এলে লোকজন তাকে চিনে ফেলে। তিন শতাব্দীর ব্যবধানে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে গিয়েছিল। শিরকপন্থিদের কর্তৃত্ব শেষ হয়ে গিয়েছিল। এক আল্লাহে বিশ্বাসীরা তখন ক্ষমতায়। ঈমানের জন্য কোরবান এই নওজোয়ানরা দেশ ও জাতির কাছে সাহসী বীর খেতাব পায়। (৯-২৬)।

দ্বিতীয় কাহিনিটি হজরত মুসা ও খিজির (আ.) এর আর তৃতীয় কাহিনি ফুলকারনাইনের। কাহিনি দুটি আগামীকাল তারাবির আলোচ্য বিষয়ে আলোচনা করা। এ কাহিনিগুলো ছাড়াও তিনটি উপমার উল্লেখ রয়েছে সূরা কাহফে।

প্রথম উপমাটি একটি গল্পের আকারে উল্লেখ করা হয়েছে। এক ব্যক্তি ছিল অঢেল সম্পদের মালিক। সম্পদের প্রাচুর্য দেখে সে আখেরাতের ব্যাপারে গাফেল হয়ে যায়। কেয়ামত অস্বীকার করে বসে। তার এক বন্ধু ছিল ঈমানদার, সে তাকে অনেক বোঝায়। কিন্তু সে সদুপদেশ শোনেনি। এক সময় তার ধনসম্পদ ও জনবল সব বিনাশ হয়ে যায়। তখন আফসোস করতে করতেই তার জীবন শেষ হয়। (৩২-৪৪)। মূলত আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসের পরিণাম কখনোই সুখকর হতে পারে না।

দ্বিতীয় যে উপমাটি মহান আল্লাহ তায়ালা এই সূরায় বর্ণনা করেছেন তা হলো, ‘আর তাদের সামনে দুনিয়ার জীবনের উপমা বলে দাও, দুনিয়ার উপমা হলো, যেমন আমি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করলাম। ফলে জমিনের উদ্ভিদের সঙ্গে মিলে তা ব্যাপক উৎকর্ষ সাধন করল। (জমিন ফলে ফুলে ভরে গেল।) এরপর (কী হলো?) সবকিছু শুকিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। বাতাসের প্রবাহে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।’ মূলত পৃথিবীর সবকিছুই অস্থায়ী ও নশ্বর। এসব নেয়ামত দেখে কেবল মূর্খ লোকেরাই ধোঁকার শিকার হতে পারে। প্রকৃত বুদ্ধিমানরা জানেন, এ জীবনের যাবতীয় উপকরণ সাময়িক সৌন্দর্যমাত্র, চিরস্থায়ী জীবনের জন্য কাজে লাগবে শুধুই নেক আমল। (৪৫-৪৯)

তৃতীয় হলো, অহংকার ও ধোঁকার উপমা। বিষয়টি আদম (আ.) এর সঙ্গে ইবলিসের কাহিনীর আলোকে বর্ণনা করা হয়েছে। ইবলিস অহংকার ও ধোঁকায় পড়ে আল্লাহর হুকুম সত্ত্বেও আদম (আ.) কে সিজদা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তার ধারণা ছিল, আমিই শ্রেষ্ঠ, আর যে শ্রেষ্ঠ সে কীভাবে তার নিচের কাউকে সিজদা করবে? (৫০)।

এ ঘটনার অন্তরালে মহান আল্লাহ মানুষকে শিক্ষা দিচ্ছেন, কখনোই অহংকার ও আত্মম্ভরিতার শিকার হবে না এবং আল্লাহর হুকুমের সামনে যুক্তিতর্ক খাটাবে না, কেননা বন্দেগির দাবি হলো নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য। যুক্তি উপস্থাপন ও অস্বীকার তো বন্দেগির খেলাফ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত