প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গডফাদারদের ধরতে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

রবিন আকরাম : এবার মাদকের গডফাদারদের ধরতে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার গডফাদারদের ধরতে রজধানীর সবচেয়ে বড় মাদকের পাইকারি বাজার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প রেইড দিয়েছে র‌্যাব। গতকালও ব্লক রেইড হয়েছে হাজারীবাগ ও তেজগাঁও রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে ‘অল আউট’ যুদ্ধ চলছে। ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ এই অভিযানে গতকাল পর্যন্ত ৮৬ জন মাদক ব্যবসায়ী র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে এমন ছয়টি সংস্থার পৃথক তালিকা অনুযায়ী সব মিলিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১৪ হাজার। ওই তালিকা থেকে ৫০০ ব্যবসায়ীর তালিকা করেছে মন্ত্রণালয়।

সমন্বিত এই তালিকা নিয়ে কাজ শুরু করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। এ তালিকায় অন্তত ১৭১ জন রয়েছেন মাদকের গডফাদার। এরাই সারা দেশে নিয়ন্ত্রণ এবং পৃষ্ঠপোষকতায় চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা। এদের মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা, তাদের ভাই ও সন্তানদের নাম। ৪ মে থেকে র‌্যাব এবং ১৮ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে ক্র্যাশ প্রোগ্রামে বিভিন্ন পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলেও গডফাদাররা অধরা থেকে যাওয়ায় নানা প্রশ্ন ওঠে। তবে গত তিন দিনে কক্সবাজারের এমপি আবদুর রহমান বদির বেয়াই আকতার কামাল এবং টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরাম র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, শিগগিরই শুরু হচ্ছে গডফাদারদের বিরুদ্ধে অভিযান। শুরুতে নিচের দিকের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান হওয়ায় গডফাদারদের ডালপালা কেটে যাচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, মাদক নামের ভয়ঙ্কর অপরাধের সঙ্গে জড়িত সবাইকেই আমরা খুঁজছি। পর্যায়ক্রমে সবাইকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কারও রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।

র‌্যাব সূত্র বলছে, সদর দফতরের নির্দেশনায় শুরুতে প্রতিটি ব্যাটালিয়নকে টপ ফাইভ মাদক ব্যবসায়ীর লিস্ট পাঠাতে বলা হয়। সে অনুসারে ১৪টি ব্যাটালিয়ন থেকে আসে ৭০ জন মাদক ব্যবসায়ীর নাম। পরবর্তী সময়ে প্রতি ব্যাটালিয়নের প্রতিটি কোম্পানিকে আলাদা করে ‘টপ ফাইভ’ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা করে পাঠাতে বলা হয়। সে অনুসারে মাদক ব্যবসায়ীর তালিকার আকার গিয়ে দাঁড়ায় ২৮০ জনে। এ তালিকার প্রত্যেকের ইতিহাস পর্যালোচনা করে শীর্ষ ২০০ ব্যবসায়ীর একটি তালিকা তৈরি করে র‌্যাব সদর দফতর। তালিকার বেশির ভাগ ব্যবসায়ীর নামেই রয়েছে কমপক্ষে তিনটি থেকে সর্বোচ্চ ১৫টি মামলা। তবে ২৮০ জনের তালিকায় অনেক প্রভাবশালীর নামে মাদকের মামলা না থাকলেও তাদের ‘হোয়াইট কালার ক্রিমিনাল’ হিসেবে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। তাদের গতিবিধির ওপর বিশেষ নজর রাখতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে র‌্যাব সদর দফতর থেকে।

বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিবুর রহমান বলেন, বিশেষ অভিযানের এক মাস আগে থেকেই আমরা সীমান্তে মিয়ানমারের বিজিপির সঙ্গে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছি। ওই অভিযানে অনেক সফলতাও এসেছে। বর্তমানে র‌্যাব-পুলিশ সফলতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে দেশের অভ্যন্তরে মন্ত্রণালয় যদি আমাদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তাহলে বিজিবি সদস্যরাও মাঠে নামবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত