প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঈদে আসছে মহাসড়কে মহাদুর্ভোগ

ডেস্ক রিপোর্ট : কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সারা দেশের সড়ক-মহাসড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতিতে দীর্ঘ যানজটে পড়ছেন যাত্রীরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেরও নাজুক দশা। মহাসড়কের বেহাল দশার কারণে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল। দাউদকান্দি ও মেঘনা এ দুই সেতুর টোলপ্লাজার ধীরগতির কারণে ছুটির দিনেও এ মহাসড়কে তীব্র যানজট লেগে থাকে। ঈদযাত্রায় এ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাকি নেই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সড়কগুলোও। ইতিমধ্যে তারা বাড়ি ফেরার বিকল্প বাহনের চিন্তায় রয়েছেন। বিদ্যমান সংস্কারের গতি ধীর হওয়ায় এবারও ঈদযাত্রায় যাত্রীদের দুর্ভোগের আতঙ্ক কাটছে না।

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম মহানগর এবং জেলা-উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-উপসড়কও এবারের ঈদযাত্রার সঙ্গী হবে। অনেক উপজেলার উপসড়ক দিয়ে হাঁটাও দায় হয়ে পড়েছে। তাছাড়া কোনো কোনো স্থানে বিভিন্ন সেবা সংস্থার উন্নয়ন কাজের পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনরায় মেরামত না করায় স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই আগামী ঈদে এসব ভোগান্তি-দুর্ভোগ চট্টগ্রামবাসীর সঙ্গী হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। নগরের সড়কগুলো নিয়ন্ত্রণ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), মহাসড়ক সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং উপজেলার সড়কগুলো নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, মহানগরে সড়ক আছে ১১০০ কিলোমিটার। গত বর্ষা মৌসুমে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়। বর্তমানে নগরীতে ৬৯২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ২০ মিটার গড় প্রস্থের অ্যাসফল্ট (পিচঢালা) সড়ক আছে ১১৯৭টি। ২৯৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ দশমিক ৫৫ মিটার গড় প্রস্থের কংক্রিট সড়ক আছে ১১৭৭টি। ৪২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ দশমিক ৫০ মিটার গড় প্রস্থের ব্রিক সলিং সড়ক আছে ২০৩টি। ৩৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ দশমিক ৮০ মিটার প্রস্থের কাঁচা সড়ক আছে ৩২৩টি। ১৬৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১ দশমিক ৮০ মিটার প্রস্থের ফুটপাথ আছে ১৩৮টি।

মোট ব্রিজ আছে ১৯৫টি। কালভার্ট ১০৩২টি। অন্যদিকে সওজ চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের অধীনে আছে ৬৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ২৬টি সড়ক। তাছাড়া দোহাজারী সড়ক বিভাগের অধীনে ৪০৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ২২টি সড়ক-উপসড়ক রয়েছে। চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নগরের অনেক সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ চলছে। তাছাড়া কিছু সড়কের নতুন করে উন্নয়ন করা হচ্ছে। ফলে বর্তমানে নগরে কিছু সড়ক দিয়ে যাতায়াত একটু অসুবিধা হওয়ার কথা। তবে কাজ শেষ হলে নগরবাসীকে সড়ক নিয়ে আর সমস্যায় পড়তে হবে না।’

সওজ চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বিভাগের অধীনে থাকা ৬৭০ কিলোমিটার সড়কে কোনো খানাখন্দ নেই। কোনো সড়ক যদি সামান্য ক্ষতিগ্রস্তও হয় তা আমাদের টিম সঙ্গে সঙ্গে মেরামত করে দিয়ে আসে। তাই ঈদে আমাদের সড়ক নিয়ে কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে না।’

সওজ চট্টগ্রাম দোহাজারী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল মিয়া বলেন, ‘আমাদের অধীনের সব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত এমন নয়। তবে এক একটি সড়কের কিছু কিছু অংশ খারাপ আছে তা ঠিক। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে আমাদের টিম নিয়মিত কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘সাতকানিয়া-কেরানীহাট সংযোগ সড়ক সংস্কারে বর্তমানে ৭০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলমান। তাছাড়া এই অংশের আরও কিছু সড়কের উন্নয়ন কাজ চলবে।’ সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরের বহদ্দারহাট থেকে কর্ণফুলী শাহ্ আমানত সংযোগ সড়কটির অবস্থা এখন চরম বেহাল। সড়কের রাহাত্তারপুল, কালামিয়া বাজার ও রাজাখালী অংশে আছে বড় বড় গর্ত। মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই অপরিবর্তিত। মাঝে মাঝে ভাঙা ইট দিয়ে সংস্কার করা হলেও কয়েক দিন পর আবার বড় গর্তে পরিণত হয়।

এ সড়কের বিবিরহাট, হামজারবাগ, রৌফবাদ ও আতুরার ডিপো এলাকার সড়কের অবস্থা নাজুক। দুই নম্বর গেট-অক্সিজেন সড়কের বেবি সুপার মার্কেট, টেকনিক্যাল মোড়, বায়েজিদসহ বিভিন্ন স্থানে গর্তের কারণে যান চলাচল চরম দুুরূহ হয়ে পড়েছে। অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আছে নগরের বাণিজ্যিক এলাকা খ্যাত আগ্রাবাদ এক্সেস রোড।

কুমিল্লার আঞ্চলিক মহাসড়কও বেহাল : কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কজুড়ে পিচ, ইট-পাথর উঠে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দেখায় মহাসড়ক না পুকুর, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দেড় বছর ধরে মহাসড়ক দুটির বেহাল দশা বিরাজ করছে। এতে পরিবহন মালিক, স্টাফ ও যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বাড়ছে যানজট এবং দুর্ঘটনা। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৪৫ কিলোমিটারের অধিকাংশই খানাখন্দকে ভরপুর। এ সড়ক দিয়ে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ দক্ষিণ আঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর এবং কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে।

যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট গর্ত ক্রমান্বয়ে বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। এতে সড়কের পিচ ও ইটাগুলো উঠে কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। বেহাল এই সড়কের মধ্য দিয়ে যানবাহন হেলেদুলে চলাচল করছে। এর মধ্যে প্রতিদিনই এ অংশে যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক বিকল হয়ে পড়ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড থেকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি পর্যন্ত রাস্তার অধিকাংশেই ছোট-বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন স্থায়ী কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে গণপরিবহনসহ অন্যান্য যানবাহন। ভাঙা রাস্তায় চলাচলের কারণে যাত্রীদের কোমর ভাঙার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড তেলের পাম্পের সামনের অংশ, বাগমারা বাজার, আলীশ্বর বাজার, লাকসাম অংশে লাকসাম বাইপাস, মিশ্রী, নশরতপুর, রেলওয়ে জংশন, ছিলোনিয়া, ভাটিয়াভিটা, চন্দনা, খিলাবাজার, নাথেরপেটুয়া বাজার, বিপুলাসার বাজার এবং সোনাইমুড়ির বেশ কয়েকটি জায়গায় সবচেয়ে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। এর মধ্যে সামান্য বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। গর্তগুলো বড় হওয়ায় এবং পিচ ঢালাই উঠে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি আটকে বড় ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তখন এটিকে রাস্তা নয়, খাল বা ডোবানালা মনে হয়।

এদিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। বেশি বেহাল অবস্থা কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সফুরা থেকে মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ গোমতী ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়ক। দায়সারাভাবে সংস্কারের কারণে বছর না যেতেই সড়কগুলো খানাখন্দে ভরে যাচ্ছে। দেবিদ্বার পৌরসভার ভিরাল্লা, বারেরা, নিউমার্কেট বাসস্ট্যান্ড, পোস্ট অফিস সংলগ্ন, রেয়াজ উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, দেবিদ্বার থানা সংলগ্ন ও মহিলা কলেজ হয়ে ভিংলাবাড়ি মির্জানগর পর্যন্ত এখন মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে দুর্ঘটনা। বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে দেবিদ্বার রেয়াজউদ্দিন মডেল স্কুলের প্রধান ফটকের সামনের অংশটি। বেশির ভাগ স্থানেই কার্পেটিং উঠে গেছে। আবার কোথাও কোথাও ইট উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।বাংলাদেশ প্রতিদিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত