প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিবিসির বিশ্লেষণ
তিস্তা প্রশ্নে নমনীয় মমতা ব্যানার্জি

ডেস্ক রিপোর্ট : কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলে শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শান্তি নিকেতনে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন এবং বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বৈঠক করার কথা জানিয়েছিলেন। বৈঠক শেষে মমতা ব্যানার্জি গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার তিস্তা পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু তিনি এখনই প্রকাশ করবেন না।

বিবিসি বাংলা’র খবরে বলা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহলের মতো বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হলেও বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি। বাংলাদেশকে পানি দিলে পশ্চিমবঙ্গে শুষ্কতা দেখা দেবে এমন যুক্তিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা শুরু থেকেই এ চুক্তির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তবে ভারত আর বাংলাদেশের কয়েকটি সূত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে মমতা ব্যানার্জি আগে যে অনড় অবস্থানে ছিলেন, এখন সেই বরফ আস্তে আস্তে গলতে শুরু করেছে। তার মানে এ নয় যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা যে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে এখনই প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিচ্ছেন। দুই দেশের কারো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানোর ফলে এখনই নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না যে তিস্তা নিয়ে মমতা অবস্থান বদল করেছেন কি-না। তারপরও আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন অনেকে।

তবে সবপক্ষই এটা স্বীকার করছেন যে, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে যে জটিল সমস্যা রয়েছে, তার চটজলদি কোনো সমাধান নেই। বেসিন ম্যানেজমেন্ট বা অববাহিকা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। মমতা ব্যানার্জি যেটা বরাবর বলে আসছেন, যে পশ্চিমবঙ্গে তিস্তা যখন নেমেছে, তার আগেই সিকিমে অনেকগুলো জলবিদ্যুত্ প্রকল্প তৈরি হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্যই নদীর পানি সাময়িকভাবে ধরে রেখে তারপরে তা ছাড়া হয়। এতগুলো প্রকল্পে সাময়িকভাবে পানি ধরে রাখার কারণেই পশ্চিমবঙ্গে আসার পরে তিস্তার প্রবাহ খুবই ক্ষীণ হয়ে গেছে। পানি প্রায় নেই বললেই চলে। যেটুকু আছে, তা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের চাষের প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে না। তাই বাংলাদেশকে পানি দেওয়ার আগে নিজের রাজ্যের কৃষকদের প্রয়োজনের কথাটাই মমতা ব্যানার্জির কাছে অগ্রাধিকার পায়। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওই বৈঠকে বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে যে দীর্ঘ সীমান্ত আছে, তার সুরক্ষা আর সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

গত বছর দুই দেশের বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হলেও বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষিত তিস্তা চুক্তি হয়নি। তবে সে সময় মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দুই সরকারের মেয়াদ থাকা অবস্থাতেই এ চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এ বৈঠকের আগে শুক্রবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে যে নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন, সেখানেও মমতা ব্যানার্জি আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। ওই আলোচনা নিয়েও কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি। শান্তি নিকেতনে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছিল সেখানে, তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যুটি আলোচিত হয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইত্তেফাক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত