প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘স্যার সরকারি গাড়ি কথা শোনে না’

তুষার আবদুল্লাহ: ঢাকায় অনুপস্থিত ছিলাম। সড়ক পথে উত্তর থেকে ফেরার সময় দেখছিলাম ঝলমলে বিপণী-বিতান। আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে জেলা-উপজেলার বিপণী-বিতানগুলো। দুই-একটি সদর ইউনিয়নেও দোকানে দোকানে সাজসজ্জা দেখতে পেলাম। বাহনে বসে থেকে স্পষ্টই অনুমান করে নেওয়া গেলো, যে পণ্যের জন্য নিকট অতীতেও গ্রাম-গঞ্জ থেকে ক্রেতাকে ঢাকায় ছুটে আসতো হতো, সেই পণ্য এখন তার ঘরের পাশেই। গুণগত মানের পার্থক্য কমে এসেছে। মানুষের উপযোগ মেটানোর সুযোগ বেড়েছে, কোনও কোনও শ্রেণির বেড়েছে সক্ষমতাও। জেলা শহরগুলোয় ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের মোটরগাড়ির সংখ্যা ছিল হাতেগোনা এই সেদিনও। এখন সেই মোটরগাড়ি জেলা-উপজেলা-পৌর এলাকার যানজটের কারণ। একইসঙ্গে সব ধরনের শহরের যন্ত্রণা এখন ইজিবাইক বা অটো। বিপণী-বিতানকে ঘিরে সব বাহনের ভিড়। পুরো শহরই যখন বিপণী-বিতানে পরিণত হয়ে গেছে, তখন যন্ত্রণার কেন্দ্র আর একটি থাকেনি। শহরজুড়ে সেই যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় নগর, জেলা পুলিশের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশও এই যানজট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। শহরে শহরে ঘুরে দেখলাম—কোনও কোনও এখানে-সেখানে নিজেদের মতো করে গাড়ি পার্ক করে রেখেছে। মাঝ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে ওঠানামা এবং কেনাকাটা করছে। উল্টো দিকে যাতায়াতও করছে নিজেদের খেয়াল খুশি মতো। এই গাড়িগুলো কোনও সংকেত পরোয়া করছে না। কোনও কোনও মোড়ে যখন গাড়ির গতি কমে আসে, বা অনর্থক আটকে থেকেছি, তখন ট্রাফিক পুলিশ বা কমিউনিটি পুলিশকে বলছিলাম—ছোট শহরেও যানজট? তাদের জবাব ছিল মজার—‘ছোট শহরে বড় ভিআইপি আছে ভাই। সরকারি লোক কথা শোনে না’। পাল্টা জানতে চেয়েছিলাম—বেসরকারি লোক শোনে? উত্তর পাই—কেউ ডরায়। আবার বেসরকারিতেও ভিআইপির অভাব নেই।

মহাসড়ক ধরে যখন ঢাকায় ফিরছিলাম, তখন পথে পথে আটকা পড়তে হয়েছিল অনির্ধারিত যানজটে। সড়কের উন্নয়ন কাজ যেখানে হচ্ছিল, তাতো মোটামুটি জানা, কিন্তু অন্যত্র হঠাৎ আটকে থাকা কেন? দুই-একটি জায়গায় বাস-ট্রাক, নসিমন-করিমনের ঝামেলা যানজটের কারণ, একথা সত্য। কিন্তু তারচেয়েও বেশি সত্য সরকারি-বেসরকারি দফতরের যানবাহনের আয়েসী চলা, উল্টো পথ ব্যবহার এবং অহেতুক ব্যক্তিগত কাজে ওই বাহনগুলোর পথ আটকে বসে থাকা। ওই সময় ট্রাফিক পুলিশের অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। মহাসড়কে দুই-একটি যানজটের জটলার রহস্য খুঁজতে গিয়ে তেমন অভিজ্ঞতাই হলো।

ঢাকায় ফিরে বিভিন্ন এলাকায় ছুটতে হচ্ছিল ব্যক্তিগত ও দাফতরিক কাজে। গতকাল ছিল রমজানের দ্বিতীয় শুক্রবার। বিপণী-বিতান ঘিরে মানুষের ঢল। প্রথম শুক্রবার পহেলা রমজান হওয়ায় কেনাকাটা শুরু করেননি ক্রেতারা। কাল (২৫ মে) মোটামুটি অনেকেই মার্কেটমুখী হয়েছিলেন। সক্ষমতা বাড়ায় ব্যক্তিগত ও ভাড়া গাড়ি ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম নয়। তাই প্রতিটি মার্কেট ঘিরে রেখেছিল গাড়ি। মার্কেটের সামনে দুই সারি করে গাড়ি রাখায় সব সড়কেই কম-বেশি বড় যানজট তৈরি হয়েছিল। যাত্রীরা মাঝপথে গাড়িতে উঠছিলেন, নামছিলেন। ট্রাফিক পুলিশ, সার্জেন্ট, ইনস্পেক্টর, সহকারী কমিশনার মিলিয়েও রাস্তা হালকা করতে পারছিলেন না। অনুরোধ, উপরোধ, ধমক দিয়েও কোনও কোনও গাড়িকে সরানো যাচ্ছিল না। উল্টো বিভিন্ন গাড়ি থেকে তাদের ওপর চড়াও হচ্ছিলেন যাত্রীরা। যেন মাঝরাস্তায় গাড়ি রাখা তাদের অধিকার। দুই-একজন হর্তাকর্তার চোখ রাঙানি যে দেখলাম না, তা নয়। এর মাঝে সংবাদপত্র, টেলিভিশনের স্টিকার বা সাংবাদিক লেখা বাহনও দেখলাম। খবর সংগ্রহে নয়, ব্যক্তিগত কেনাকাটার জন্য আসা। সবাই বেশ দাপুটে। দুর্বল কেবল ট্রাফিক। এক বড় আকারের বিপণী-বিতানের চারমুখেই বড় জটলা। বলা যায়, চার সারি করে গাড়ি রাখা। ওই মার্কেটে আসার সব সড়কের মুখেও যানজট। চার সড়কের মাঝে দুই প্রান্ত আছে দু’টি ট্রাফিক ছাউনি। সেখানে ট্রাফিক পুলিশ জটলা বেঁধে বসে আছেন কয়েকজন কর্তাকে নিয়ে। বসে বসে যানজট দেখছেন। সব কিছু করার উপায় হারিয়ে বসে থাকা। এরমাঝে একজন কর্তার কাছে তার ওপরের কর্তার ওয়াকিটকি বার্তা এলো। জানতে চাওয়া হয়েছে—কেন জট লেগে আছে। কর্তা ওপরের কর্তাকে জানালেন—‘স্যার সব রকম চেষ্টা করলাম। সরকারি গাড়ি তো আমাদের কথা শোনে না। তবু আমরা আবার নামছি স্যার।’ সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত