প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুমিল্লায় পুলিশের নজরদারিতে প্রায় সাড়ে ৯ শত মাদক ব্যবসায়ী

সেলিম সজীব : মাদকবিরোধী অভিযানে গত চার দিনে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কুমিল্লায় আটজন নিহত হয়েছে। এর পর পরই গা-ঢাকা দিয়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা। পুলিশ জানায়, কুমিল্লায় ৯৩১ জনের একটি তালিকা নিয়ে মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে নগরীসহ জেলার ১৭টি উপজেলার বিভিন্ন স্পটে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। গত কয়েক দিনের অভিযানে মাদক মামলার বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কোনো ‘গডফাদার’ গ্রেফতারের দাবি করতে পারেনি পুলিশ।

ভারত সীমান্তলগ্ন কুমিল্লা জেলার পাঁচটি উপজেলায় মাদক পাচারের শতাধিক স্পট রয়েছে। এখানে হাত বাড়ালেই মেলে ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছে শিশু, কিশোর, নারীরাও। জানা যায়, কুমিল্লার ৭৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবাধে চলে মাদক ও ভারতীয় বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান। সীমান্তের এপারে পুলিশ-বিজিবি ও ওপারে বিএসএফের সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকলেও রহস্যজনক কারণে এ তত্পরতা থামছে না। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে সীমান্তে পূর্ণ শক্তি নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে চোরাকারবারিদের সিন্ডিকেট। আর এ সময়ই শুরু হয়েছে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দেয়া তথ্যমতে, গত চারদিনে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানকালে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আট মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এর পর থেকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে চলে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার আদালতে মাদক আইনে বিচারাধীন রয়েছে ১৯ হাজার ১৮টি মামলা। এসব মামলায় আসামি রয়েছে ১৮ হাজারেরও বেশি মাদক ব্যবসায়ী। এর মধ্যে ১৮ হাজার ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা, ৯৩১ জনের বিরুদ্ধে তিনটি, ২১৩ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি, ৮৩ জনের বিরুদ্ধে সাতটি, ১৬ জনের বিরুদ্ধে ১০টি, ছয়জনের বিরুদ্ধে ১২টি ও চারজন আসামির বিরুদ্ধে রয়েছে ১৫টি করে মাদক মামলা। আর পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে ২৭৮টি মামলা। আসামিদের অনেকেই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আবার আগের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। এসব মামলায় অভিযুক্ত ৯৩১ জনের তালিকা নিয়েই মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

তবে গত কয়েক দিনের অভিযানে মাদক ব্যবসার মূল হোতারা গ্রেফতার না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সহসভাপতি মো. ওমর ফারুক বলেন, কুমিল্লার প্রতিটি অলিগলি মাদকে ছেয়ে গেছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ও চলমান অভিযান মাদক নির্মূলে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই আশা করেন তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যত বড় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হোক না কেন, কারো প্রতি কোনো অনুকম্পা দেখানো হবে না। এক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছি। মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তালিকা বড় কথা নয়, মাদকের সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র : আজকের কুমিল্লা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত