প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোজার মাসআলা: যা না জানলেই নয়-১

ওমর শাহ: ঢেকুর আসলে রোজা ভাঙ্গবে?
সেহরির সময় কোনো ব্যক্তি এত পরিমাণ খেয়েছে যে, সূর্যোদয়ের পর তার মধ্যে ঢেকুর আসতে শুরু করে। সঙ্গে পানিও বের হয়। এর দ্বারা রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। (সূত্র : ফাতাওয়া রশিদিয়া, পৃষ্ঠা ৩৭১)।

সেহরি না খেলে রোজা হবে?
সেহরি খাওয়া সুন্নত, এটি রোজার অংশ নয়। সেহরি না খেলেও রোজা হয়ে যায়। (মুসনাদে আহমদ ২/৩৭৭; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৬৯৭) আর রমজান মাসে কোনো কারণে রাতে নিয়ত করতে না পারলে এবং সুবহে সাদিকের পর থেকে রোজা ভঙ্গের কোনো কারণ পাওয়া না গেলে দুপুরের আগ (অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়ের আগ) পর্যন্ত নিয়ত করার সুযোগ থাকে। তবে রাতে নিয়ত করে নেওয়াই উত্তম।
[শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৪০৪; কিতাবুল আছল ২/২২৬; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৯]

ভুলে ইফতার করে ফেললে রোজা হবে?
সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর দেখা গেল এখনো সূর্যাস্ত হয়নি। এমন অবস্থায় রোজা কি ভেঙে যাবে? ভেঙে গেলে একটি রোজা কাজা করাই কি যথেষ্ট হবে, নাকি কাফফারাও দিতে হবে? এ ক্ষেত্রে রোজা ভেঙে যাবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে হুকুম হলো, ভুল সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবে এবং পরবর্তী সময়ে একটি রোজা কাজা করে নেবে। তবে কাফফারা আদায় করতে হবে না। হজরত হানজালা (রা.) বলেন, ‘আমি রমজান মাসে হজরত উমর (রা.)-এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে কিছু পানীয় পেশ করা হলো এবং কেউ কেউ সূর্য ডুবে গেছে মনে করে তা পান করল। তখন মুয়াজ্জিন উচ্চৈঃস্বরে বললেন, আমিরুল মুমিনিন! আল্লাহর কসম, সূর্য এখনো ডোবেনি, তা উদিত অবস্থায় আছে। তখন হজরত উমর (রা.) বললেন, যারা ইফতার করে ফেলেছে, তারা যেন তার পরিবর্তে আরেকটি রোজা রাখে। আর যারা ইফতার করেনি, তারা যেন সূর্যাস্ত পর্যন্ত তা পূর্ণ করে।’ [মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ৬/১৫০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৩৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ৩৬৯; ফাতহুল কাদীর ২/২৯০]

খেজুর দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব
খেজুর দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব। খেজুর না পেলে পানি দ্বারা ইফতার শুরু করবে। আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যার কাছে খেজুর আছে সে খেজুর দ্বারা ইফতার করবে। খেজুর না পেলে পানি দ্বারা ইফতার করবে। কেননা পানি হল পবিত্র।’ সুনানে তিরমিযী হাদীস : ৬৯০ আরো দেখুন : মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৭৫৮৬

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত