প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফলে রাসায়নিক, ফরমালিন ব্যবহার: কী বলে ইসলাম?

আমিন মুনশি: ভোক্তাকে ঠকিয়ে অধিক মুনাফা লাভের জন্য যেসব পন্থা অবলম্বন করা হয় সেগুলোর অন্যতম হলো ধোঁকা বা প্রতারণা। আর প্রতারণার আশ্রয় তারাই নেয় যারা পণ্যে ভেজাল দেয়। এটি একটি গুরুতর অপরাধ। এর দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্রে মানুষের মধ্যে আস্থা ও সম্প্রীতি নষ্ট হয়। তাই ইসলাম ব্যবসায় ক্রেতাদের ধোঁকা দিয়ে মুনাফা অর্জন করা নিষেধ করেছে এবং এর সব রূপ ও পন্থাকে হারাম করে দিয়েছে, চাই তা ক্রয়-বিক্রয়ে হোক কিংবা অন্যান্য মানবীয় ব্যাপারেই হোক, কোনো ক্রমেই তা জায়েজ নয়। অতএব ভেজাল পণ্যের উৎপাদন, বিপণন ও সংরক্ষণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ এবং অবৈধ। ইসলামের দাবি হচ্ছে, সব ব্যাপারেই প্রত্যেক মুসলিম সততা ও ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করবে। পণ্যদ্রব্যে রাসায়নিক কেমিক্যাল, ফরমালিনসহ যেকোনো ভেজালপ্রবণতার ফলে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য অস্বাস্থ্যকর ও বিভিন্ন রোগের নিয়ামক শক্তিরূপে পরিণত হয়। খাবার থেকেই যেমন মানুষের রক্ত সৃষ্টি হয়, তেমনি তা থেকেই রোগের উৎপত্তি ঘটে। ফলে এর বিষাক্ত ছোবলে অসংখ্য মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কুরআন মাজিদে এ ধরনের গুপ্তহত্যাকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘এ কারণেই আমি ইসরাইল জাতির জন্য এ বিধান দিলাম যে, কেউ কাউকে হত্যা করলে তার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া অথবা কেউ দুনিয়ায় বিশৃঙ্খলা-বিপর্যয় সৃষ্টি করলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া ছাড়াও কেউ যদি কাউকে (অন্যায়ভাবে) হত্যা করে তাহলে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করল’। (সূরা মায়িদা, ৫:৩২)

খাদ্য ও পণ্যে ভেজাল দেয়ার ফলে ভেজাল মেশানোর কাজে জড়িত ব্যক্তি অপরের ক্ষতিতে সচেষ্ট হয়। শুধু তা-ই নয় বরং সে নিজেও অন্যের ভেজালে আচ্ছাদিত হয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কেননা সে তো এ সমাজেরই একজন সদস্য। মহান আল্লাহ এমন কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ইরশাদ হয়েছে  ‘তোমরা একে অপরকে হত্যা কোরো না’ (সূরা নিসা, ৪:২৯)

অধিক মুনাফা লাভের নেশায় ফরমালিন বা ক্ষতিকর কোনো দ্রব্য খাদ্য বা পণ্যে মিশিয়ে কিংবা মন্দ লুকিয়ে রেখে বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপন করা ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘মহানবি [সা.] একদা একটি খাদ্য স্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্তূপটির মধ্যে তাঁর হাত ঢুকিয়ে দিলেন। তাতে তাঁর হাত ভিজে গেল। মহানবি [সা.] বিক্রেতাকে বললেন, এটা কী হচ্ছে? সে বলল, এগুলোকে বৃষ্টিতে পেয়েছিল। তিনি বললেন, তুমি কেনো ভেজা অংশকে বাইরে রাখলে না, যাতে লোকেরা তা দেখে নিতে পারে। জেনে রেখো, যারা প্রতারণা করে, তারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’ (জামে তিরমিজি) তিনি আরো বলেন, ‘কোনো পণ্যের দোষক্রটি না বলে বিক্রি করা হালাল নয়। আর জানা সত্ত্বেও না বলা হারাম’ (মুসলিম)
পণ্যে ভেজালকারীদের ব্যাপারে আল্লাহর হাবীব এরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন সব ব্যবসায়ীকে অপরাধী হিসেবে আল্লাহর সামনে উপস্থিত করা হবে, তবে যারা পরহেজগার ও সৎ তারা ব্যতীত’। (মিশকাত)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত