প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘গদি’র রাজনীতি : কোথায় আমাদের মুক্তি?

রাজেকুজ্জামান রতন: আমাদের নির্বাচনি ব্যবস্থা খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। অনাস্থা, অবিশ্বাস, সন্দেহ এত প্রবল হয়ে উঠেছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এই কথা দলের ব্যক্তিও বিশ্বাস করতে চায় না। কখনো কখনো কেউ কেউ বলেন, নির্বাচনে তো আমরা জিতেই গেছি, শুধু ফলাফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতাই বাকি। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি যখন এ ধরনের কথা বলেন তখন সন্দেহ হয়, ঘটনা কি তবে সেদিকেই এগোচ্ছে? যাচাই-বাছাই করার পথ, গ্রহণ ও বর্জন করার পথের সঙ্গে কোন সংস্কৃতি যুক্ত?

নির্বাচিতদের আমরা স্বৈরাচার হতে দেখেছি। ফলে নির্বাচনটা একটা দায়বদ্ধতা, জবাবদিহিতা। যে মানুষ আমাকে পছন্দ করেছে তার প্রতি আমার দায়। যে মানুষ আমাকে পছন্দ করেনি তার কাছেও আমাকে জবাব দিতে হবে যে, আমি কিন্তু জনগণের স্বার্থেই কাজটা করতে চেয়েছিলাম। দায়বদ্ধতা এবং জবাবদিহিতা দুটো না থাকলে গণতন্ত্র কিন্তু কাজ করে না।

একবার গদিতে বসতে পারলে সমস্ত কিছু আমার। যে জিতে গেল তার হাতে সবকিছু! যে হেরে গেল তার জীবন বাঁচানোই কঠিন। এই পরিস্থিতির মধ্যে হেরে যাওয়ার ভয় একটা আতঙ্ক সৃষ্টি করে। জিতে যাওয়ার লোভ যেমন তাড়না করে, হেরে যাওয়ার ভয় তেমনই তাড়া করে তাদেরকে। দায়িত্বশীলতায় তারা পরিচালিত হচ্ছে না। তারা মনে করে হেরে গেলে আমার ব্যবসায়-বাণিজ্য সমস্ত কিছু থেকে আমি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ব। যারা জিতবেন তাদের আত্মদ্বন্দ্বের শিকার হবো। পাল্টাপাল্টি রাজনীতিতে সমস্ত কিছুই বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি বিচার-বিবেচনাও।
পরিচিতি : কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাসদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত