প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সম্মেলন না হওয়ায় আ.লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হতাশ

মো.ইউসুফ আলী বাচ্চু: ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ৫ টি সহযোগী সংগঠন বাদে সব গুলো সংগঠনের সম্মেলন শেষ হয়েছে। এখন ও বাকী রয়েছে, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ, শ্রমীক লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। সর্বশেষ ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। যদিও এখন পর্যন্ত কোন কমিটি ঘোষনা করা হয়নি। সময়মত সম্মেলন না হওয়ায় বাকি সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ আর হতাশা।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করার অংশ হিসেবে সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ টি সংগঠন বাদে সকল সংগঠনের সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়।

যুবলীগের জাতীয় সম্মেলন সম্পর্কে জানতে চাইলে, আওয়ামী যুবলীগের সাধান সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ ক্ষেত্রে যুবলীগকে অনেক দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করতে হবে এজন্য সংগঠনে গতিশীল করা এবং নতুনদের নেতৃত্বে সৃষ্টি করতে অবশ্যই সম্মেলন প্রয়োজন আছে কিন্তু আমরা চাইলেই তো আর সম্মেলন করতে পারি না। আমাদের অবিভাক জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন চাইবেন তখন সম্মেলন হবে। আমরা সাংগঠনিক ও মানষিক ভাবে প্রস্তুত আছি।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এ্যাড. মোল্লা আবু কাওছার বলেন, নিয়মিত দলের সম্মেলন না হলে কর্মীদের কর্মতৎপরতা কমে যায়। দল ক্ষমতায় থাকলে প্রত্যেকের কিছু চাওয়া থাকে এজন্য দক্ষ নেতৃত্ব তৈরিতে সম্মেলনের কোন বিকল্প নাই। আমাদের প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলেই সম্মেল হবে।

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ বলেন, নুতুন নেতৃত্ব ও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সম্মেলন প্রয়োজন। কিন্তু আমরা ইচ্ছা করলেই তো সম্মেলন করতে পারি না। এটা সম্পুর্ন নির্ভর করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছার ওপর তিনি যখন নির্দেশ দিবেন তখনই সম্মেলন হবে আমরা সাংগঠনিক ভাবে প্রস্তুত আছি।

বাংলাদেশ কৃষকলীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন বলেন, সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে এমনকি সারা বাংলাদেশের ৮-১০ টি কমিটি বাদে সকল সাংগঠনিক কমিটি আমাদে করা হয়েছে। আশাকরি রমজানের পরে বাকি কমিটিগুলো হয়ে যাবে। পুর্বের ন্যায় আমাদের ৪ সংগঠনের সম্মেলনের মত এবারও একসাথে হবে বলে আমার মনে হয়। আওয়ামীলীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন চাইবেন ঠিক তখনই সম্মেলন হবে।

সম্মেলনের বিষয় জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যে কোন সংগঠনে গতিশীলতা আনতে হলে সম্মেলন প্রয়োজন। সহযোগী সংগঠনের জাতীয় সম্মেলন একটি চলমান প্রক্রিয়া সময় সুযোগ মত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
গঠনতন্ত্র অনুমোদিত সংখ্যার বাইরে অনেক পদ দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গঠনতন্ত্রের বাইরে কোন ভাবেই পদ দেয়ার সুযোগ নাই। যদি কেহ একাজ করে থাকে তা বেআইনি।

২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি দলের সভাপতির ধানন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহযোগী সংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দেন। সেদিনই তিনি মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, তাঁতী লীগ এবং আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেন। এছাড়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ শ্রমিক লীগ এবং কৃষক লীগের সম্মেলন করা হবে বলে তিনি জানান। তবে এ ৪টির সম্মেলনের তারিখ আর ঘোষণা করা হয়নি।

দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় সংগঠনে নেতৃত্ব বিকাশের পথ অবরুদ্ধ হয়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, দল সরকারে থাকায় যারা সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন এবং নেতৃত্বে আছেন তারা সংগঠনকে এক রকম জিম্মি করে রেখেছেন। তাদের ইচ্ছার বাইরে এ সংগঠনে কেউ কোনো কিছু করতে পারছে না।

মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে – গঠনতন্ত্র অনুমোদিত সংখ্যার বাইরে অনেক পদ দেয়া হয়েছে। আর এসব করা হয়েছে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে। এসব কারণে উল্লেখিত সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মাঝে রয়েছে চরম ক্ষোভ আর হতাশা।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সাতটি সহযোগী ও তিনটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন রয়েছে। সহযোগী সংগঠনগুলো হল- যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, তাঁতী লীগ ও আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। আর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো হল-শ্র্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত