প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজারবাগ-কমলাপুর সড়কে ঢুকলেই বিপদ

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর রাজারবাগ মোড় থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের দিকে যাওয়ার রাস্তাটি বেশ চওড়া এবং অনেকটা যানজটমুক্ত থাকে। বর্তমানে সে অবস্থা আর নেই। এখন এ রাস্তায় কোনো যানবাহন বা পথচারী ঢুকলেই পড়ছেন বিপদে। এ রাস্তায় এখন ঢোকা সহজ হলেও বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন। কারণ আর কিছুই নয়, খোঁড়াখুঁড়ি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ‘নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ’ প্রকল্পের আওতায় এ সড়কে ছয় ফুট ব্যাসের রিং বসানো হচ্ছে। এজন্য রাস্তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ১০ ফুট চওড়া করে খোঁড়া হচ্ছে। আর যত বিপত্তি বর্ষা মৌসুমের এ খোঁড়াখুঁড়িতেই। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এ সড়কের পাশে অবস্থিত কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা। ভোগান্তির শেষ নেই এখানকার হাসপাতালের রোগীদেরও। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তারা নিরুপায়। এ ‘নিয়তি’ তাদের মেনেই যাতায়াত করতে হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাজারবাগ চৌরাস্তা মোড় (খিলগাঁও রেলগেট-ফকিরাপুল এবং মালিবাগ-কমলাপুর সড়কের মিলনস্থল) থেকে কমলাপুরের দিকে যেতে বাঁদিকে ছয় ফুট ব্যাসের ২০টি রিং কোথাও সারি সারি, কোথাও এলোমেলোভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে রাস্তার অর্ধেকের মতো দখল হয়ে আছে। কিছুদূর এগোলেই দেখা যাচ্ছে খোঁড়াখুঁড়ি। রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে খোঁড়াখুঁড়ির যন্ত্র। চৌরাস্তা মোড় থেকে পীরজঙ্গি মাজার পর্যন্ত খোঁড়াখুঁড়ির কাজ অনেকটা শেষ হয়েছে। কিছু অংশ বালু ও ইটের খোয়া দিয়ে ভরাট করা হলেও এখন গাড়ি চলাচলের উপযোগী হয়নি। এ কারণে রাস্তাটিকে ‘পার্কিং লট’ বানিয়ে পেলেছেন অনেকে। এতে রাস্তার একপাশ দিয়ে যান চলাচল একেবারেই বন্ধ। আর অপর পাশে পানি জমে থাকায় সেটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। এর চাপ পড়েছে শাহজাহানপুর অংশে ঢোকার রাস্তায়। এখানে দীর্ঘ যানজট এখন নিত্যসঙ্গী।

এ ছাড়া এখানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও প্যানপাসিফিক হাসপাতাল। এসব হাসপাতালে আসা গাড়ি সড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে চলাচলের জায়গা একদম কমে গেছে। হাসপাতালে সেবাপ্রার্থী অসুস্থ ব্যক্তিদের আসা-যাওয়ায় বেশ ভোগান্তি হচ্ছে। আবার রাস্তার বিপরীত পাশে মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মতিঝিল কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরাও সমস্যায় পড়ছে। ছাত্রছাত্রীদের আনা- নেওয়ার গাড়িগুলো অনেক ক্ষেত্রে স্কুলের সামনে যেতে পারছে না। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে শিক্ষার্থীদের হেঁটে গিয়ে উঠতে হচ্ছে।

ওই এলাকার বসবাসকারী, হাসপাতালের সেবাপ্রার্থী, দোকানদাররা বলছেন- উন্নয়ন হচ্ছে, সেটা অবশ্যই ভালো; কিন্তু মূল সড়কে এ ধরনের কাজ করার ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা বের করে নেওয়া দরকার। এ ছাড়া যত দ্রুত সম্ভব কাজগুলো শেষ করে স্বাভাবিক চলাফেরার ব্যবস্থা করা দরকার। কিন্তু সিটি করপোরেশন বা ঠিকাদারদের মধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ আছে বলে মনে হয় না। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি।

প্যানপাসিফিক হাসপাতালে স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন মাজহার হোসেন। খিলগাঁওয়ের এ বাসিন্দা সমকালকে বলেন, কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে আসছি, একই অবস্থা দেখছি। এখানে যানজট লেগেই থাকছে। সিটি করপোশেন বা ঠিকাদার কেউ জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি ভাবছে না।

এ হাসপাতালের পাশের দোকানদার আমির হোসেন বলেন, অনেকদিন ধরে কাজ হচ্ছে। সাধারণত রাতে খোঁড়াখুঁড়ি হয়। দিনের বেলা ভরাটের কাজ করে। কিন্তু ভরাটের কাজটি ভালোভাবে না হওয়ায় সে অংশ দিয়ে চলাচল করা যায় না। তিনি বলেন, ড্রেন বন্ধ থাকায় রাস্তায় পানি জমে যাচ্ছে। এ পানি সরানোরও কোনো উদ্যোগ নেই। এ সময় দোকানে দাঁড়ানো আবদুস সবুর বলেন, বড় বড় রিং এনে রাস্তা আটকে রাখার দরকার নেই। যখন দরকার তখনই আনা যেতে পারে; কিন্তু এসব বিষয়ে কারও গা নেই। রাজারবাগ মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সেলিম বলেন, এখানে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যানজট বেড়েছে।

এ বিষয়ে ‘নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ’ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী সিহাব উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সিটি করপোরেশনের একজন প্রকৌশলী যিনি ওই এলাকায় বসবাস করেন তিনি বলেন, খোঁড়াখুঁড়ি নিয়ে জনগণ, গণমাধ্যম সমালোচনা করে; কিন্তু বাস্তবতা বুঝে সমালোচনা করতে হবে। কাজগুলো দিনের বেলা করা যায় না। আবার মাটির নিচে অন্য আরও অনেক সেবা সংস্থার লাইন থাকে। সেগুলো ঠিক রেখে নতুন করে মাটি খুঁড়ে নতুন পাইপ বসানো বেশ কঠিন কাজ। শাহজাহানপুরসহ এ এলাকায় যে পাইপলাইনের কাজ হচ্ছে, সেটি তুলনামূলক দ্রুত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশের রাস্তাও একইভাবে খুঁড়ে কাজ শেষ না করে ফেলে রাখা হয়েছে। দেড় মাস আগে মতিঝিল সরকারি কলোনির সামনের এ রাস্তা খোঁড়ার পর কার্পেটিংয়ের জন্য এখন ইটের খোয়া তৈরির কাজ হচ্ছে। এমনিতেই আইডিয়াল স্কুলের সামনের রাস্তা গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে অর্ধেক হয়ে থাকে। সেখানকার ফুটপাতও ব্যবহার করতে পারেন না পথচারীরা। কারণ ফুটপাতজুড়ে রয়েছে অস্থায়ী মার্কেট। তার মধ্যে এ রাস্তা খুঁড়ে রেখে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা রাজারবাগ চৌরাস্তা মোড় থেকে ফকিরাপুলের দিকের রাস্তাও। এ রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ হয়ে গেলেও কার্পেটিং শুরু হয়নি। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত