প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মহাখালীর ৭ তলা বস্তি আটকে রেখেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৭ ভবন নির্মাণ কাজ

রিকু আমির : প্রায় ৫ বছর আগে ঢাকার মহাখালীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়াধীন সাত প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা ও ভবনের নকশা চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু জমি বেদখলে থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয়নি।

সাতটি প্রতিষ্ঠান হলো- বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন, ইপিআই ভবন, সেন্টার ফর মেডিক্যাল বায়োটেকনোলজি ভবন, জাতীয় ব্লাড সেন্টার ভবন, সেবা পরিদফতরের প্রধান কার্যালয় এবং অটিস্টিক একাডেমি ভবন।

মহাখালীতে জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জমি ৪৭ দশমিক ৮৮ একর এবং সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ৩৫ একর জমি আছে। এই জমি থেকে আট একর জমি দখল করে গড়ে উঠেছে বস্তি। এই বস্তি এলাকায় আরও আছে জাতীয় জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, নিপসম, বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন, আইসিডিডিআরবিসহ ১১টি প্রতিষ্ঠান। ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর মহাখালীর ৭ তলা বস্তি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত কয়েক মাস আগেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদফতরের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে বৈঠক করে। বৈঠকে মহাখালীর জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্স তৈরির আলোচনা হয়। বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারের ব্যাপারে সিদ্ধান্তও হয়। কিন্তু আদালতের হস্তক্ষেপে অধিদফতর জায়গাটি দখলে নিতে পারেনি। কিন্তু দিন দিন বেড়েই চলছে সাততলা বস্তির পরিধি।
এ বস্তি উচ্ছেদে ২০০৩ সালে নোটিশ জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই সময় বস্তিবাসীর পক্ষে ওমর ফারুক নামের একজন ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের শুনানি শেষে বস্তি উচ্ছেদ সংক্রান্ত নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন হাইকোর্ট। আবার ২০১০ সালেও একবার উচ্ছেদের চেষ্টা চালায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

সরেজমিনে জানা যায়, রাজনৈতিক দলের নেতারা দখল করে রেখেছে এ জায়গা। বহু উপরের মহলকে রাজনৈতিক সুবিধাদি দিয়ে তারা এখানে ঘরবাড়ি তুলে ভাড়া দিয়েছেন, এছাড়া অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির লাইনেরও ব্যবসা করা হচ্ছে। এখান থেকে মাসে আয় হয় প্রায় দুই কোটি টাকার মতন বলে ওই এলাকার সাবেক একজন কমিশনার নাম না প্রকাশের শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন।

প্রায় ৪০ বছরের পুরনো এ বস্তি সবসময়ই ক্ষমতাসীনদের দখলে থাকে। রাজধানীর অন্যতম মাদক স্পট হিসেবেও এ বস্তির নামডাক আছে। ঢাকার শীর্ষ কিছু সন্ত্রাসীর আড্ডাও ছিল এখানে।

বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ডা. এসকে রায় বলেন, সরকারি জায়গা খালি করা কঠিন বিষয় না। সব মন্ত্রণালয় এটা করতে পারে, তাহলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেন পারবে না। এখানে শুধু উদ্যোগের অভাব এবং মন্ত্রণালয়ের শিথিলতার কারণে এটা হচ্ছে না। সাতরাস্তার ওপরে বিশাল ট্রাকস্ট্যান্ড ছিল, তারা খুব প্রভাবশালীও ছিল। কিন্তু মেয়র আনিসুল হক সে ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে দিল একদিনে।

জানার জন্য যোগাযোগ করা হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুজন সচিবের সাথে। কিন্তু কারও কাছ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত