প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মালিতে ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা

ডেস্ক রিপোর্র্ট: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে বাংলাদেশিদের জন্য ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ৯০ শতাংশ মুসলমানের এই দেশটি বাংলাদেশের চেয়ে ৯ গুণ বড়। তাদের নিজেদের উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান নেই। ফলে নির্ভর করতে হয় আমদানির ওপর।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রাণ গ্রুপ মালিতে ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। মালির রাজধানী বামাকোর রাস্তায় পশ্চিমা অসংখ্য কোম্পানির বিলবোর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রাণও আছে দাপটের সঙ্গে। বিশ্বের শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এই দেশটিতে বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা থাকলেও জনজীবন কিন্তু থেমে নেই। রাজধানী বামাকোর পরিস্থিতি ঢাকার মতোই স্বাভাবিক।

দেশটির ৯০ শতাংশের বেশি লোক বাস করে মালির দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে রাজধানী বামাকোতে। বামাকোর লোকসংখ্যা ১০ লাখের উপরে। মালির মুদ্রার নাম সেফা। আফ্রিকার ১৩টি দেশে চলে এই অভিন্ন মুদ্রা। এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেকটা ফ্রান্সের হাতে। এক ডলারের মূল্যমান সাড়ে ৬০০ সেফার সমান। ডলার ভাঙিয়ে আমরা সফরকারীরা প্রায় সবাই মুহূতেই লাখপতি হয়ে গেলাম। যিনি মাত্র ২০০ ডলার ভাঙিয়েছেন তিনিও লাখপতি।

মালির প্রধান খনিজ পদার্থ স্বর্ণ। আফ্রিকায় স্বর্ণ উত্পাদনে তৃতীয় অবস্থান মালির—দক্ষিণ আফ্রিকা ও ঘানার পরে মালি। কিন্তু দেশে সোনার খনি থাকলে কী হবে—সাধারণ মানুষের ভাগ্যবদলে সেটি কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। বর্তমান মালি একসময় ছিল পশ্চিম আফ্রিকা সাম্রাজ্যের অংশ যা ট্রান্স সাহারান বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত। মালির স্বর্ণযুগের চিহ্ন এখনো রাজধানী বামাকোর বিভিন্ন স্থাপনায় চোখে পড়ে।

দীর্ঘ ১০ দিনের আফ্রিকা সফরের শেষদিন আমাদের সাক্ষাৎ হয় মালির সংসদ সদস্য এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মামাদু সিমপারার সঙ্গে। পাঁচ সদস্যের মিডিয়া টিমের লিডার সেনা সদরের লে.কর্নেল আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে বামাকো নগরীর বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করে। তিনি সম্প্রতি মালিতে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল নিযুক্ত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশিদের প্রতি তার এক আলাদা টান রয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক জেনেছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী অফিসারদের কাছ থেকে। তিনি স্বপ্ন দেখেন দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখার।

তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, মুসলিম হিসেবে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আমাদের প্রতি খুবই সহানুভূতিশীল। তারা জাতিসংঘের দায়িত্বের বাইরেও আমাদের জনগণকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন। বাংলাদেশকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন, অনেক প্রত্যাশা। তাদের দেশের বিস্তীর্ণ উর্বর ভূমি অনাবাদি পড়ে আছে। তাদের দরকার কৃষি শ্রমিক, কৃষি প্রযুক্তি। আমাদের দেশের কৃষির উন্নতিতে তারা উচ্ছ্বসিত। তিনি কৃষি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে তার দেশের মানুষের আগ্রহ রয়েছে বলে জানান। মালির বিস্তীর্ণ কৃষি জমি লিজ নিয়ে বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিকরা আবাদ করতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাপক হারে কৃষি শ্রমিক পাঠাতে পারে মালিতে। এ ব্যাপারে তারা বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছে বলে জানান। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ তাকে মালিতে অনারারি কনসাল নিযুক্ত করেছে।

সংসদ সদস্য সিমপারা জানান, মালির স্বাস্থ্য খাত খুবই পশ্চাত্পদ। তা ছাড়া ওষুধের উচ্চমূল্য ও সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে মালিতে ওষুধ রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মালির কৃষকরা কৃষি জ্ঞানের অভাবে অনেক পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশ কৃষিবিদ ও কৃষিশ্রমিক পাঠিয়ে মালির কৃষি উন্নয়নে যেমন অবদান রাখতে পারে তেমনি জনশক্তি রপ্তানিরও সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ