প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেট্রোরেল প্রকল্পের বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে এলঅ্যান্ডটি-মারুবেনি

ডেস্ক রিপোর্ট : উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মীয়মাণ মেট্রোরেল প্রকল্পের (লাইন-৬) বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে ভারতের লারসেন অ্যান্ড তুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) ও জাপানভিত্তিক মারুবেনি করপোরেশন। জয়েন্ট ভেঞ্চারের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৩ হাজার ১৯১ কোটি রুপিতে (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) এসব সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ পেয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড গতকাল এলঅ্যান্ডটির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

এলঅ্যান্ডটি-মারুবেনি জয়েন্ট ভেঞ্চারকে বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ দেয়ার তথ্যটি বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক এক দরপত্রের মাধ্যমে ভারত ও জাপানের এ দুই প্রতিষ্ঠানকে মেট্রোরেল প্রকল্পের বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ দেয়া হয়েছে।

রাজধানী ঢাকার যানজটকে সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনতে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার। এর একাংশে (উত্তরা-আগারগাঁও) ২০১৯ সালের মধ্যে ট্রেন চালানোর লক্ষ্য রয়েছে। এ অংশের বিভিন্ন প্যাকেজে প্রকল্পের কাজ জোরেশোরেই এগোচ্ছে। উত্তরার দিয়াবাড়ীতে এরই মধ্যে প্রকল্পের ভায়াডাক্ট (উড়ালপথ) দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত এমআরটি-৬ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে আটটি প্যাকেজে। প্রথম প্যাকেজে ডিপোর ভূমি উন্নয়ন ও দ্বিতীয় প্যাকেজে ডিপো নির্মাণ করা হচ্ছে। তৃতীয় ও চতুর্থ প্যাকেজ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণকাজ চলছে। একইভাবে পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্যাকেজে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভায়াডাক্ট নির্মাণ করা হবে।

মেট্রোরেল চলাচল করবে বিদ্যুতে। এজন্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম কেনা হচ্ছে প্রকল্পের সপ্তম প্যাকেজের আওতায়, যার কাজ পেয়েছে এলঅ্যান্ডটি-মারুবেনি জয়েন্ট ভেঞ্চার। লাইনটিতে চলাচলের জন্য ২৪ সেট ট্রেন কেনা হচ্ছে অষ্টম প্যাকেজে।

প্রকল্প কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জামাদি কেনার জন্য দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়ন সম্পন্ন হয় ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর। আহ্বানকৃত দরপত্রগুলো খোলা হয় একই বছরের ৫ নভেম্বর। দরপত্রের আর্থিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান জাইকার কাছে পাঠানো হয় চলতি বছরের এপ্রিলে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্পের বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জামাদি সরবরাহের কাজ পায় এলঅ্যান্ডটি-মারুবেনি জেভি।

মুম্বাইয়ের বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) এক ফাইলিংয়ে বৈদ্যুতিক ও ভারী যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এলঅ্যান্ডটি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ‘রেলওয়েজ স্ট্র্যাটেজিক বিজনেস গ্রুপ’ বাংলাদেশে ডিএমটিসির কাছ থেকে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পে বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জামের নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণের কাজ পেয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক এক আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে মোট ৩ হাজার ১৯১ রুপির (৪ হাজার কোটি টাকা) কার্যাদেশ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকল্পের এপ্রিল পর্যন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যেই ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়নের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ডিপোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ৭ শতাংশ।

প্রকল্পের উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশে ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার উড়ালপথ ও ৯টি স্টেশন নির্মাণের কথা রয়েছে। এপ্রিল পর্যন্ত অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, নয়টি টেস্ট পাইলিংয়ের সবগুলো শেষ হয়েছে। শেষ হয়েছে ৩৮৩টি চেক বোরিংয়ের কাজও।

আর ২ হাজার ৩৭৮টি পাইলের মধ্যে ৯৯৪টির নির্মাণ শেষ হয়েছে। ৭৬৬টি পাইল ক্যাপের মধ্যে আটটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের এ অংশে মোট ৭৩১টি খুঁটি (পিয়ার) বসবে। এর মধ্যে দুটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এখন দিয়াবাড়ী-আগারগাঁও অংশ ছাড়াও আগারগাঁও-কারওয়ান বাজার-মতিঝিল অংশেও ভায়াডাক্ট নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করতে চাইছে। এজন্য আব্দুল মোনেম লিমিটেড ও জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্কেন করপোরেশনের এক জয়েন্ট ভেঞ্চারের সঙ্গে গত মাসেই ১ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকার একটি চুক্তিও সই করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে এমআরটি-৬ প্রকল্পের পরিচালক আফতাবউদ্দিন তালুকদার বলেন, ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা-আগারগাঁওয়ের মধ্যে মেট্রোরেল চালু হবে। এজন্য আমরা সব কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা ২৪ ঘণ্টাই কাজ করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০১৯ সালের শেষ দিকে এ অংশে ট্রেন চলবে।

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন সব কাজ ঠিকমতো এগিয়ে নেয়া হলে উত্তরা-আগারগাঁও অংশে ২০১৯ সালের শেষে গিয়ে ট্রেন চালু করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল হক বলেন, মেট্রোরেলের মতো প্রকল্প দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু একবার দৃশ্যমান হলে দেখা যাবে, খুব দ্রুতই তা শেষ হয়ে যাছে। বিভিন্ন সংস্থার অভ্যন্তরীণ পরিষেবা স্থানান্তর মেট্রোরেল প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। উত্তরা-আগারগাঁও অংশে আগে অভ্যন্তরীণ পরিষেবা স্থানান্তরের কাজ শেষ করে, তারপর রাস্তাটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এর ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বিঘ্নে ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করতে পারবে বলে আমি মনে করি।

প্রসঙ্গত, ১৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৬ বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। বাকি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।বণিকবার্তা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত