প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কেউ কিনছেন, কেউ দেখছেন

তারেক : পবিত্র মাহে রমজানের নবম দিন পেরোল গতকাল শুক্রবার। তবে এ বছর এখনও কেনাকাটার জন্য তেমন ভিড় জমেনি বিক্রয় কেন্দ্রগুলোয়। বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার পার্কসহ অভিজাত কয়েকটি শপিংমল ছাড়া অন্য মার্কেটগুলোতে গতকালও ছিল না তেমন ক্রেতা-দর্শনার্থী। ছুটির দিনেও এমন দৃশ্যের জন্য শেষ বিকেলের বৃষ্টিকেই দায়ী করছেন বিক্রেতারা। তারা বলছেন, আগামী সপ্তাহে পুরোদমে জমে উঠবে ঈদের বাজার।

পাইকারি বাজারের কেনাকাটা অবশ্য এর মধ্যেই শেষ পর্যায়ে। খুচরা বিক্রেতারা বাহারি ও নান্দনিক ডিজাইনের রুচিশীল পোশাক দিয়ে সাজিয়েছেন তাদের দোকান। তবে বিভিন্ন শপিংমলে এখনও ঈদবাজার জমে ওঠেনি। গতকাল বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্ক, গুলশান পিংক সিটি, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, মৌচাকসহ

কয়েকটি মার্কেট ও শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, কেনাকাটার চেয়ে ঘুরে দেখেই সময় কাটাচ্ছেন ক্রেতারা। বসুন্ধরা শপিংমলের পোশাক বিক্রেতারা জানান, ১০ রমজানের পর তারা দোকানে নতুন পণ্য আনবেন। রোজার পর দিন-পনেরো পেরোলে ঈদবাজার পুরোপুরি জমে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

পরিবারের সবাইকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্ক মার্কেটে আসা ক্রেতা আবদুস সোবহান বললেন, রোজার শুরু হওয়ায় প্রায় জিনিসেরই চড়া দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। আরেক ক্রেতা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, এখন পর্যন্ত যা দেখেছি, তাতে মনে হচ্ছে এবারের ঈদের কালেকশনে মোটামুটি নতুনত্ব আছে। সামনে হয়তো আরও নতুন ডিজাইন আসবে। বাচ্চার জন্য এর মধ্যেই কেনাকাটা করে ফেলেছেন তিনি। তবে ভালো কিছু এলে আবারও কিনবেন তিনি।

যমুনা ফিউচার পার্কের দোকানগুলোতে থ্রিপিসের মূল্য সর্বনিম্ন ২৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ আট হাজার টাকা। মেয়েদের কুর্তি বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন সাতশ’ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫০০ টাকায়। স্কার্ট ও টপস পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন ১৫০০ থেকে সর্বোচ্চ চার হাজার টাকায়। আর শাড়ির দিকেও বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে নারীদের।

গতকাল ছুটির দিনের বিকেলে বাগড়া দিয়েছে বৈরী আবহাওয়া। বৃষ্টি শুরু হওয়ায় অনেকেই পড়েন বিড়ম্বনায়। মৌচাক মার্কেটের জুয়েলারি দোকানের মো. জিসান বললেন, অল্প বৃষ্টিতেই মৌচাকের সামনের অংশে পানি জমে যায়। তাই আজও (গতকাল) ভালো কিছু আশা করা যাচ্ছে না।

বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাদের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন সাতশ’ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকায়। বাচ্চাদের নানা ধরনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন আড়াইশ’ থেকে সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকায়। ছেলেদের বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি সর্বনিম্ন ১৬০০ থেকে সর্বোচ্চ আট হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

চাঁদনীচক, গাউছিয়া মার্কেটে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। থরে থরে সাজানো ঈদের পোশাক দেখতে-কিনতে ব্যস্ত ক্রেতারা। দুপুরের পর থেকেই সেখানে ভিড় হতে থাকে। নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেটসহ আশপাশের ফুটপাতেও ছিল অনেকের পদচারণা। বিক্রেতারা বলছেন, মূলত ১ জুনের পর থেকেই পুরোদস্তুর কেনাকাটা শুরু হবে।

কেনাকাটা করতে আসা জুলিয়া আক্তার জলি বললেন, চাঁদনীচক মার্কেটে দেশি পোশাকের আধিক্য থাকলেও ঈদের সময় ক্রেতাদের চাহিদার কথা ভেবে বিদেশি পোশাকও রাখা হয়। এখানে নানা আঙ্গিকের পোশাক-আশাক, বিদেশি কাপড়, রেডিমেড অলঙ্কার, থান কাপড়, বিভিন্ন রকমের বুটিকস বা হাতে কাজ করা কাপড়, চামড়ার ব্যাগ, লেস ফিতা থেকে শুরু করে গহনা, এমনকি মেয়েদের ব্যবহারের সবকিছুই পাওয়া যায়। ছেলেদের পোশাক-আশাকও পাওয়া যায় এখানে। ক্রেতারা বলছেন, এখন পোশাকের দাম অনেক বেশি চাইছেন বিক্রেতারা। তাই অনেকেই কিনছেন না। ক্রেতারা মনে করছেন, দিন যত যাবে, পছন্দের পণ্যের দামও তত কমবে। তবে ঢাকার বাইরে থেকে যারা বিভিন্ন কাজে রাজধানীতে এসেছেন তাদের ঈদের কেনাকাটাও সেরে নিতে দেখা যাচ্ছে।সমকাল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত