প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবৈধ দখলে ফুটপাত রাস্তায় বাড়তি চাপ

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে নীলক্ষেত হয়ে নিউমার্কেট থানা পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে রয়েছে পাঁচ ফুট প্রশস্ত ফুটপাত। অথচ সেই ফুটপাত পথচারীদের ব্যবহারের সুযোগ নেই। টং দোকান, পোশাকের দোকান, খাবারের দোকান, বইয়ের দোকানসহ নানা ধরনের দোকানের দৌরাত্ম্যের কারণে কোথাও পা ফেলার উপায় নেই। পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে পড়ছেন। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে যোগাযোগ ব্যবস্থায়। প্রধান সড়কে লেগে যাচ্ছে যানজট।

এ দৃশ্য কেবল নিউমার্কেট এলাকাতেই নয়, রাজধানীর অনেক স্থানেই এমন দৃশ্য দেখা যায়। এ ছাড়া রয়েছে ফুটপাতের ভাঙাচোরা বেহাল অবস্থা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) অনেক লড়াই-সংগ্রাম করেও গুলিস্তানের ফুটপাতকে দখলমুক্ত করতে পারেনি। বতর্মানে সেখানে আবার সেই পুরনো অবস্থা ফিরে এসেছে।

নগর পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দিন বলেন, রাজধানীর ফুটপাতকে দখলমুক্ত রেখেও যানজট অনেকটা কমানো সম্ভব। মুক্ত ফুটপাত দিয়ে পথচারীরা হাঁটতে পারলে কেউ রাস্তায় নামবে না। কিন্তু ফুটপাত ব্যবহার করতে না পারায় নগরবাসী প্রধান সড়ক দিয়ে চলাফেরা করে। এতে দুর্ঘটনাও ঘটছে। তিনি বলেন, গুলিস্তান, মহাখালী, নিউমার্কেট ও মতিঝিল এলাকার ফুটপাতকে মানসম্মতভাবে তৈরি করে দখলমুক্ত রাখা গেলে ওই এলাকার যানজট অনেক কমবে।

বর্তমানে রাজধানীতে দুই সিটি করপোরেশনের প্রায় ২০০ কিলোমিটার ফুটপাত রয়েছে। এর মধ্যে গুলশান, বনানী, বারিধারা, মিন্টো রোড ছাড়া প্রায় সর্বত্রই ফুটপাতে রয়েছে কম-বেশি অবৈধ দখলদার। এসব এলাকা ছাড়া অনেক এলাকার ফুটপাতের মানও সন্তোষজনক নয়। অনেক স্থানেই ফুটপাতে গড়ে উঠছে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, শ্রমিক সংগঠনের অফিস, টিকিট কাউন্টার, পুলিশ বক্স, ঝুপড়িঘর, গ্যারেজ, হোটেল প্রভৃতি।

বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসা করে। তাদের প্রত্যেককে প্রতিদিন গড়ে ১৯২ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। বছরে এ খাতে চাঁদাবাজির পরিমাণ ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলসহ চাঁদাবাজ, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পুলিশের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয়। যে কারণে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গেলে মন্ত্রী-এমপিরাও বাধা হয়ে দাঁড়ান বলে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ফুটপাতের সুবিধাভোগীদের মধ্যে নিজের দলের লোকজনও আছে। এ জন্য ফুটপাতকে দখলমুক্ত রাখা খুব কঠিন। তিনি বলেন, দখলমুক্ত করার পর সেটা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের হলেও তাদের তেমন তৎপরতা লক্ষ্য যায় না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গনি বলেন, ডিএনসিসি এলাকার ফুটপাত অনেকটাই দখলমুক্ত। যেসব স্থান দখলে রয়েছে সেগুলো মুক্ত করে পথচারীদের ফুটপাত পথচারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে ডিএনসিসি সমগ্র এলাকায় মানসম্মত ও টেকসই ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা এলাকার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকায় কাজ চলছে। এ ছাড়া যেসব সড়কে ফুটপাত নেই, সেখানেও ফুটপাত তৈরি করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নানা জিনিসের পসরা, ময়লা-আবর্জনার স্তূপ প্রভৃতি কারণে বিভিন্ন প্রধান সড়ক-সংলগ্ন ফুটপাতও বেদখল হয়ে আছে। এর মধ্যে গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম এলাকার অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। শুধু ফুটপাত নয়, এসব এলাকায় রাস্তা দখল করে দোকানপাট ও ব্যবসা চলছে। মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার আশপাশের ফুটপাতের পুরোটাই বেদখল। রোকেয়া সরণির শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়ার অবস্থাও নাজুক। মহাখালীর নিমতলী থেকে আইসিডিডিআরবি পর্যন্ত ফুটপাতেরও একই অবস্থা। শিশু একাডেমির সামনের বেশির ভাগ ফুটপাত দখল করে সেখানে চলছে গাছপালা ও বিভিন্ন তৈজসপত্র বিক্রি। শ্যামলী রিং রোডের বায়তুস সালাহ মসজিদ মার্কেটের আশপাশে দোকানের অভাব নেই। আদাবর থানার বিপরীতে ফুটপাতে ফেলে রাখা হয়েছে আটক করা গাড়ি। আগারগাঁওয়ে পঙ্গু হাসপাতালের সামনের ফুটপাতের পুরোটাজুড়ে চিকিৎসাসামগ্রীর দোকানের অভাব নেই।

বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, কেবল সিটি করপোরেশনই নয়, যার জায়গা না তারাও টাকা না দিলে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। তাদের প্রয়োজনেই উচ্ছেদ করে। তাদের প্রয়োজনেই বসতে দেয়। লাইনম্যান নামধারী চাঁদাবাজরা হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলে। গত এক বছরে গুলিস্তান এলাকায় ২০-২৫ বার ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযান কখনও চালিয়েছে ডিএসসিসি, কখনও পুলিশ। ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আইনগত অধিকার থাকলেও পুলিশের সে অধিকার নেই। তাদেরকে পুনর্বাসনের মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।সমকাল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত