প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১১ বছরের রাজবধূ মেগান বিশ্বকে বদলাতে পেরেছেন, আপনিও কি তা হতে দেন?

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : ব্রিটেনের উইন্ডসর রাজপ্রাসাদে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনেত্রী মেগান মার্কেলের বিয়ের খবরটি বিশ্বের মানুষের কাছে অজানা নয়; কেউ তা পত্রিকায় কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছেন। তবু অপরাপর বিয়ের তুলনায় সেটি যেন রাজপ্রাসাদ ও চলচ্চিত্র জগতকে একাত্ম করেছে। সেখানে প্রিয়াংকা চোপরার উপস্থিতি ঘটায় বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের আগ্রহটি ছিল ভিন্ন আমেজের। কেননা প্রিয়াংকা জাতিসংঘের দূত হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দেখতে এসে ‘গণহত্যা বন্ধের দাবিতে’ সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন।

এতে স্মৃতিতে ভাস্বর ১৯৮১ সালে প্রিন্সেস ডায়ানা এবং ২০১১ সালে কেট মিডলটনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে টেলিভিশন পর্দার অভিনেত্রী মেগান মার্কেলের সদ্যঅলংকৃত ‘ডাচেস অব সাসেক্স’ পদবিটি এবং একইসঙ্গে তিনটি রাজকীয় বিয়ের সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য নিয়েও মিডিয়ায় আলোচনা হয়েছে। দেখা গেছে, মেগান মার্কেলের বিয়েটি ছিল অনেকটা সাদাসিধে; যাতে রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতা থেকে শুরু করে কনের সহযাত্রী ক্ষুদে শিশুরা, বিবাহোত্তর টাঙ্গা শোভাযাত্রা এবং বলতে গেলে পুরোটাই প্রিন্সেস ডায়ানা ও কেট মিডলটনের ঐতিহ্যকে ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু কেন?

হঠাৎ করেই বিয়ের কিছুদিন আগে মেগান মার্কেল তার সমানাধিকারভিত্তিক ‘দ্য চেঞ্জ ইউ উইশ টু সি ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা বিশ্বকে বদলাবার অভিপ্রায়মুখী তিন বছরের জীবনযাপনধর্মী ‘দ্য টিগ ডটকম’ ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেন। সেখানে এখন ‘টিগ’ বন্ধুদের উদ্দেশে তার একটি চিঠি কতিপয় ছবির মাঝে শোভা পাচ্ছে। চিঠির শেষ দুই লাইনে লেখাÑ ‘অ্যাভাব অল, ডন্ট এভার ফরগেট ইউর ওয়ার্থÑ অ্যাজ আই হ্যাভ টল্ড ইউ টাইম অ্যান্ড টাইম অ্যাগেইন: ইউ, মাই সুইট ফ্রেন্ড, ইউ আর এনাফ্’। অর্থাৎ সর্বোপরি, তোমরা নিজেদের মর্যাদাটি ভুলবে না, যা আমি সব সময়ই বলেছি, প্রিয় বন্ধুরা তোমরা নিজেরাই যথেষ্ট। অনুসন্ধানে এই ‘যথেষ্ট’ বলার প্রেক্ষাপটে ১১ বছর বয়সেই মেগান মার্কেলের বিশ্বকে বদলানোর অনন্য অধ্যায়টি সম্পৃক্ত, যা প্রকৃত অর্থেই একটি পরিবর্তনের স্ফূরণ ঘটায়। মেগান নিজেই ২০১৫ সালের মার্চে জাতিসংঘের নারীঅধিকারদূত হিসেবে জাতিসংঘেই সে কথাটি বলেছেন।

ঘটনাটি ১৯৯৩ সালের। সেসময় টেলিভিশনে শিশুদের ‘নিকেলোডিওন’ অনুষ্ঠানের ‘নিক নিউজ’-এ মেগান মার্কেল তার দৃপ্ত একাগ্রতাটি তুলে ধরতে সমর্থ হন। সূত্রপাত, টেলিভিশনে হাড়ি-বাসন ধোয়ার তরল ‘আইভরি’ সাবানের বিজ্ঞাপনের ভাষায় বলা হচ্ছিল: ‘উইমেন অল ওভার আমেরিকা আর ফাইটিং গ্রিজি পটস অ্যান্ড পেনস’। অর্থাৎ পুরো আমেরিকা জুড়ে নারীরা হাড়ি-বাসনের চর্বিযুক্ত তেল বিদূরীকরণে লড়ছেন। মেগান স্কুলে তা দেখেছিলেন এবং দেখেছিলেন তার সতীর্থ দুই বালক কৌতূকভরে বলেছিল রান্নাঘরই হচ্ছে ওই নারীর ‘উপযুক্ত’ স্থান। এ ঘটনাটি মেগান তার বাবা-মাকে জানান। প্রত্যুত্তরে তার বাবা এ বিষয়ে তাকে একটি চিঠি ‘টু দ্য মোস্ট পাওয়ারফুল পিপল’ বা অতি ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের কাছে লিখতে বলেন। কথানুযায়ী তার সেই চিঠি বিজ্ঞাপন সংস্থা প্রক্টোর অ্যান্ড গ্যাম্বলসহ তদানীন্তন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন, নারীবাদী আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড এবং ‘নিক নিউজ’-এর উপস্থাপিকা লিন্ডা এলারবির কাছে পৌঁছে। ফলশ্রুতিতে কাজ হয়; তাতে ওই বিজ্ঞাপনের ব্যবহৃত ‘উইমেন’ বা ‘নারী’ শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে ‘পিপল’ বা ‘জনগণ’ করা হয়।

পরবর্তীতে মেগান টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘নিকস্পø্যাট’-এ বলেন, ‘আই ডন্ট থিঙ্ক ইট ইজ রাইট ফর কিডস টু গ্রো আপ থিঙ্কিং দ্যাট মাম ডাজ এভরিথিং’। অর্থাৎ আমি মনে করি না শিশুদের জীবন গড়ায় এ কথাটা সঠিক যে মায়েরাই সব কিছু করেন। আরও বলেন, সর্বত্রই কেবল শোনা যায়, ‘মায়েরা এটা করেন, মায়েরা ওটা করেন’। তার ভাষায়, ‘আই সেইড, ওয়েট এ মিনিট, হাউ কুড সামবডি সে দ্যাট’? অর্থাৎ তার আত্মজিজ্ঞাসা, লোকে কী করে সে কথা বলে? তার মতে, গড়ে তিনটি বিজ্ঞাপনের একটির ভাষা প্রয়োগ এমন, যা কাউকেই আঘাত করতে পারে। তার প্রত্যাশা, ‘যখনই আপনারা এমন বিব্রতকর কিছু দেখবেন, যথোপযুক্ত স্থানে চিঠি লিখুন, আপনি সেই পরিবর্তনের সূচনাটা কেবল নিজের জন্য নয়, বরং বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য করতে পারবেন’। মেগান ২০১৫ সালে জাতিসংঘের নারীঅধিকারদূত হিসেবে এ ধরনের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আরও বলেন, ‘যেটা ঠিক নয়, সেটা সঠিক করাটা দরকার। এভাবেই ১১ বছর বয়সে আমি আমার ক্ষুদ্র পরিসরে সমানাধিকার বিষয়ে সোচ্চার হয়েছি’।

প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা আমাদের প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় আমাদের সন্তান-সন্ততিদের কী সেই গঠনমূলক পরিবর্তন সাধনে কিংবা প্রতিনিয়ত কোনো আদর্শিক বিকাশে উৎসাহিত বা সহায়তা করছি, যেমনটা মেগান মার্কেলের বাবা করেছেন?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত