প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টাকা দিয়ে জামিন নিলেন যৌন কেলেঙ্কারীতে অভিযুক্ত হলিউড পরিচালক

প্রিয়াংকা আচার্য্য: নাহ কোনো লাল গালিচা নয়। সবার থেকে নজর বাঁচিয়ে। কিছু বই বগলে নিয়ে গোমরা মুখে অনেকটা সোজাসুজি হেঁটেই নিউ ইয়র্ক পুলিশে কাছে ধরা দিলেন হলিউডের প্রখ্যাত প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেন।

গতবছরের সবচেয়ে আলোচনা-সমালোচনার তুঙ্গে থাকা হলিউডের প্রখ্যাত প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। যৌন কেলেঙ্কারীর দায়ে নিউ ইয়র্কে পুলিশের কাছে ৬৬ বছর বয়সী এ প্রযোজক শুক্রবার সকালেই ধরা দেন। এসময় ক্যামেরা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক সাংবাদিকই ছবির জন্য হার্ভের নাম ধরে ডাক দিলেও তিনি কারও দিকে না তাকিয়ে সোজা গিয়ে ঢুকে যান ফটকের অপারে। এরপর হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে তাকে নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতে একজন সহকারী অ্যাটর্নি বলেন, নিজের অর্থের জোরে সেই পরিস্থিতিতে পড়তে তরুণীদের বাধ্য করেছেন হার্ভে মিরাম্যাক্স ফিল্ম স্টুডিওর প্রতিষ্ঠাতা হার্ভে উইনস্টেন কেবল অর্থের জোরেই তিনি যৌন হয়রানি করেছেন।

তবে শেষ পর্যন্ত জামিন পেয়ে যান হার্ভে। এক মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে তিনি সাময়িক জামিন পান। তবে তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিকভাবে একটি ডিভাইস সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে তাকে ট্র্যাক করা যায়।

হার্ভের আইনজীবীর দাবি, তার মক্কেল নির্দোষ এবং সেটা তিনি আদালতে প্রমাণ করেই ছাড়বেন। সেই সঙ্গে তিনি আরো দাবি করেন, যারা তার মক্কেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তারা কেউই অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবেন না।

একাধিক নারীকে ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে তাকে পুলিশ আটক করে। হলিউডের প্রভাবশালী এ প্রযোজক গত তিন দশকে অন্তত আটজন নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ উঠছে। তার বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, ইভা গ্রিন, গেনিথ পাল্টোদের মতো অভিনেত্রীরা। যে কারণে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ওয়েইনস্টাইন কোম্পানি’ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন হার্ভে।

শুরু থেকেই হার্ভে তার বিরুদ্ধে আনা বেশিরভাগ অভিযোগের কথাই অস্বীকার করেছেন। এদিকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিডিয়ায় তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করেনি পুলিশ।

গত বছরের অক্টোবরে নিউইয়র্ক টাইমস ও নিউইয়র্কার হলিউডের প্রভাবশালী প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে পুরো বিশ্বের কাঁপুনি ধরে যায়। হলিউডের অনেক খ্যাতিমান তারকারা হার্ভের যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলতে থাকেন।

ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী আলিসা মিলানোর অভিযোগের পর হ্যাশ ট্যাগ ‘মি টু’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। শুরু হয় ‘মিটু’ শীর্ষক হ্যাশট্যাগ প্রচারণা, যার মাধ্যমে বলা হতে থাকে ‘আমিও নিপীড়নের শিকার হয়েছি’। এরপর বিশ্বজুড়ে যৌন হয়রানির শিকার নারীদের অনেকেই এ প্রচারণায় এগিয়ে আসেন। অনেকে আবার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এসব হয়রানির ঘটনা প্রকাশ করেন। যুক্তরাজ্যসহ অনেক সরকারেই রদবদল আসে হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক টাইমস এ প্রতিবেদনের জন্য এবছর পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করে। সূত্র: সিএনএন, বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত