প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০ রোজার মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে হবে: গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট

আদম মালেক : ২০ রোজার মধ্যে বেসিক বেতনের সমান ঈদ বোনাসসহ প্রাপ্য সকল পাওনা পরিশোধ এবং ছাঁটাই-নির্যাতন-হয়রানি বন্ধ, ন্যুনতম মজুরি ১৮০০০ টাকা নির্ধারণ ও কালক্ষেপন বন্ধ করে জুলাই‘১৮ মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ডের সুপারিশ ঘোষণা এবং রোজার মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতি রোধ করার শুক্রবার(২৫ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সহসভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস, অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ প্রমূখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতি বছর রোজার শুরুতে শ্রম মন্ত্রণালয় মালিকদের সাথে বৈঠক করে সকল পোষাক শিল্প শ্রমিকের বেতনভাতা পরিশোধের আশ্বাস দেয়। কিন্তু মালিকরা ঈদের ছুটির পুর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত শ্রমিকদের বোনাস-বেতন পরিশোধ না করে শ্রমিকদের জিম্মি করে। তাছাড়া দুই ঈদে বেসিক বেতনের সমান বোনাস দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও সরকার শ্রম আইনে বোনাসের বিষয় উল্লেখ না করে শ্রমিকদের বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু ঊৎসব বোনাস কোন দয়া নয়, এটা শ্রমিকের অধিকার। ঈদের আগ মুহুর্তে শ্রমিকরা যখন স্বজনদের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য উদগ্রিব হয় তখন মালিকরা শ্রমিকদের বোনাস না দিয়ে বকশিশ হিসাবে কিছু টাকা দিয়ে আর আংশিক বেতন দিয়ে শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করে।

শ্রমিকদের তখন প্রতিবাদ করার কোন সুযোগ থাকেনা। সরকার ও প্রতারক মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। পুর্ণ বেতন-ভাতা না পাওয়ায় শ্রমিকরা অল্প ভাড়ায় ঝুঁকি নিয়ে গ্রামে যেতে যেয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৪ জানুয়ারি‘১৮ তারিখে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যুনতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেয়া হলেও এর প্রায় ২ মাস পর ১৯ মার্চ‘২০১৮ তারিখে মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২৫ এপ্রিল‘১৮ তারিখে মজুরি বোর্ডের নির্ধারিত বৈঠক মালিক পক্ষের আবেদনে স্থগিত করা হয়।

শ্রম আইনের ১৩৯ (২) ধারা অনুসারে মজুরি বোডর্, গঠনের ছয় মাসের মধ্যে নতুন মজুরির সুপারিশ করবে। সেই হিসাবে মজুরি বোর্ডকে জুলাই‘১৮ মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর সুপারিশ করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ ২০ রোজার মধ্যে শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা পরিশোধের আহবান জানিয়ে বলেন অন্যথায় উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় মালিকদের বহন করতে হবে। নেতৃবৃন্দ, কালক্ষেপন না করে জুলাই‘১৮ মাসের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৮০০০টাকা ঘোষণা করার আহবান জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত