প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদকসংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

সজিব খান: ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকার এক জেলার পুলিশ সুপার মাদক পাচারে পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশের একটি অংশ ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত এবং এর অধিকাংশ পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছে যে এখন তাদের সামাল দেওয়া বড় কঠিন কাজ হয়ে পড়েছে। এদিকে এক গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাতকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী পুলিশ-র‌্যাব, যেই হোক মাদকসহ কোনো ধরনের বেআইনি কাজে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

জানা যায়, পুলিশ সুপারের সীমান্তবর্তী ওই জেলার চার উপজেলায় ২১৫ জন তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং মোট ১১শ’ সক্রিয় মাদক বিক্রেতা রয়েছে। অধিকাংশ থানার ওসিসহ পুলিশের কর্মকর্তারা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা পাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ থানা পুলিশের কাছে যায়। ওই পুলিশ সুপারের মতে, মাদক নির্মূলের পাশাপাশি এর সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক যারা নিয়ন্ত্রণ করবে, সেই নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সদস্যরা যদি পাচারে জড়িত থাকে এবং মাসোহারা পায়, তাহলে মাদক পাচার রোধ কিভাবে সম্ভব? তবে পুলিশ কঠিন ও সঠিক থাকলে মাদক ব্যবসায়ীরা টিকতে পারবে না।

মাদকের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদক রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে । নিরাপত্তা বাহিনী পুলিশ-র‌্যাব, যেই হোক মাদকসহ কোনো ধরনের বেআইনি কাজে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। পাঁচটি সংস্থা পৃথকভাবে সারাদেশে মাদক ব্যবসায় জড়িতদের তালিকা তৈরি করেছে। সেগুলো ধরেই অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। দেশ, মেধা, যুবশক্তি আর আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে মাদকবিরোধী এ অভিযান শুরু করা হয়েছে। সব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। যে পর্যন্ত মাদক নিয়ন্ত্রণ একটা পর্যায়ে না আসবে, সে পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কাজ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রায় সবগুলোতেই একটি শ্রেণি তৈরি হয়েছে, যারা সরাসরি ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচারে জড়িত। তাদের কেউ কেউ ছুটিতে যাওয়ার সময় বড় বড় ইয়াবার চালান নিয়েও যাচ্ছে। কোনো কোনো রেঞ্জের কর্মকর্তা কিংবা পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে থানার একশ্রেণির কর্মকর্তার পৃষ্ঠপোষকতায় ইয়াবা পাচার হচ্ছে। ৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মাসে ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের ইয়াবা ব্যবসায়ীরা উৎকোচ দিয়ে থাকে। পুলিশের ভিতরে এমনভাবে ইয়াবা পাচারের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, এটা ভাঙতে না পারলে ইয়াবার পাচার রোধ কোনোভাবেই সম্ভব না।

ওই পুলিশ সুপার বলেন, সন্ধ্যার পর এ জেলার সবখানে মাদকের হাট বসে। গ্রামে হাঁটতে গিয়ে গায়ে গায়ে লাগছে মাদকাসক্ত ও বিক্রেতারা। এভাবে মাদক ছড়িয়ে পড়ার পেছনে আমরাই দায়ী। পুলিশ সিরিয়াস হলে মাদক ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা সম্ভব নয়। পুলিশ সুপার কর্মস্থলে যোগদানের পর চার থানার ওসিকে ঘুষ গ্রহণ না করার শপথ করায়। এরপর ৫০ ভাগ সফল হয়েছে। বাকি ৫০ ভাগ আগের অবস্থায় রয়েছে। তবে তিনি শতভাগ ঘুষ ছাড়তে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলার এসপি যদি থানা পুলিশ ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ না করেন কোন অবস্থাতেই শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে মাদক ব্যবসা টিকে থাকতে পারবে না।

এছাড়া অভিযোগ উঠছে কিছু রাজনৈতিক নেতা মাদকের সাথে জড়িত। তাদের ছাড় দেয়া হচ্ছে কি-না? এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায় সব শ্রেণি-পেশার লোক জড়িত হয়ে পড়েছে। তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত আড়াই হাজার লোক কারা অন্তরীণ হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা গেলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বহু পত্র-পত্রিকায় তার নাম এসেছে, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও তার নাম বলেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বা শক্ত প্রমাণ তার ব্যাপারে পাওয়া যায়নি, যা দিয়ে তাকে বিচারের বা শাস্তির মুখোমুখি করা যায়।

এছাড়া বন্দুকযুদ্ধের কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার সময় মাদকসংশ্নিষ্টরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং তাদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি ছুড়ছে। ফলে নিরাপত্তা বাহিনী নিজেদের সুরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালাচ্ছে। ফলে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান ফিলিপাইন মডেলে কিনা এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফিরিপাইন বা অন্য কোনো দেশের মডেল নয়। পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে বাংলাদেশ মডেলে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে এবং অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী আইনবহির্ভূত কোনো কাজ করেনি বা করছে না। সূত্র: সমকাল, যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ