প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলায় গুরুত্ব পূর্ণ তর্থ্যে পেয়েছে পুলিশ

মো. শহিদুল ইসলাম,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ওয়াহেদ বিন আসলাম ওরফে আসিফ মিজান (১৮) বেশ কিছু তর্থ্য দিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানাগেছে। আসিফ ফেসবুকভিত্তিক ‘রিচ কিডস গ্যাংস্টার’ গ্রুপের সদস্য।

বুধবার রাতে নগরীর নাসিরাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ পুলিশকে জানায়, ঘটনার দিন ১ মে তার ব্যবহৃত গাড়িতে চড়েই আদনান তাসফিয়ার সঙ্গে প্রথম দেখা করতে যায়। ওই দিন রাত ৯টায় আদনানের ফোন আসে তাকে তাসফিয়ার বাবা আটক রেখেছে। এর পর আসিফ গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিলের সামনে আসে।

ঘটনা সামলাতে না পেরে আসিফ তাদের ‘বড়ভাই’ একরাম ও ফিরোজকে নিয়ে আসে। তাদের নিয়ে তাসফিয়াদের বাসায় যায় আদনানকে ছাড়া অনুরোধ করেন। কিন্তুু তাসফিয়াকে না পাওয়া পযন্ত আদনানকে ছাড়া যাবে না এই কথা বলার পর ৩০ মিনিটের মধ্যে তাসফিয়াকে হাজির করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আদনানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় তারা।

আসিফ পুলিশকে জানায়, পরদিন সে জানতে পারে তাসফিয়ার মরদেহ পতেঙ্গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর পর থেকে রাউজান উপজেলায় নানার বাড়িতে আত্মগোপনে ছিল আসিফ। সম্প্রতি নানার বাড়ি থেকে শহরে ফিরে আসে। ২৩ মে রাতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। তাসফিয়াকে চিনলেও তার সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি বলে দাবি করেছে আসিফ।

তাসফিয়াকে ‘ছোটভাই’ আদনানের বান্ধবী বলেই জানতো আসিফ মিজান। পুলিশ বলছে, মিজান গ্রেপ্তার হওয়ায় তাসফিয়া হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

শুক্রবার আসিফ মিজানকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) জাহেদুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত: গত ২ মে সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাশফিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় পতেঙ্গার নেভাল এলাকায়। ৩ মে তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন পতেঙ্গা থানায় তাসফিয়াকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে আদনান মির্জাকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ‘রিচ কিডস গ্যাংস্টার’ নামের ফেসবুক গ্রুপের চার সদস্য সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র শওকত মিরাজ ও আশিক মিজান, আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়। এদিকে গত ২১ মে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাসফিয়ার পিতা মো. আমিন জানান, তার মেয়ে তাসফিয়াকে হত্যার পেছনে তৃতীয় কোনো পক্ষের ইন্ধন থাকার সন্দেহ করছেন তিনি।

তাসফিয়ার লাশ উদ্ধারের ১৯ দিনের মাথায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার বাবা মো. আমিন এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সন্দেহ করলেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই আমিনের কাছে।

সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় তিনি বলেন, ‘আদনান পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে ডেকে নিয়ে গেছে। তার পেছনে কে আছে, আমরা জানি না।’ সংবাদ সম্মেলনে তাসফিয়ার বাবা বলেন, ‘একটি পক্ষ’ তাদের মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত