প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গডফাদারদের অক্ষত রাখলে
‘মাদক বিক্রেতা যত নিহত হবে তারচেয়ে বেশি তৈরি করবে’

রবিন আকরাম : প্রতি রাতে ‘যুদ্ধ’ চলছে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এলিট বাহিনী র‍্যাবের সঙ্গে ‘যুদ্ধ’ চলছে, মাদক ব্যবসায়ী বা চোরাচালানি বা বিক্রেতাদের। দুর্গম কোনো অঞ্চলে নয়, আপনার চেনা-জানা জায়গায়গুলোতেই চলছে ‘যুদ্ধ’। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যার নাম দিয়েছেন ‘বন্দুকযুদ্ধ’।

প্রথম দুদিন একক ভাবে অভিযান চালিয়েছে র‍্যাব। তারপর পুলিশও আলাদাভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। একইভাবে মাদক চোরাচালানি বা বিক্রেতাদের মৃত্যু হচ্ছে। এভাবে গত ১০ রাতে ৫০ জনের বেশি মাদক চেরাচালানি বা বিক্রেতা হিসেবে অভিযুক্ত মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। যখন এই লেখা পড়ছেন, সংখ্যা হয়ত তখনও বাড়ছে।

ফিলিপাইনসহ পৃথিবীর কোনো দেশ মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের হত্যা করে মাদক থেকে মুক্তি পায়নি। আইনের শাসনের প্রয়োগ নিশ্চিত করে মুক্তি পেয়েছে অনেক দেশ। মাদক থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলবে না। তবে ভয়াবহতা কমানো সম্ভব। এর জন্যে সরকারের আন্তরিকতা অপরিহার্য। মাদকের ভয়াবহতা সমাজ থেকে কমাতে চাইলে, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দৃশ্যমান করতে হবে। প্রথমে মাদকের উৎস বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কার্যকর উদ্যোগ নিলেও মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসা পুরোপুরি হয়ত বন্ধ হবে না। তবে আসার পরিমাণ অনেক কমে যাবে। ইয়াবার সহজলভ্যতা থাকবে না।

তারপর ধরতে হবে গডফাদারদের। একই সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে মাঠ পর্যায়ের চোরাচালানি বা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। উৎস বন্ধের চেষ্টা না করে, গডফাদারদের অক্ষত রেখে, মাঠের চোরাচালানি- বিক্রেতা বা মাদকাসক্তদের হত্যা করলে, সমাধান মিলবে না। তার পরের স্তরের চোরাচালানিরা সাময়িকভাবে আত্মগোপনে বা বিদেশে পালাবে। সুবিধাজনক সময়ে আবার তারা ফিরে আসবে। মাঠ পর্যায়ের চোরাচালানি বা বিক্রেতা যত জন নিহত হবে, তারচেয়ে বেশি সংখ্যক আবার তারা তৈরি করবে।

..গোলাম মোর্তোজার ফেসবুক থেকে নেয়া..

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত