প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘না কাঁদলে মাও দুধ দেয় না’

নিজস্ব প্রতিবেদক : রমজানের কয়েক দিন আগে থেকেই অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব বেড়েছে। পণ্যে ওজনে কম দেওয়া, অতিরিক্ত দাম রাখা, রাসায়নিক ও তাপ দিয়ে পাকানো ফল বিক্রি করা যেনো নিত্য দিনের ব্যাপার। আবার ভোক্তা কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ করলে নানা যুক্তি দেখান তারা। তাদের যুক্তির কাছে এক প্রকার হার মেনেই পণ্য কেনেন ভোক্তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোক্তাদের অধিকার আদায়ে প্রতিবাদি হতে হবে, সচেতন হতে হবে। তারা সচেতন হলেই অসাধু ব্যবসায়ীদের হীন উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। দাম কমবে সব পণ্যের।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পণ্য ভেদে দাম আকাশ ছোয়া। আবার বাজার ভেদেও রয়েছে পার্থক্য। কোনো কোনো বাজারের পাইকারি ও খুচরা বিক্রির ব্যবধান দুই গুন বা তারও বেশি। অন্যদিকে ভেজাল পন্যতো আছেই। রয়েছে কেমিক্যাল মিশ্রিত ফলও।

এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, প্রচার-প্রচারণা মানুষকে সচেতন করে তোলে। এ জন্য মিডিয়াকে ভূমিকা রাখতে হবে। তাছাড়া নিজে সচেতন হতে হবে, সঙ্গে অন্যকেও সচেতন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের এখন প্রতিবাদী হতে হবে। নিজেদের অধিকারকে আদায় করে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিশু না কাঁদলে মা দুধ দেয় না। আপনি সচেতন হলেই ব্যবসায়ীর নড়ে-চড়ে বসবে।

ভোক্তা অধিদফতরের মতে সম্প্রতি ভোক্তারা কিছুটা সচেতন হয়েছেন। তারা ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ৮ হাজার ১২টি অভিযোগ করেছেন এ দফতরে। এখন পর্যন্ত সেখানে ৭ হাজার ২৫টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বিচার চলমান রয়েছে এখনও প্রায় এক হাজারের মতো। চলতি অর্থ বছরের ২১ মে পর্যন্ত জরিমানা ‍আদায় করা হয়েছে ১১ কোটি ৪৪ লাখ ৬০০ হাজার ৫শ’ টাকা। তবে ১৬ কোটি মানুষের দেশে এ অভিযোগ এখনও আশানুরুপ না। অন্যদিকে ভোক্তাদের সচেতন করতে ভোক্তা অধিদফতর পোস্টার, লিফলেট বিতরনের পাশাপাশি গণশুনানি ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে নিয়মিত। এরপরও ভোক্তার ভালো সাড়া নেই।

এ বিষয়ে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফদরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. সফিকুল ইসলাম লস্কর বলেন, এখন ভোক্তারা আগের চেয়ে বেশি সচেতন। ভেজাল বা অতিরিক্ত মূল্য নিলেই তারা অভিযোগ দিচ্ছে। আমরাও অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

তিনি বলেন, শুধু অভিযোগ দিলেই হবে না, অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। এজন্য একজনকে আরও ১০ জনের কাছে প্রচার করতে হবে। ভোক্তা সচেতন হলেই আমরা সফল হব।

অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব কমাতে ইতোমধ্যে বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে সরকার। প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে চলছে বাজার তদারকি। মূল্য তালিকা না থাকা, দাম বেশি নেওয়া, ওজনে কম দেওয়া দেখলেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম অজিয়র রহমান বলেন, সরকার দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা সব সময় মাঠে আছি। কোনো ভাবেই অসৎ ব্যবসায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না।

ক্রেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো পণ্য কেনার আগে অবশ্যই পণ্যের তারিখ এবং মূল্য দেখে নেওয়া উচিত। পণ্যটি কিনে আপনি ঠকছেন কিনা তা যাচাই করুন, অভিযোগ করুন। সূত্র :  বাংলানিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত