প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘খেললে সব জায়গাতেই খেলতে হবে’

খেলা ডেস্ক: নিদাহাস ট্রফিতে সৌম্য সরকারের ব্যাটিং অর্ডার বেশ কয়েকবার ওলট-পালট হয়েছিল। এক ম্যাচে ওপেনার তো আরেক ম্যাচে তিন অথবা পাঁচ নম্বরে। ব্যাটিং অর্ডারের মতো সৌম্যর ব্যাটিংও ছিল এলোমেলো। পাঁচ ম্যাচে মাত্র ৫০ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। স্বভাবতই তাকে নিয়ে খুশি হওয়ার উপায় ছিল না টিম ম্যানেজমেন্টের।

এরপরও সৌম্যের ওপরই ভরসা রেখেছেন নির্বাচকরা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তাকে দলে ভেড়ানো হয়েছে। আরও একবার নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন তিন বছর ধরে জাতীয় দলে খেলা তরুণ এই ব্যাটসম্যান। এবার আর ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী থাকতে চান না তিনি। অর্ডারের যেকোনো জায়গায় ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে প্রস্তুত সৌম্য।

অনুশীলন, আফগানিস্তান সিরিজ, নিজের লক্ষ্য, ব্যাটিং অর্ডারসহ আরও অনেক বিষয় নিয়েই কথা বলেছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। প্রিয় পাঠকদের জন্য উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: আফগানিস্তান সিরিজের বেশি দিন বাকি নেই। অনুশীলন কেমন হচ্ছে?

সৌম্য সরকার: সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ভালো অনুশীলন করছি। মুস্তাফিজ আর সাকিব ভাই বাদে আমরা যারা আছি, সবাই যার যার জায়গায় কঠোর পরিশ্রম করছে। যার যেখানে ঘাটতি আছে, তা নিয়ে কাজ করছে। তার আগে ফিটনেস ক্যাম্পও করলাম। আমাদের সেরাটা দিতে পারলে আমরাই ফেভারে থাকব।

প্রশ্ন: নিদাহাস ট্রফিতে আপনার ব্যাটিং অর্ডারে অনেক পরিবর্তন এসেছিল। একেক ম্যাচে একেক জায়গায় ব্যাটিং করতে হয়েছে। আফগানিস্তান সিরিজেও এমন হতে পারে। এই চ্যালেঞ্জ নিতে কতটা প্রস্তুত?

সৌম্য: খেললে তো সব জায়গাতেই খেলতে হবে। দল যদি মনে করে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে হবে, তাহলে সেখানেই করতে হবে। এখানে পারফর্ম করতে হবে, রান করতে হবে। রান করলে আমার কাছে মনে হয় নিজের কাছে ভালো লাগবে। যেটা চলে গেছে, তা নিয়ে চিন্তা করলে নিজের কাছেই পিছিয়ে যাব। সামনে যে হোম সিরিজ আছে, ওইগুলো নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

প্রশ্ন: গ্যারি কারস্টেন তিন ফরম্যাটের জন্য তিনজন কোচের পরামর্শ দিয়ে গেছেন। এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এই ব্যাপারটি কেমন মনে হয় আপনার কাছে?

সৌম্য: এটা আমার বিষয় না। এটা টিম ম্যানেজমেন্ট বা বোর্ডের যারা কর্মকর্তা আছেন, তারা ভালো বুঝবেন। যারা আসবে, আমি তার সঙ্গে কাজ করব। তিন ফরম্যাটে তিনজন কোচ আসবে কি না, আমি জানি না। যদি আসে, তা মানিয়েও আমাদের খেলতে হবে। এটা তো আমি বদলাতে পারব না।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গে কারস্টেন কথা বলেছেন। আপনার সঙ্গে কী কথা হয়েছে?

সৌম্য: তেমন কিছু নয়। আমার বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন। জানতে চেয়েছেন বিভিন্ন বিষয়ে আমার মতামত কী, আমি কীভাবে খেলতে পছন্দ করি। কেমন জায়গায় খেলি এসব আরকি।

প্রশ্ন: তিন বছর ধরে জাতীয় দলে খেলছেন। এখনো সেভাবে ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিতে পারেননি। এই বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

সৌম্য: সবাই চায় ভালো করার জন্য। প্রতিদিনই তো ভালো করা যায় না। প্রতিদিন ভালো করলে চাওয়া-পাওয়ার শক্তিটা কমে যায়। যেহেতু খারাপ সময় দিয়ে যাচ্ছি, ওখান থেকে কতটা কঠোর পরিশ্রম করে আগাতে পারি, ওটাই চিন্তা করি। আমি চেষ্টা করি আমার জায়গায় থেকে ভালো খেলার। ভালো খেলারই চেষ্টা করি। তার মধ্যে খারাপ-ভালো মিলিয়ে হয়ে যায়।

প্রশ্ন: আফগানিস্তান সিরিজ নিয়ে কী পরিকল্পনা?

সৌম্য: তিনটা খেলা আছে। সবারই একটা লক্ষ্য থাকে ভালো খেলার। আমারও একটা লক্ষ্য আছে।

প্রশ্ন: এই সিরিজে নিজেকে কীভাবে দেখতে চান?

সৌম্য: নিজের কাছে একটা চাওয়া থাকে যে, খেলার শুরু থেকে এ রকম খেলব, শুরুটা ভালো হলে লক্ষ্যটা সহজ হয়ে যায়। শুরুটা ভালো করার চেষ্টা করি সবসময়। যদি ছোট পরিকল্পনা করি, তাহলে তো সফল হওয়ার চান্স কম। অবশ্যই বড় পরিকল্পনা থাকে। যখন পরিকল্পনামতো খেলতে পারি, নিজের ভেতর খুশি হই যে, চাওয়া মতো খেলতে পেরেছি।

প্রশ্ন: নিদাহাস ট্রফি ভালো যায়নি আপনার। পাঁচ ম্যাচে ৫০ রান করেছেন। এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনা হয়। এই ব্যাপারটি তাড়িয়ে ফেরে কি না?

সৌম্য: শেষ কয়েক ম্যাচ তো ভালো করিনি। নিজের কাছে তাগিদ থাকে ভালো করার। তারপর মানুষের কথা শুনলে মনে হয় আসলেই খারাপ খেলছি। যত কথা শুনি, তত মনে পড়ে। চেষ্টা করি এসব না শুনে অনুশীলনে জোর দিতে। সূত্র: প্রিয়.কম

সর্বাধিক পঠিত