প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লঞ্চের কেবিনের জন্য আবেদন শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের জন্য ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে চলাচলকারী বেসরকারি লঞ্চের কেবিনের জন্য আবেদন শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন গ্রহণ করা হবে ১ জুন পর্যন্ত। আবেদন স্ব-স্ব লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে জমা দিতে হবে। যেসব লঞ্চের মালিক বরিশালের, তাদের বরিশালের কাউন্টারে আবেদন জমা দিতে হবে। কারণ ঢাকায় তাদের কাউন্টার নেই। ঢাকা থেকে আবেদন করতে হলে লঞ্চে আবেদন জমা দেওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

আর অন্য লঞ্চগুলোর টিকিট বরিশাল, ঢাকা এনমকি লঞ্চ থেকেও আবেদন করা যাবে বলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে কবে নাগাদ টিকিট বিক্রি শুরু হবে, তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। এ ছাড়া কিছু লঞ্চ আবেদন ছাড়াই কেবিনের টিকিট সরাসরি বিক্রি করবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে আবেদন শুরু করেছে ক্রিসেন্ট শিপিং কম্পানির লঞ্চ সুরভী। তারা আবেদন গ্রহণ করবে ২৭ মে পর্যন্ত। আগামী ১০ থেকে ১৫ রমজান পর্যন্ত সুন্দরবন ও প্রাইম নেভিগেশনের লঞ্চ এমভি সুন্দরবন লঞ্চের কেবিনের আবেদন গ্রহণ করা হবে। এর বাইরে এ রুটে চলাচলকারী লঞ্চ কীর্তনখোলা, পারাবাত, টিপু, কালাম খান, দ্বীপরাজ, ফারহানসহ অন্য লঞ্চগুলোর টিকিট সরাসরি কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে। এতে ওই সব লঞ্চের টিকিট কালোবাজারিদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছে সাধারণ যাত্রীরা।

ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটের নিয়মিত যাত্রী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ঈদুল ফিতর ও কোরবানির ঈদের সময় কিছু লঞ্চ মালিক কেবিনে আবেদনের নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। আর কিছু লঞ্চ আবেদন গ্রহণ না করেই সরাসরি টিকিট বিক্রির নামে প্রায় সব টিকিট কালোবাজারিদের হাতে উঠিয়ে দেয়।

অন্য যাত্রী কামাল হোসেন বলেন, গত দুই বছর সুরভী লঞ্চ কম্পানি অনলাইন টিকিট বুকিং নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে চলেছে। ঈদুল ফিতর ও কোরবানির সময় সাধারণ যাত্রীরা অনলাইনেও টিকিট পাচ্ছে না আবার কাউন্টারে আবেদন করে টিকিট পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। অথচ ওই লঞ্চের টিকিটই কালোবাজারিদের কাছ থেকে সাধারণ যাত্রীদের উচ্চমূল্যে কিনে নিতে হয়।

সুন্দরবন নেভিগেশনের পরিচালক আকিদুল ইসলাম আকেজ জানান, আগামী ১০ থেকে ১৫ রমজান পর্যন্ত কেবিনের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে। ৫ জুন থেকে যাত্রীদের মধ্যে টিকিট বিতরণ শুরু করা হবে। কেবিনের টিকিট কলোবাজারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতিবছরই ঈদুল ফিতর ও কোরবানির ঈদের সময় যাত্রীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করা হয়। পরে সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে লটারির মাধ্যমে যাত্রীদের মধ্যে টিকিট বিতরণ করা হয়ে থাকে।

সুরভী লঞ্চের বরিশাল কাউন্টারের টিকিট বুকিং ইনচার্জ নাইমুল ইসলাম জানান, ঈদে ঢাকা ও বরিশাল থেকে আসা ও যাওয়ার কেবিনের টিকিটের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে টিকিট কবে বিতরণ করা হবে, তা নির্ধারণ করা হয়নি। আবেদনকারী যারা টিকিট পাবে, তাদের মোবাইল ফোনে জানানো হবে। অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের বিষয়ে মালিকপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

পারাবাত লঞ্চের বরিশালের কাউন্টার ইনচার্জ মো. সেলিম আহমেদ জানান, তাঁদের লঞ্চে কেবিনের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে ঢাকা নৌ মন্ত্রণালয়, মালিক সমিতি ও বিআইডাব্লিউটিএর যৌথ সভার পর লঞ্চের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক নাজমুল হুদা মিঠু বলেন, লঞ্চের কেবিনের টিকিট কালোবাজারিদের হাতে যাতে না যায়, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের রয়েছে। এমনকি লঞ্চের চিহ্নত কালোবাজারিরা যাতে নৌবন্দর এলাকায় আসতে না পারে, সে ব্যবস্থা প্রতিবছরই গ্রহণ করা হয়। কয়েকটি লঞ্চের স্টাফদের সহযোগিতায় টিকিট কালোবাজারিদের হাতে চলে যায়। এগুলো রোধ করার জন্য সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত