প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘কত টাকা পেয়েছিস কোটা আন্দোলন করে?’

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘কিরে আন্দোলন তো ভালই করছিস, কত টাকা পেলি কোটা আন্দোলন করে? আয় তোকে আন্দোলন দেখাই।’ এসব বলেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা এপিএম সোহেলকে বেধড়ক মারধোর শুরু করে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০১ নাম্বার ওয়ার্ডের বেডে কাতরাতে কাতরাতে অস্পষ্ট স্বরে কাছে তার উপর চালানো হামলার ঘটনা তুলে ধরেন সোহেল।

তিনি বলেন, কোটা আন্দোলন নিয়ে আমাদের ক্যাম্পাসের (জবি) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার উপর ক্ষিপ্ত ছিল। আন্দোলনে যাতে না যাই এর জন্য তারা এর আগেও নানাভাবে আমার উপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিল।

বুধবার আমার পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা দিয়ে বিকাল তিনটার দিকে আমি বের হই। তখন থেকেই ছাত্রলীগের বাবুসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আমাকে অনুসরণ করছিল। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেট দিয়ে বের হয়ে রাস্তা পার হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে যেতেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার গতিরোধ করে। এ সময় আমার সাথে কয়েকজন বন্ধু ছিল। ওরা (হামলাকারীরা) আমাকে এসে বলে ‘তোমার সাথে একটু কথা আছে, সাইডে চলো।’ তখন আমার বন্ধুরা জিজ্ঞেস করে- ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?

প্রশ্নের জবাবে তারা বলে, ‘কোথাও না, ওর সাথে একটু কথা বলবো, তোমরা চলে যাও।’ এরপর ওরা আমাকে নিয়ে ক্যাম্পাসের টিএসসির পাশের গলিতে ঢুকে। সেখানে একটা জায়গায় আমাকে দাঁড় করিয়ে আশপাশে তাকিয়ে তারা সিসিটিভি ক্যামেরা দেখতে পায়। ক্যামেরা দেখে ১০-১২ জন ছাত্রলীগ কর্মীদের একজন বলে উঠ, এখানে দাঁড়াবো না ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা আছে। অন্য জায়গায় যাই। তখন তারা আমাকে বাংলাবাজার গার্লস স্কুল লাগোয়া সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের গলির ভেতর ঢোকায়। সেখানে দেয়ালের সাথে দাঁড় করিয়ে তারা আমাকে বলে, কিরে আন্দোলন তো ভালই করলি, কত টাকা পেয়েছিস কোটা আন্দোলন করে? আয় তোকে আন্দোলন শেখাই। তুই না সেলফি তুলতে পছন্দ করিস? তোর দাঁতগুলো তো অনেক সুন্দর। আয় এগুলো ভেঙে দিয়ে সেলফি তুলি। এটা বলেই তারা আমার নাকেমুখে কিল ঘুষি মারতে শুরু করে। এ সময় আমার নাকের নিচে ঠোঁটের উপরের অংশ ফেটে রক্ত পড়তে থাকে। আর কয়েকজন রড ও লাঠি দিয়ে আমার পায়ে ও পিঠে আঘাত করতে থাকে। পরে আমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে তারা চলে যায়।

সোহেলের শরীরের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন একটু ভাল আছি। নাকের নিচের অংশের বাইরের দিকে আটটি ও ভেতরের দিকে দুইটি, মোট দশটি সেলাই পড়েছে। পিঠ জুড়ে আর পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সারা শরীরে অনেক ব্যাথা।

হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে জানিয়ে সোহেল বলেন, বুধবার রাতে আমি নিজে বাদি হয়ে হামলার ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় মামলা করেছি। জড়িতদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোহেল। সে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহবায়ক।

বুধবার বিকালে তাকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের বাইরে থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।

ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘আহত সোহেল আমাদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক। বিকাল ৩টার দিকে তার উপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।’

নয়ন আরও জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণেই তার উপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। আমরা এ হামলা নিন্দা জানাচ্ছি এবং দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি করছি। সূত্র : পরিবর্তন.কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত