প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধামরাইয়ে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার বেহাল দশা-জনগণের দুর্ভোগ চরমে

মো. আল মামুন খান, ধামরাই: ধামরাই উপজেলার সড়ক জনপদ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট ও সড়ক ভগ্ন দশায় পতিত হয়েছে। এ কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারন করছে। সরেজমিন এ সমস্ত রাস্তা-ঘাট ঘুরে পরিদর্শন কালে এমন দুর্ভোগ আর ভোগান্তির চিত্র চোখে পড়ে। রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে গর্ত হওয়ায় যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। জনসাধারণও রাস্তা দিয়ে পায়ে হাঁটতে পারছে না। উপজেলার অধিকাংশ সড়কের রাস্তা ভেঙ্গে বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়াও রাস্তাগুলি একদম চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটু পানি জমে থাকে।

আসছে বর্ষা। আর বর্ষায় বৃষ্টিপাতে রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা কোনো নতুন বিষয় নয়। এবারের বর্ষায়ও রাস্তা-ঘাটের দুর্দশার পুরনো চিত্রের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না এটা আগে থেকেই বলা যায়। ধামরাইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ঢাকা আরিচা মহাসড়কের বাইপাশ সড়ক সাটুরিয়া-টু বালিয়া। এই সড়কটি শোচনীয় অবস্থায় উপনীত হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে কর্দমাক্ত হয়ে যানবাহন ও পথচারিদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনিতেই একটু বৃষ্টিতে অনেক রাস্তা তলিয়ে যায়। এর মধ্য দিয়েই যানবাহন চলাচল করায় সড়কের বিটুমিন উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

ধামরাইয়ের স্থানীয় সাংসদ ইতোপূর্বে ৯০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। সেই প্রকল্পের ভিতরে উপজেলার রাস্তার উন্নয়ন থাকলেও সেইভাবে কাজ হয়েছে কিনা এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। তবে যুগের পর যুগ দোষারোপের এই অপসংস্কৃতি চললেও এ থেকে বের হয়ে আসার বিষয়টি অমীমাসিংতই থেকে যাচ্ছে।

বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, সড়ক উন্নয়নের কাজ মাঝে মাঝে জোড়াতালি দিয়ে হচ্ছে ঠিকই, তবে সেগুলো টেকসই হচ্ছে না। আর জনগণের অর্থে নির্মিত সড়ক দিয়ে যদি জনগণই চলতে না পারে, তবে এর চেয়ে দুঃখের আর কিছু হতে পারে না। জনগণের অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলাবন্ধ না হলে এমটাই আজীবন থাকবে বলে মনে করেন ভূক্তভোগীরা।

নির্মাণের পরপরই একটি রাস্তা ভগ্ন দশায় পরিণত হবে কেনো? তাই এসব ক্ষেত্রে রাস্তা নির্মানে কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় অধিবাসী এই প্রতিবেদককে জানান, ‘রাস্তাটির ঠিকাদার আমাদেরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন অন্যান্য ঠিকাদারের তুলনায় নাকি তাঁর কাজ উত্তম। এখন বোঝা যাচ্ছে, তিনি আমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছেন।’

এ ব্যাপারে ঠিকাদারের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে এই রাস্তার করুণ দশার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমাদের রাস্তাগুলির সংস্কারের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এই বর্ষার পর পরই পর্যায়ক্রমে সকল ভগ্ন রাস্তাগুলির কাজে হাত দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, সাটুরিয়া-টু বালিয়া- এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ লোকের যাতায়াত আছে কিন্ত কোন সংস্কার বা মেরামত নেই। অথচ রাজনীতিবিদদের কথায় উঠে আসে, উন্নয়নে ভাসছে ধামরাই!

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত