প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রযুক্তি নিয়ে যতো কথা

স্পাের্টস ডেস্ক : অন্য যেকোনো বিশ্বকাপের চেয়ে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে বেশি দেখা যাবে প্রযুক্তির ব্যবহার। দেখা যাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সিস্টেম। ফুটবলের আইন যারা তৈরি করে, সেই ‘ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড বা আইএফএবি’র ভোটে এ প্রযুক্তি আগেই অনুমোদন পেয়েছে। থাকবে আরও চমকপ্রদ সব প্রযুক্তির ব্যবহার।

ভিডিও রেফারি থাকছে
জার্মান-ইতালি ও ইংল্যান্ডের কিছু লিগ ম্যাচে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল। ভিডিও রেফারি বা ভিএআর অনুমোদন পাওয়ার পর ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘ভিএআর সিস্টেম ফুটবল ম্যাচের একটা অঙ্গ হয়ে গেল। আমরা এই পদ্ধতি নিয়ে খুব ইতিবাচক। কোচ-ফুটবলার, এমনকি সমর্থকদেরও আমরা বলছি, এ পদ্ধতি ব্যবহারের পর দারুণ ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে। অনেক বছর ধরেই আমরা এটি নিয়ে কাজ করেছি।’

রাশিয়া বিশ্বকাপে সেক্স নিয়ে যতো কথা

ভিএআরে মূলত চারটি বিষয় দেখা যাবে-
*গোল হয়েছে না হয়নি।
*পেনাল্টির সিদ্ধান্ত সঠিক না সঠিক নয়।
*সরাসরি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল কিনা।
*ভুল ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখানো হল কিনা।

আইএফবিএ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে ভিডিও রেফারি ব্যবহারের ফলাফল আছে। তারা বলছে, এখন পর্যন্ত ৮০৪টি ম্যাচে ভিডিও সহকারী রেফারি ব্যবহার করা হয়েছে। যারমধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত এসেছে ৯৮.৯ শতাংশ ক্ষেত্রে।

প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়েছে, প্রত্যেক ম্যাচে গড়ে পাঁচ কিংবা তার কমবার ভিডিও রেফারি ব্যবহৃত হয়েছে, এবং ৬৮.৮ শতাংশ ম্যাচে কোনো রিভিউ নেয়া হয়নি।

পদ্ধতিটি প্রথম প্রয়োগ হয় ২০১৬তে, ক্লাব বিশ্বকাপে। পরের বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ও কনফেডারেশনস কাপেও প্রয়োগ হয়। এবার তা দেখা যাবে রাশিয়া বিশ্বকাপে। এতে ফুটবলে অনেক স্বচ্ছতা আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

ল্যাম্পার্ডের কারণেই বিশ্বকাপে সব নতুন প্রযুক্তি!
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে বড় ধন্যবাদ পেতে পারেন ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। কেননা ২০১০ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তার বাতিল হওয়া এক গোলের কারণেই ফুটবলে আজ একের পর এক নতুন প্রযুক্তি আনা হচ্ছে।

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ফিফা সর্বপ্রথম গোললাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। গোললাইন প্রযুক্তির পেছনে মূল কারণই ছিল ২০১০ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ল্যাম্পার্ডের এক বাতিল হওয়া গোল। ওই বিশ্বকাপে রাউন্ড অব সিক্সটিনে মুখোমুখি হয় জার্মানি ও ইংল্যান্ড। ল্যাম্পার্ডের একটি শট বারে লেগে গোললাইন অতিক্রম করলেও রেফারি গোল না দিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন। যার কারণে ১-০তে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় সমতায় ফেরা হয়নি ইংলিশদের। ম্যাচে ইংল্যান্ড ৪-১এ হেরে বিদায় নেয় বিশ্বকাপ থেকে।

তখন তীব্র সমালোচনায় তোপের মুখে পড়ে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা। যে ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়ে নেয় তখনকার ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার। বিশ্বকাপের মত বড় আসরে এরকম ভুল ঠেকাতে তাই পরের বিশ্বকাপেই সংযোজন করা হয় গোল লাইন প্রযুক্তি।

জার্মানির বিপক্ষে ল্যাম্পার্ডের না দেয়া সেই গোল
খেলা চলার সময়ই ফুটবলারদের উপাত্ত পাবে দলগুলো
রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচে মাঠে প্রত্যেক ফুটবলারের এবং বলের অবস্থান বিশ্লেষণ করা ও সেটি দলগুলোকে দেয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৩২ দলের প্রতিটিকে দুটি করে হাতে বহনযোগ্য ট্যাব দেয়া হবে। ফিফা জানিয়েছে, একটি ট্যাব দিয়ে গ্যালারিতে বসা দলের বিশ্লেষকরা তাদের বিশ্লেষণ পাঠাবেন মাঠের ডাগআউটে। সেখানে আরেকটি ট্যাবে তা দেখতে পাবেন সহকারী কোচ।

দুটি অপটিক্যাল ট্র্যাকিং ক্যামেরা দিয়ে খেলোয়াড় ও বলের অবস্থানের উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে। উপাত্তের পাশাপাশি লাইভ ফুটেজও দেয়া হবে বিশ্লেষককে। একটি অ্যাপলিকেশনের মাধ্যমে বিশ্লেষক খেলোয়াড়দের উপাত্ত বিশ্লষণ করে সহকারী কোচকে পাঠাতে পারবেন।

প্রয়োজনে তিনি স্থিরচিত্র এবং ড্রয়িংও পাঠাতে পারবেন ডাগআউটে। একটি চ্যাট টুলের মাধ্যমে দু’পক্ষ বার্তা আদান-প্রদান করতে পারবেন। কথা বলতে পারবেন রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে। নতুন প্রযুক্তিতে পাওয়া উপাত্ত খেলা চলাকালে, বিরতিতে এবং খেলার পরে মূল্যায়ন করতে পারবেন কোচিং টিমের সদস্যরা।

ফিফার দাবি, প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলে প্রতিটি দলই ম্যাচ চলাকালীন নিজেদের টুকটাক ভুল-ত্রুটিগুলো শুধরে নেয়ার সুযোগ পাবে।

সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে ড্রোন ব্যবহার করবে রাশিয়া
ইউক্রেন এবং সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে যেসব উন্নত প্রযুক্তির পরীক্ষা করা হয়েছে, সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধে বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামগুলোর বাইরে সেসব ড্রোন প্রযুক্তি স্থাপন করবে রাশিয়া। যার সবই সামরিক প্রযুক্তি। সন্ত্রাসীরা যাতে মাঠে কোনো ধরনের হামলা বা বোমা ফেলতে না পারে, সেজন্যই এগুলো মোতায়েন করবে আয়োজক দেশটি।

সন্ত্রাসবিরোধী সমস্ত ড্রোন সরঞ্জাম বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। যেগুলো রাশিয়ান সেনাবাহিনী এবং তাদের গোপন বাহিনীর ব্যবহারের জন্য।

যেসব ড্রোন ব্যবহার হবে তাতে জিএসএম মোবাইল, জিপিএস ডিভাইস এবং স্যাটেলাইট সংযোগের সঙ্গে রেডিও-ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা আছে। পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের জন্য ড্রোনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থাও। এই ড্রোন বিমান হামলা ঠেকাতেও কাজে দেবে।

এমন ড্রোনই মোতায়েন হবে বিশ্বকাপ ভেন্যুতে
ফুটবলারদের উপর প্রযুক্তির প্রয়োগ
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলেছিল হন্ডুরাস। মধ্য আমেরিকার দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ ছিল, মাঠে অনুশীলন করার সময় ড্রোন উড়িয়ে হন্ডুরাসের অনুশীলনে তাদের কৌশল চুরি করার মতলব করেছিল অস্ট্রেলিয়া!

এবার বিশ্বকাপের মূলপর্বেও প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ফুটবল বিশ্বকাপে বিশ্বের সেরাটা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা এবং প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কখনো ব্যবহার করা হয়নি এমন প্রযুক্তির দিকে নজর রাখছে সকারুজরা।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া বিজ্ঞানের প্রধান ড. ক্রেইগ ডানকানের প্রধান খেলোয়াড়দের ক্লান্তি নিয়ন্ত্রণে একটি মিশন চালু করেছে আগেই এবং পাশাপাশি ব্যবহৃত একটি পদ্ধতির কথাও প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘গত তিনমাস ধরে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা পূরণে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা জানার জন্য একটি কৌশল নিয়ে কাজ করেছি। ভ্রমণ পরিচালনার সাথে আমাদের অভিজ্ঞতা ব্যাপক এবং আমাদের অধিকাংশ খেলোয়াড় যেহেতু ইউরোপ বা অন্য দেশের খেলে, তাই ফ্লাইটের সময় এবং সময় জোন পরিবর্তনটা যেন তাদের জন্য বিপদজনক না হয় তা ঠিক রাখতেই এই ব্যবস্থা।’

‘অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়া থেকে যাত্রা করার জন্য আমরা একটি ট্র্যাফিক কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করি যাতে তারা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় যে তারা প্রশিক্ষণের জন্য প্রস্তুত। আমরা প্রতি মিনিট মিনিটে খেলোয়াড়দের শারীরবৃত্তীয় অবস্থান নিরীক্ষণ করতে প্রযুক্তির ব্যবহার করি। এই প্রযুক্তি আন্তর্জাতিকভাবে আমরাই প্রথম ব্যবহার করি এবং আমাদের এমন তথ্য দেয়া-নেয়া আমাদের খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির পূর্বাভাসের দক্ষতা বাড়ায়’ যোগ করেন ডানকান।

ফক্স স্পোর্টসের বিশেষ প্রযুক্তির প্রস্তুতি
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ভিএআর প্রযুক্তির জন্য ৪৫০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার কথা ঘোষণা করেছিল মার্কিন সম্প্রাচার সংস্থা ফক্স। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের বাছাই থেকে বাদ পড়ায় অনেকেই সেই অর্থ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলছেন।

দুই বিশ্বকাপের জন্য পুরো অর্থ ফক্স গ্রুপ দেবে কিনা সেটা এখনো না জানা গেলেও রাশিয়া বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য স্পেশাল ব্যবস্থা করছে ফক্স স্পোর্টস। তারা মোট চারটি শো চালাবে। এজন্য তারা একটি বিশেষ স্টুডিও সাজিয়েছে। যেখানে অত্যাধুনিক গ্রাফিক্স সুবিধা থাকবে।

স্টুডিওতে থাকবে রোবটিক ক্যামেরাও। থাকবে ১৮০ ডিগ্রি ভিজুয়াল অ্যাঙ্গেল। এজন্য তারা ব্যবহার করবে ৩৭টি ক্যামেরা। ম্যাচ প্রচারের জন্য থাকবে হেলিকপ্টারের ব্যবহারও। বিশ্বকাপের বিভিন্ন ভেন্যুতে থাকবে ফক্স স্পোর্টের ৮০টি মাইক্রোফোন। চ্যানৈলআই অনলাইন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত