প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলায় নিহত ৮

জান্নাতুল ফেরদৌসী: পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে গোলাগুলিতে কুমিল্লা, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ৬ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে মাগুরায় বুধবার দিবাগত রাত ১টায় মাদক ব্যবসায়ী দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে আইয়ুব হোসেন ও মিজানুর রহমান কালু নামের ২ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয় পুলিশের ৫ সদস্য। তাদেরকে মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করছে পুলিশ। এনিয়ে ১০ দিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাত ১টায় কুমিল্লায় চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিণে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে বাবুল (৩৫) ও রাজিব (২৬)। বাবুলের ও রাজীবের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গভীর রাতে হাউসিং প্রজেক্টে দু’দল মাদক ব্যবসায়ী মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের টহল দল সেখানে যায়। গিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দু’জনকে দেখতে পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসে। তবে কর্তব্য চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে এলাকাবাসী তাদেরকে শনাক্ত করেন। নিহতদের বিরুদ্ধে থানায় ২০টির বেশি মাদকের মামলা রয়েছে।

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের মন্তলা গ্রামের ফটিক মিয়ার ছেলে মনির হোসেন (৩২)এবং একই উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের মাঝ গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে শাহ মিরান শামীম (৩০)। বৃহস্পতিবার (২৪ মে) ভোর রাতে ফুলগাজীর মুন্সীরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ জাম্মুড়া সড়কে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়,বৃহস্পতিবার ভোর রাতে গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে ফুলগাজী থানার পুলিশ জাম্মুড়া সড়কে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের ওপর গুলি ছোঁড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ ও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এতে অন্যরা পালিয়ে গেলেও মনির ও শামীম গুলিবিদ্ধ হন। এসময়ে ওসিসহ পুলিশের আট সদস্য আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ আহত মনির ও শামীমকে পুলিশ উদ্ধার করে ফেনীর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে সেলিম ওরফে ফেন্সি সেলিম (৩২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একনালা বন্দুক, একটি ছুরি, ৫ বোতল ফেন্সিডিল ও ৫শ’ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের ৬ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দক্ষিণ নিমাইকাসারী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, সেলিম এর আগেও পুলিশের এক কর্মকর্তাকে কুপিয়ে আহত করেছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং সে পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।

মাগুরায় মাদক ব্যবসার টাকা ভাগ করা নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ মে) ভোরে পুলিশ ওই দুই ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে।নিহত দুই জন হলেন মাগুরা নিজনান্দুয়ালী এলাকার আইয়ুব হোসেন (৫০) এবং ভায়না এলাকার মিজানুর রহমান কালু (৪৬)। মাগুরার বিভিন্ন থানায় আইউবের নামে ১৮টি এবং কালুর নামে ২১ টি মামলা রয়েছে।

মাগুরার সহকারী পুলিশ সুপার ছায়ের উদ্দীন জানান, মাদক ব্যবসায়ের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মাগুরার দুটি গ্রুপের মধ্যে শহরতলীর পারনান্দুয়লী হাউজিং এলাকায় বুধবার রাত ১টার দিকে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। ভোরে খবর পেয়ে মাগুরা পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েক রাউন্ড বন্দুকের গুলি ও ১শ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আমির খাঁ (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের বনগজ স্টিলসেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি নিহত আমির জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে নয়টি মাদক ও একটি হত্যাসহ মোট ১২টি মামলা রয়েছে আখাউড়া থানায়। এ ঘটনায় আখাউড়া থানা পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।

আখাউড়া থানার ওসি মোশাররফ হোসেন তরফদার জানান, রাতে মাদকবিরোধী অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আমির ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। কিন্তু সহযোগীদের গুলিতে মারা যান আমির। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, একটি কার্তুজ, একটি রামদা, দুটি বড় ছোরা, ১০ কেজি গাঁজা ও ৮ বোতল কফ সিরাপ উদ্ধার করে।

আইয়ুবের বিরুদ্ধে ১৮টি এবং কালুর বিরুদ্ধে ২১টি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এসব ঘটনায় মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি, জাগো নিউজ, বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ