প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিজান চৌধুরী জিতলেই ইতিহাস!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যা। বাংলাদেশ থেকে আগত সাংবাদিক বন্ধু হাছান মাহমুদ আগে থেকেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট ঠিক করে রেখেছিলেন পরিচয় করিয়ে দেবেন নতুন এক মানুষের সঙ্গে। জ্যামাইকাতে বসবাসকারী এই মিজান চৌধুরীই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশি প্রার্থী হতে চলেছেন। ডেমোক্রেটিক দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেস প্রাথমিক (প্রাইমারি) নির্বাচনে। আগামী ২৬ জুন এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ নির্বাচনে জয়ী হলে দ্বিতীয় ধাপে মিজান চৌধুরীকে আগামী ৮ নভেম্বর চূড়ান্ত পর্বে লড়তে হবে রিপাবলিকান প্রার্থীর সঙ্গে। চূড়ান্ত নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাঙালি কংগ্রেস সদস্য। নিউইয়র্ক শহরের কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-৫ আসন নামে পরিচিত আসন থেকে নির্বাচন করছেন মিজান চৌধুরী। এ আসনে বাংলাদেশিদেরই বসবাস বেশি। মূলত তাদের অংশগ্রহণের ওপরই নির্ভর করছে তার জয়-পরাজয়।

মিজান চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী আরেক বাংলাদেশি শেখ গালিব রহমানের মাধ্যমে। তার সঙ্গে আগে থেকেই জানাশোনা সাংবাদিক হাছানের। তরুণ গালিব আইটি বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে চাকরি করেন নিউইয়র্কে অবস্থানকারী গালিব।

মিজান চৌধুরীর অন্যতম নিবাচনী ক্যাম্পেইনারও তিনি।

মিজান চৌধুরীর সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায়। তবে গালিবের গাড়িতে নিউইয়র্কের অ্যাস্টরিয়ার টাইম টেলিভিশন অফিস থেকে তিনজন একসঙ্গে তার কাছে পৌঁছতে সবার রাত ৮টা বাজে। জ্যামাইকার ‘মিরচ’ রেস্টুরেন্টে একত্রিত হই সবাই। আড্ডায় উঠে আসে বাংলাদেশের কথা, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি ও বাঙালি অভিবাসীদের কথা। কথায় কথায় মিজান তার নিজের কথা জানান। এখানকার বাংলাদেশিদের অবস্থাও তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি কীভাবে এলেন, ভবিষ্যতে কী করবেন- এসব নিয়েও আলোচনা হয় ঘণ্টাখানেক। এ সময় মিজান চৌধুরীর নির্বাচনী ক্যাম্পেইন ম্যানেজার সোমা সৈয়দও তার পাশে ছিলেন।

২৬ জুন নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যে কংগ্রেসের প্রাথমিক (প্রাইমারি) বা প্রথম পর্বের নির্বাচন হবে। এ পর্বের জয়ী চূড়ান্ত হওয়ার পর ৮ নভেম্বর চূড়ান্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তখন ভোটাররা ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টির দু’জন প্রার্থী থেকে একজনকে বেছে নেবেন কংগ্রেসম্যান হিসেবে। এ নির্বাচনে মিজান চৌধুরী জিততে পারলে তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাঙালি কংগ্রেস প্রতিনিধি।

মিজান চৌধরী জানান, তিনি জয়ী হলেই সৃষ্টি হবে নতুন ইতিহাস। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে শুধু বাংলাদেশি কেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেও এ পর্যন্ত কোনো অভিবাসীর কংগ্রেস সদস্য হিসেবে নির্বাচনের রেকর্ড নেই। জয়ী হলে প্রথম কাজ কী হবে, জানতে চাইলে তিনি জানান, নিউইয়র্কে অনেক বাংলাদেশি অভিবাসী নানা সমস্যায় রয়েছেন। রাজনৈতিকভাবেও পিছিয়ে তারা। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ও অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে তিনি কাজ করবেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য মোট ৪৩৫ জন। প্রতি দুই বছর পর কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, সিনেট সদস্য ১০০ জন। ছয় বছর পরপর সিনেট নির্বাচন হয়।

কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে নিউইয়র্ক শহরে প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। তবে বলাই বাহুল্য, এই প্রচারকাজ বাংলাদেশের মতো নয়। সমর্থকরা অনেকটা নীরবেই এখানে প্রার্থীর প্রচারণা চালান। নির্বাচনী ক্যাম্পেইনার গালিব রহমান জানান, মিজান চৌধুরী নির্বাচিত হলে তরুণ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-৫ আসনে মিজান চৌধুরীসহ তিনজন প্রাইমারি নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। অন্য দু’জন হলেন- বর্তমান কংগ্রেস সদস্য গ্রেগরি মিক্স ও কার্ল অলিক। মি. গ্রেগরি ২০ বছর ধরে এ আসনের কংগ্রেস সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ কংগ্রেসম্যানকে হারানো মিজান চৌধুরীর পক্ষে খুব সহজ হবে না। যদিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী মিজান চৌধুরী।

নিউইর্য়ক শহরে কংগ্রেসের মোট ২৭টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ডেমোক্রেটিক দলের আসন ১৭টি। বাকি দশটি রিপাবলিকান দলের। কংগ্রেসনাল-৫ আসনটি বরাবরই ডেমোক্রেটদের দখলে। এ আসনে মোট ভোটার প্রায় তিন লাখ। এদের মধ্যে বাংলাদেশি ভোটার রয়েছেন ১২ হাজার। শ্বেতাঙ্গ ভোটার সংখ্যা মোট ভোটারের ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ। কালোদের ৩০ শতাংশ। বাকি অংশ এশিয়ার। কংগ্রেসের প্রাইমারি নির্বাচনে আমেরিকান ভোটাররা সাধারণত কম ভোট দেন। তবে চূড়ান্ত নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকে। মিজান চৌধুরী জানান, বাঙালি ভোটাররাই তার জয়ের নিয়ামক শক্তি। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এ এলাকায় দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীও অনেক। তারা সবাই ভোট দিলে জয় তার নিশ্চিত বলে দাবি করেন তিনি।

মিজান চৌধুরীর জন্ম মৌলভীবাজার জেলা সদরে, ১৯৭৩ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাসে স্নাতকোত্তর পাস করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ১৯৯৭ সালে। নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নর্থ ওয়েলথ হেলথের আইটি ম্যানেজার তিনি। পাশাপাশি ব্যবসায় নিযুক্ত মিজান জ্যামাইাকার ‘মিরচ’ রেস্টুরেন্টের মালিক। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত