প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোডম্যাপের ধারেকাছেও নেই ইসি

ডেস্ক রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ৭টি বিষয় নির্ধারণ করে গত বছর জুলাইয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে এ রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছিল। ঘোষিত রোডম্যাপে জনগণের প্রত্যাশার প্রতি গুরুত্ব রেখে সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার করেছিল সাংবিধানিক সংস্থাটি। তবে রোডম্যাপের ৪টি বিষয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারেনি ইসি। বাকি ৩টি কার্যক্রম সঠিক সময়ে শেষ হওয়ার বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে অনেকগুলো প্রশ্ন। একটা প্রশ্ন যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর যেন বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জিত হয় সেটা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের কর্তব্য। এজন্য তারা কিছু কাজ রোডম্যাপে চিহ্নিত করেছে। এগুলো তারা সময়মতো করতে না পারলে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করবে কীভাবে? এই অপারগতা তাদের অক্ষমতা কিনা? কি কারণে করতে পারছে না সেটা আমাদের বিস্মিত করছে এবং এর প্রভাব নিঃসন্দেহে আগামী সংসদ নির্বাচনে পড়বে। আমরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ইসির রোডম্যাপে উল্লিখিত বিষয়গুলো হচ্ছে- আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কার; নির্বাচনী প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ; সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুনঃনির্ধারণ; নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ; বিধি অনুসারে ভোটকেন্দ্র স্থাপন; নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ। একজন নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে আইন সংস্কার কমিটি গঠন করেছে ইসি। আইনি কাঠামো সংস্কারের খসড়া প্রস্তুত হলেও তা প্রণয়নের জন্য ব্যবস্থা নিতে পারেনি। অথচ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইন প্রণয়নের লক্ষ্য ছিল ইসির রোডম্যাপে। গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ করে এ উদ্দেশ্যে মতামতও গ্রহণ করে ইসি। ইসি সূত্রে জানা গেছে, মূলত আরপিও সংশোধন নিয়ে এক প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। বিশেষ করে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণায় অংশ নেয়ার ইস্যুতে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে দরকষাকষি চলছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বেশ কয়েকবার এই ইস্যুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে। আচরণবিধি সংশোধন ছাড়াও আইন সংস্কার কমিটি আরপিওতে প্রায় ২০-২৫টি সংশোধনীর বিষয়ে সুপারিশ করেছে। তবে সেগুলো এখন পর্যন্ত কমিশন সভায় চূড়ান্ত হয়নি। কমিশন সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করলে তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের পর সংসদে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় যাবে। রোডম্যাপের দ্বিতীয় বিষয়টিও অনেকটা দেরিতে হলেও সম্পন্ন করতে পেরেছে কমিশন। নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নারী সংগঠন এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপ করেছে ইসি। গত বছর জুলাই থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে এসব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তবে সংলাপের সুপারিশমালা ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তুত করার লক্ষ্য থাকলেও তা করতে পারেনি ইসি। সংলাপের সুপারিশমালা নিয়ে গত এপ্রিলে বই আকারে প্রকাশ করে কমিশন। যদিও সংলাপে আসা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ আমলে নেয়নি ইসি। রোডম্যাপের তৃতীয় বিষয়টি ছিল সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ। এই কাজেও কালক্ষেপণ করে সাংবিধানিক সংস্থাটি। গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সীমানা পুনঃনির্ধারণ শেষে গেজেট প্রকাশ করার লক্ষ্য থাকলেও তা করতে ইসি ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাপকহারে শুনানির পর গত ৩০শে এপ্রিল সীমানা পুনর্বিন্যাসের গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে সেখানেও হয়েছে ক্ষমতাসীনদের দেন- দরবার। আর অনেক রাজনৈতিক দলের পরামর্শ হয়েছে সীমানা পুনর্বিন্যাস ইস্যুতে। রোডম্যাপের চতুর্থ বিষয়টি ছিল ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং বিতরণ। এই ইস্যুতেও পিছিয়ে রয়েছে ইসি। রোডম্যাপ অনুযায়ী, জুন মাসের মধ্যে ৩০০ নির্বাচনী এলাকার জন্য ভোটার তালিকা মুদ্রণ, ছবিসহ ও ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি প্রণয়ন ও বিতরণের লক্ষ্য ছিল ইসির। বিষয়টি বাস্তবায়নের দায়িত্বে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা অনুশাখা ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। ইসি সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ভোটার তালিকার মুদ্রণ বা সিডি তৈরির কাজ শুরু করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিতরা। মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বিষয়টি। আর রোডম্যাপের পঞ্চম বিষয় ভোটকেন্দ্র স্থাপনে একই রকম অগ্রগতি। গত মার্চে মাঠ প্রশাসনকে ভোট কেন্দ্র স্থাপন, নির্ভুল ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুতকরণ এবং ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সম্পর্কে আস্থা সৃষ্টির জন্য বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এসব নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। রোডম্যাপের ষষ্ঠ বিষয় নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও ইসি ব্যর্থ হয়েছে। এই কাজের অংশ হিসেবে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন শর্তাদি প্রতিপালন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে ইসি। তবে অনেক দল সঠিকভাবে তথ্য দেয়নি। যেসব তথ্য ইসি পেয়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়নি। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তথ্য পর্যালোচনা করে নিবন্ধন বহাল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানুয়ারিতে গ্রহণ করার কথা থাকলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। আর গত অক্টোবরে নতুন রাজনৈতিক দলের আবেদন গ্রহণ করেছে ইসি। চলতি বছরের মার্চের মধ্যে নতুন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার থাকলেও তার করেনি। বরঞ্চ এই কাজে ইসি গড়িমসি করছে বলে আবেদনকারী দলগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রদানের জন্য ৫-৬টি দলের তালিকা করেছে ইসি। তবে তাদের আদৌ নিবন্ধন দেয়া হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। রোডম্যাপের সপ্তম বিষয় ছিল সুষ্ঠু নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ। আগামী জুন থেকে এই বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করবে বলে ইসির রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি। নির্বাচিত সংসদের মেয়াদ হয় এমপিরা শপথ নেয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৫ বছর। বর্তমান সংসদের মেয়াদপূর্ণ হবে ২০১৯ সালের ১৩ই জানুয়ারি। সেক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ১৩ই জানুয়ারির পূর্বের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষে আগামী ডিসেম্বরেই একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলছে সরকার। সূত্র : মানবজমনি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত