প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নথি জাল করে হাইকোর্ট থেকে ধর্ষণের আসামি জামিন

নথি জাল করে হাইকোর্ট থেকে ধর্ষণের আসামি জামিন

সাজিয়া আক্তার: একেতো ধর্ষণের মতো অপরাধ, তার উপর জালিয়াতি করে হাইকোর্র্ট থেকে জামিন। এমন কা- ঘটিয়েছেন বিল্লাল নামে গাজীপুরের এক ব্যক্তি। ২৪ এপ্রিল আত্মসমার্পণের পর ১৫ দিনের মাথায় হাইকোর্ট থেকে নথি জালিয়াতি করে জামিন নেন তিনি।

অস্বাভাবিক হওয়ায় বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন গাজীপুরের নারী ও শিশু আদালত। এরপর নথি পর্যালচনার করে দেখা যায় তা সবই জাল। এই ঘটনায় আসামির জামিন বাতিল করে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এবং তদবীরকারীকে তলব করেছে আদালত।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, সরাসরি এবিডেন্স থেকে বিচার করা কত সহজ সাধ্য সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। কোনো আলামত থাকছে না, প্রোপার এভিডেন্স কোর্টে আসে না।

ধর্ষণ মামলায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রতিবেদনে ঠিকমতো কিছু না পাওয়ায় খালাশ পেয়ে যায় বেশির ভাগ আসামী। প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্যের ১২ দিনের মাথায় মেডিকেল রিপোর্ট পাল্টে দিয়ে জামিন নিয়েছে এক আসামি, তাও আবার হাইকোর্ট থেকে।

২০১৭ সালে গাজীপুরে প্রতিবেশী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার ঘটনার মূল হোতা বিল্লালের বিরুদ্ধে। চলতি বছর ২৪ এপ্রিল সে মামলায় নি¤œ আদালতে আত্মসমার্পণ করে বিল্লাল, ঠাই হয় কারাগারে। গেল ৯ মে হাইকোর্ট থেকে পায় জামিন।

হাইকোর্টের সেই জামিন নামা দেখেই সন্দেহ জাগে গাজীপুর নারী ও শিশু আদালতের বিচারকের মনে। মাত্র ১৫ দিনেই ধর্ষণ মামলা আসামির জামিনের নজির নেই উল্লেখ করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্টদের জানান তিনি। পরে তারা পর্যালোচনা করে দেখেন জামিনের জন্য দাখিল করা সব নথি জাল।

ডেপুটি আ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল বলেন, জামিনের আবেদনের সাথে যে নথি প্রদান করা হয়েছে নথিগুলো সব নকল। কোর্ট এই সময় বুঝতে পারেনি। এই আদেশ যখন গাজীপুর যায় তখন তারা বুঝতে পারে এতো বড় ঘটনা এতো তাড়াতাড়ি কী করে জামিন পায়।

এই ঘটনায় জড়িত আইনজীবীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। সেই সাথে তার বিষয়ে সতর্ক করে সুপ্রিম কোর্টবারকে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি বলেছেন অভিযুক্ত হারুন-অর রশিদ যেসব ঠিকানা ব্যবহার করেছেন নথিতে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। তার ব্যবহার করা ফোন নম্বরটিও বন্ধ।

সূত্র: চ্যানেল ২৪ টেলিভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত