প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান; নিহত ৩৭, আটক ৩ হাজার

শিমুল চন্দ্র শীল : রাজধানীসহ দেশব্যাপী চলছে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান। চলতি মাসের শুরু থেকে মাদক নির্মূলে র‌্যাবের এই অভিযানে সহযোগী হিসেবে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে সাঁড়াশি এ অভিযান শুরু হয়। সরকার পক্ষ থেকে মাদক নির্মুলে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়। যত ক্ষমতাসীন হোক কিংবা সচিব, সাংসদ এমনকি সাংবাদিকও যদি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অভিযানের পটভূমি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমাম বলেন, এ বছর অন্তত তিনটি বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার কথা বলেছিলেন। তার ধারাবাহিকতাতেই এ অভিযান চলছে।

মাদকের সামাজিক ঝুঁকি বর্ণনা করে এইচ. টি. ইমাম আরো বলেন, মাদকপাচারের সাথে মানবপাচার এবং বেআইনি অস্ত্রের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। প্রথমে আসে মানবপাচার, মানবপাচারের হাত ধরে আসে মাদকপাচার এবং এই দুটিকে রক্ষা করার জন্য বেআইনি অস্ত্র আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন।’

তবে মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর প্রয়োগকৃত পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ। জাতীয় মানবাধীকার সংস্থা থেকে জানানো হয়েছে, এভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। আইনের শাসনকে তোয়াক্কা করে কোনো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ ধরণের হত্যাকান্ডে সভ্যতা, গণতন্ত্র কিংবা আইনের শাসন- কোনো কিছুরই বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে দন্ড দেওয়া, বিচার করা কিংবা হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

মূলত এভাবে অভিযানের কারণে মাদকদ্রব্যের চোরাকারবারি বা গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। তারা যাদের ব্যবহার করে তারাই আসামি হয়। বিচারের আওতার বাইরে থাকে মূল কারবারিরা।

আইনজীবীরা মনে করেন, মাদকের এই ভয়াবহতা রোধ করার জন্য এসংক্রান্ত আইন যুগোপযোগী করা দরকার। নতুন নতুন নামে মাদকদ্রব্য বিস্তার লাভ করছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লিগ্যাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (বিলিয়া) গবেষণা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় নয়। আবার সময়ের প্রয়োজনে এটা ঘটছে। আইনি দুর্বলতার কারণে মাদকদ্রব্য কারবারিদের বিচারের আওতায় আনা যাচ্ছে না। গ্রেপ্তারকৃতরাও সহজে জামিন পেয়ে যায়। এসব সমাধানে আইন যুগোপযোগী করতে হবে। পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতা রোধ করতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে।’ অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রভাবশালী অনেক মাদক কারবারি বিভিন্ন সময় ধরা পড়লেও আইনি ত্রুটি কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবে তদন্তে দুর্বলতার কারণে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। এমনকি মামলা থেকে খালাসও পায়। বারবার জামিন পাওয়ার পর প্রভাব খাটিয়ে তারা সাক্ষীদের আদালতে হাজির হওয়া থেকে বিরত রাখে অথবা তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে বাধা সৃষ্টি করে। এভাবে আসামিরা শেষ পর্যন্ত খালাস পেয়ে যায়। এসব কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দুরূহ হয়ে পড়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘বন্ধুকযুদ্ধ’ বেছে নিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতিক এ অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রথম ১৮ দিনে ৩ হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট এবং বিচারিক আদালতে ৬০০ জন মাদক বসায়ী ও মাদক ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মোট ৪৮৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযানের পুলিশ ও র‌্যাববের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে ৩৭ জন। তবে বেসরকারিভাবে মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে নিহতের সংখ্যা এর বেশিও হতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত