প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফরমালিন-কার্বাইড স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর না: ফুড সেফটি চেয়ারম্যান

আহমেদ জাফর: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ মাহফুজুল হক বলেছেন, ইথোফেন, ফরমালিন কার্বাইড যে নামে বলি না কেন এসব দিয়ে পাকানো ফলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না। কিন্তু বাজারে অভিযান চালিয়ে আমসহ যে ফল ধ্বংস করা হচ্ছে, এ বিষয় তাদের জানা-বোঝার ঘাটতির থাকতে পারে।

বুধবার (২৩ মে) রাজধানীর বিজ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আয়োজিত ‘মৌসুমী ফল পাকাতে বিভিন্ন রাসায়নিকের ব্যবহার ও জনস্বাস্থ্য’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।

ফুড সেফটি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে বাজারে যে আমগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে অপরিপক্ব এবং কার্বাইড ও ইথোফেন আর ফরমালিন, রাইপেন, (ক্যালসিয়াম কার্বাইড) দিয়ে পাকালে ফলে এর অবশিষ্টাংশ বা রেসিডিউ থাকে না। তাই তা ক্ষতিকর নয়। আবার নির্দিষ্ট মাত্রায় ইথোফেন ব্যবহার করে ফল পাকানো আইনে বৈধ নয়। সারা বিশ্বেও এভাবে ফল পাকানো হয়।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) অভিযানে আড়াই হাজার মণ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ৪০০ মণ আম ধ্বংস করেছে। অপরিপক্ব আম ক্ষতিকর নয়। ২০১৪ সালের আগে ফরমালিন মেশানোর অভিযোগেও প্রচুর আম ও অন্যান্য ফল ধ্বংস করা হয়েছিল।

তার পরে মানুষ ফল খাওয়া কমিয়ে দিয়েছিল। পরে দেখা যায়, যে যন্ত্র দিয়ে ফরমালিন পরীক্ষা করা হচ্ছে, তা বাতাসে ফরমালডিহাইড মাপার যন্ত্র। তিনটি সংস্থার পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে হাইকোর্ট সেই যন্ত্রটি ফল ও মাছে ফরমালিন পরীক্ষায় অকার্যকর ঘোষণা করেন।

গত কয়েক বছর যাবৎ অপরিপক্ব আম বাজারে আনা নিয়ন্ত্রণ করতে আমের বড় দুই অঞ্চল রাজশাহী ও সাতক্ষীরায় আম পাড়ার সময় বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। এবছর সাতক্ষীরায় ১৫ মে এবং রাজশাহীতে ২০ মে আম পাড়ার তারিখ ঘোষণা করে আমচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতি। এ নিয়ে প্রশাসনও তৎপর আছে। অভিযানে ধ্বংস করা বেশির ভাগ আমেই সাতক্ষীরার। কিন্তু সাতক্ষীরায় আম পাড়ার তারিখ ছিল ১৫ মে। আর এ দিনেই ঢাকায় অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, অপরিপক্ব আমে স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিক পাকা আমের চেয়ে কম থাকে। কিন্তু এটা ক্ষতিকর নয়। তাই এসব আম ধ্বংস করার কোনো মানে হয় না। তাছাড়া কিছু মিডিয়া নেতিবাচক খবরের কারণে মানুষ ভালো আমও খাওয়ার ক্ষেত্রেও দ্বিধাবোধ করে।

পরীক্ষা করে রেসিডিউ কতটুকু আছে, তা বের করা সম্ভব। পরীক্ষা না করে কোন ফল ক্ষতিকর, তা বলা যাবে না। তিনি বলেন, কার্বাইড দিয়ে পাকানো ফলের গায়ে আর্সেনিক ও ফসফরাস লেগে থাকতে পারে। এটা ক্ষতিকর উপাদান, কিন্তু আম ও কলা যেহেতু ছিলে খাওয়া হয়, সেহেতু ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত