Skip to main content

জেরুজালেমের ছবিতে নেই আল-আকসা, ক্ষমা চাইল যুক্তরাষ্ট্র

লিহান লিমা: জেরুজালেমের ছবি থেকে আল-আকসা মসজিদের অস্তিত্ব মুছে ফেলায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হল যুক্তরাষ্ট্র। টুইটারে প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রেডম্যান জেরুজালেমের একটি ছবির সামনে পোজ দিচ্ছেন। আশ্চর্যজনকভাবে সেই ছবিতে আল-আকসা মসজিদের কোন অস্তিত্ব নেই। মঙ্গলবার তেল আবিবের কাছাকাছি অবস্থিত ইসরায়েলি শহর বেনেই বারাক এ প্রতিবন্ধীদের সাহায্যকারী এনজিও ‘আছিয়া’ এর এক অনুষ্ঠানে ফ্রেডরিক জেরুজালেমের একটি ছবি হাতে পোজ দেন। আছিয়া পরে এই পোস্টারের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে জানায়, ‘এটি তাদেরই কিছু সদস্যের সংর্কীণ রাজনৈতিক চিন্তাধারার ফল।’ অন্যদিকে সদ্য তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে বলা হয়, ‘ফ্রেডরিক ছবি তোলার সময় ছবির বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না।’ দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ‘হেরেম আল শরিফ/টেম্পল মাউন্ট’ এর অস্তিত্বের প্রতি সমর্থন করে। ফ্রেডরিক এটি ভেবে বিব্রত হচ্ছেন যে তার সফরকে উদ্দেশ্যপ্রণদিতভাবে বিতর্কিত করা হয়েছে।’ মুসলিমরা বিশ্বাস করে ইসলামের এই তৃতীয় পবিত্র ধর্মীয় স্থান ‘হেরেম আল শরীফ’ থেকেই মুহম্মদ (স) স্বর্গে আরোহণ করেছিলেন। টুইটারে আলি আসগর নামে এক ব্যবহারকারী বলেন, ‘যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দেন তবে তারা পবিত্র হেরেম আল শরীফকে ধ্বংস করে ফেলবে।’ গাজার অধিবাসী মোহাম্মদ নাশওয়ান টুইটারে বলেন, ‘আরব নেতাদের যথাযথ প্রতিক্রিয়া নেই বলেই যুক্তরাষ্ট্রের মদদে এই সব অগ্রহণযোগ্য কাজ করা হচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনে আইনজীবি হিসেবে কর্মরত থাকা ফ্রেডম্যান অনেক আগ থেকেই দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনে সমর্থন দিয়ে আসছেন। এর আগে অনেকবার তিনি দখলদার ইসরায়েলের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। রোববার ফক্স নিউজে প্রকাশিত এক কলামে ফ্রেডরিক কিছু নিরপেক্ষ মার্কিন গণমাধ্যমে দোষারোপ করে বলেন, ‘তারা দূতাবাস স্থানান্তরের মত একটি অসাধারণ ঘটনাকে কলুষিত করে হামাসের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের এই দূতাবাস স্থানান্তর আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দার শিকার হয়। ওইদিন ফিলিস্তিনি প্রতিবাদকারীদের ওপর ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নারী, শিশু, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীসহ ১০০ জন নিহত হন। ইসরায়েলের ওই গণহত্যাকে সমর্থন জানিয়ে ফ্রেডরিক লিখেছিলেন, ‘যারা মারা গিয়েছে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ছিলোনা, তাদের মধ্যে বেশিরভাই হামাসের সন্ত্রাসী।’ আল জাজিরা

অন্যান্য সংবাদ