প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাতে মাঠে কলকাতা বিরুদ্ধে রাজস্থান লড়বে

স্পোর্টস ডেস্ক: ইডেনের সামনে যখন কলকাতা নাইট রাইডার্সের বাস এসে দাঁড়াল, তখন সন্ধে নামার উপক্রম। ঘন কালো মেঘ ও দু-এক পশলা বৃষ্টিতে মঙ্গলবার শেষ বিকেলের অবস্থা এমনই। চার দিকে ‘করব, লড়ব, জিতব রে’ লেখা বাস থেকে নেমে এলেন শিবম মাভি। ব্যস, তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ। আর কোনও ক্রিকেটারকে দেখা গেল না তাঁর সঙ্গে।

কোচেরা ও সাপোর্ট স্টাফদের কয়েক জন। শোনা যায়, মেঘের অবস্থা দেখে দলের অন্যরা বাসের কাছে এসেও নাকি ফিরে যান। আগের রাতে ‘ডেডপুল ২’-এর সুপার হিরোদের কা-কারখানা দেখে এতটাই তেতে গিয়েছিলেন আন্দ্রে রাসেলরা যে, স্যাঁতসেঁতে ইডেনে এসে বোধহয় তা ঠা-া করতে চাননি।
ইডেনের মাঠ তখন সাদা চাদরে ঢাকা। সে দিকে না তাকিয়ে জাক কালিস, হিথ স্ট্রিকরা মাভিকে নিয়ে গেলেন ইন্ডোরে। তরুণ পেসারকে নিয়ে পড়লেন। বুধবার এলিমিনেটরে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ইডেনে ফের দেখা যাবে মাভিকে? সম্ভাবনা তো আছেই। তাঁকে তৈরি করার এই বিশেষ ‘সেশন’ হয়তো সে জন্যই।
প্লে-অফ ম্যাচ। তাই ঘরের মাঠেও ‘হোম ম্যাচ’ নয় দীনেশ কার্তিকদের। উইকেট নিয়ে আবদারের উপায় নেই। বুধবার যে গতি ও বাউন্সের উইকেট দিয়েই ইডেন স্বাগত জানাবে দুই দলকে, সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তা জানিয়েই দিয়েছেন। তাই মাভিকে তৈরি রাখার এই চেষ্টা। যিনি প্রায়ই ১৪০ কিমি গতিতে বল ছোটাতে পারেন, গতি ও বাউন্সে ভরা উইকেটে তো তিনি অপরিহার্য।

হারলে আইপিএল থেকে বিদায়। জিতলে ইডেনেই ফের সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ। যেখানে পাওয়া যাবে ওয়াংখেড়ের ফাইনালের টিকিট। এমন ম্যাচে নামার আগের দিন মাঠের মুখ দেখতে পেলেন না অজিঙ্ক রাহানেরা! সন্ধেয় তাদের শিবিরে খোজ নিয়ে জানা গেল, ভরপুর অনুশীলনের পরিকল্পনা ছিল। সব ভেস্তে দিল আবহাওয়া। অবশ্য শনিবার জস বাটলার, বেন স্টোকসহীন রাজস্থান রয়্যালস বিরাট কোহালিদের বিরুদ্ধে যে ভাবে জেতে, সেই আত্মবিশ্বাসটাই এখন সবচেয়ে বড় সম্বল রাজস্থানের। উইকেটে গতি ও বাউন্স থাকলে জোফ্রা আর্চার, জয়দেব উনাদকটরাও যে ছেড়ে কথা বলবেন না, তা জানেন নাইটরা। তাই তারা চান, বুধবার আন্দ্রে রাসেলের বারুদে আগুন লাগুক।

মঙ্গলবার ইডেনে এসে কার্তিকদের ব্যাটিং গুরু সাইমন ক্যাটিচ সে কথাই বললেন, ‘‘চেন্নাইয়ে যে রকম শুরু করেছিল রাসেল, তেমন পারফরম্যান্স সব ম্যাচে পাইনি ঠিকই। তবে এটাও দেখতে হবে, চোটটা ওকে ভুগিয়েছে। তেমন রান না পেলেও গত ৩-৪ ম্যাচে ওর বোলিং যথেষ্ট কার্যকরী হয়ে উঠেছে। রাজস্থানের বিরুদ্ধেও (ইডেনে) তো আমাদের ও লড়াইয়ে ফিরিয়েছিল। রাসেল বড় ম্যাচের খেলোয়াড়। এ রকম ম্যাচে ওকে আমরা সেরা ফর্মেই চাইব।’’
মনে হল না যে, ক’দিন ধরে চলা উইকেট-চর্চায় পাত্তা দিচ্ছেন কার্তিকদের ব্যাটিং কোচ। বলেন, ‘‘খুব ভাল উইকেট। ব্যাটিংয়ের পক্ষে যেমন ভাল এই পিচ। রাজস্থানের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে আবার স্পিনাররা সাহায্য পেয়েছে। আমরা এখানে ক্রিকেটটা উপভোগ করেছি। ওদের মেন্টর শেন ওয়ার্ন নিশ্চয়ই চাইবে, এই উইকেটে বল ঘুরুক। তবে একটা আকর্ষনীয় ম্যাচ হতে চলেছে।’’

ইডেনে রাজস্থানের বিরুদ্ধে ৫-১-এ এগিয়ে কেকেআর। যদিও ক্যাটিচ মনে করেন, টি-টোয়েন্টি-তে ইতিহাস, ঘরের মাঠের সুবিধা তেমন প্রভাব ফেলে না। কিন্তু বুধবার ইডেনের ৬৫ হাজার দর্শক যখন কে..কে..আর, কে..কে..আর’ বলে একসঙ্গে চিৎকার শুরু করবেন, তখন রাসেলদের বুকে আগুন জ্বলবে না? হতেই পারে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত