প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লোক দেখানো দান সদকা কাম্য নয়: মাওলানা আবু তালহা

ওমর শাহ: ‘রমজান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য বড় নেয়ামত। এ রমজানকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোই মুমিনের দায়িত্ব। যে রমজান পেয়েও তাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি সেই দুর্ভাগা। এই মাসে আমাদের অন্যান্য আমলের পাশাপাশি দান সদকার মাধ্যমেও আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা চাই। তবে লোক দেখানো দান সদকা কাম্য নয়’ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে আমাদের নতুন সময়কে দান সদকার গুরুত্ব এভাবেই তুলে ধরেন কেরাণীগঞ্জের রোহিতপুর বোডিং মার্কেট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবু তালহা তারীফ।

তিনি দান সদকার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘এই মাসে একটি নফল ইবাদতের মূল্য অন্য মাসের একটি ফরজ ইবাদতের সমান। একটি ফরজ ইবাদত পালন করলে সত্তরটি ফরজ ইবাদতের সমান। রাসুল (স:) বলেন, রমজান মাসের একটি ফরজ ইবাদতের ফযিলত অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমতুল্য। আর এ মাসের একটি নফল ইবাদতের মূল্য অন্য মাসের একটি ফরজ ইবাদতের সমান’। (বায়হাকী শরীফ)

তবে এ দান সদকার সঠিক বণ্টন নিয়ে তিনি বলেন, ধনী নির্ধন নির্বিশেষে সবার উপর যাকাত ফরজ করা হয়নি। যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নয়টি শর্ত রয়েছে। ইসলামি ফেকাহবিদরা এসব শর্ত উল্লেখ করেছেন। দান সদকা পাওয়ার জন্য মুসলিম, জ্ঞানসম্পন্ন, স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, ঋণমুক্ত, নেসাবের মালিক, মালিকানায় এক বছর থাকা, সম্পদ মৌলিক প্রয়োজনীয় না হওয়া, সম্পদ প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে বর্ধন শীল হওয়া, যেমন পশু, স্বর্ণ, রোপ্য ইত্যাদি।

মাওলানা আবু তালহা তারীফ বলেন, তবে বর্তমানে দেখা যায় ধনী ব্যক্তি মাইকিং করে সকলকে একত্র করে কাপড়রের ওপর নিজের নাম লিখে কাপড় গরীবদের দান সদকা দিয়ে থাকে। সেই ধনী ব্যক্তির দান সদকা নেয়ার জন্য যাকাত আনার জন্য অনেক গরীব অসহায় মানুষ দীর্ঘ লাইনের মধ্যে দাঁড়িয়ে অনেক কষ্ট ক্লেশ করে মাত্র একটি কাপড় নিয়ে আসে। অনেকে আবার না পেয়ে শূন্য হাতে ফিরে আসে। দান সদকা এভাবে দেওয়া ঠিক নহে। নিজের দান নিজে গরীব আসহায় ব্যক্তির নিকট গিয়ে দেওয়া উত্তম। নিজের আত্মীয় যদি গরীব অসহায় হয়ে থাকে তাহলে তাদের দান সদকার টাক দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। আর দান প্রকাশ্য দেওয়ার চেয়ে গোপনে দেওয়া উত্তম। কেননা গোপনে দান কখনো নিজের মধ্যে অহংকার তৈরি হয়না। আর দানগ্রহীতা ব্যক্তির মনমানসিকতাও লোক দেখানো হয় না। পবিত্র কোরআনে প্রকাশ্য ও গোপনে উভয়ই দান করার কথা বলা হলেও কোরআনের অধিকাংশ জায়গায় গোপনে দান করার কথা বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা যদি প্রকাশ্য দান কর তাহলে তা ভালো আর যদি গোপনে কর এবং অভাবীকে দাও তাহলে তোমাদের জন্য আরো ভালো এজন্য তিনি আল্লাহ তোমাদের কিছু পাপ মোচন করবেন। (সূরা বাকারা: ২৭০-২৭১) সূত্র: দৈনিক আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত